মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যাঁদের হারালাম

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

সালাহউদ্দিন আহমদ : প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ জাতীয় অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমদ ১৯ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- সোশ্যাল আইডিয়াস অ্যান্ড সোশ্যাল চেঞ্জ ইন বেঙ্গল : ১৮১৮-১৮৩৫, বেঙ্গলি ন্যাশনালিজম অ্যান্ড দ্য এমারজেন্স অব বাংলাদেশ : অ্যান ইনট্রোডাকটরি আউটলাইন, হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ : রিফ্লেকশনস অন সোসাইটি পলিটিক্স অ্যান্ড কালচার অব সাউথ এশিয়া প্রভৃতি।

আবদুল মতিন : আব্দুল মতিন ৮ অক্টোবর প্রয়াত হন। ১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলায় আব্দুল মতিনের অবদান অন্যতম। সেকারণে তিনি ভাষামতিন হিসেবে পরিচিতি পান। সেবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কলাভবনের ওই জনসভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের। তাঁরই নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারা বাংলার জন্য আন্দোলনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তিনি মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান করে যান।

আবুল হোসেন : (১৫ আগস্ট ১৯২২-২৯ জুন ২০১৪) : রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের সান্নিধ্যধন্য বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক কবি আবুল হোসেন ২৯ জুন ইহলোক ত্যাগ করেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নব-বসন্তে’ (১৯৪০) তার স্বকীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

সরদার ফজলুল করিম (১ মে ১৯২৫-১৫ জুন ২০১৪) : বাংলাদেশের প্রখ্যাত দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক সরদার ফজলুল করিম গত ১৫ জুন পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে তিনি বিএ (অনার্স) ও এমএ উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি একুশ বছর বয়সে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে তাঁকে পাকিস্তান শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময়ই জেলে কাটাতে হয়েছে।

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (৩ ডিসেম্বর ১৯২৮-১১ জানুয়ারি ২০১৪) : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান গত ১১ জানুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে মারা যান। তিনি সাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি একাধারে গবেষক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও অভিধান প্রণেতা। ভাষা আন্দোলনেও তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। পরে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে আধুনিক ইতিহাসের ওপর বিএ সম্মান ও স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী (২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯২৮-১১ নবেম্বর ২০১৪) : সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সপ্রতিভ বিচরণ ছিল জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর। অনুবাদ করেছেন ইংরেজী সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অনেক বই। লিখেছেন প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী। পাঠকপ্রিয় হয়েছে তাঁর কবিতাও।

এখলাস উদ্দিন আহমদ (১৬ ডিসেম্বর ১৯৪০-২৪ ডিসেম্বর ২০১৪) : সাহিত্য-সংগঠক হিসেবেও এখলাস উদ্দিন আহমদ ছিলেন অসাধারণ। শিশুসাহিত্যের পত্রিকা ‘টাপুর টুপুর’ সম্পাদনা এবং চট্টগ্রামের বইঘর প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতে আধুনিকতা ও রুচিস্নিগ্ধতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধেও ছিল তাঁর সাহসী ভূমিকা।

এছাড়াও এ বছর বাংলাদেশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি গত ৩০ নবেম্বর আকস্মিকভাবে মারা যান। বাংলাদেশের অগণিত লেখকের বইয়ের অসাধারণ কিছু প্রচ্ছদও তিনি করেছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও অনুবাদক আবু শাহরিয়ার গত ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শেক্সপিয়ারের নাটক অনুবাদ করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ডিসেম্বরে প্রয়াত হন কথাসাহিত্যিক নয়ন রহমান ও কবি অরুণাভ সরকার। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংসদ সদস্য বেবী মওদুদও মারা যান এ বছর।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: