আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কথাসাহিত্য ২০১৪ ॥ বিবিধ অর্জনের বছর

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

আলোচনা শুরু করা যাক মননশীল রচনা নিয়ে। মননশীল রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সামাজিক আন্দোলন, ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা এবং বিভিন্ন দায়িত্বশীল কাজে যুক্ত থেকেও প্রতিদিনই লেখার টেবিলে বসেছেন তিনি। প্রতিবছর একাধিক প্রবন্ধগ্রন্থ উপহার দেন তিনি আমাদের। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, যতীন সরকার, আনিসুজ্জামান, মোরশেদ শফিউল হাসান, জাফর ওয়াজেদ, আহমাদ মাযহার, মজিদ মাহমুদ প্রমুখ মননশীল রচনায় নিয়োজিত ছিলেন সারা বছর। ড. মুনতাসীর মামুন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ঢাকা মহানগরের ইতিহাস নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবছরও। ১৯৭১-গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি তিনি। বিজয়ের মাসে প্রকাশিত ‘১৯৭১-গণহত্যা-নির্যাতন নির্ঘণ্ট গ্রন্থমালা’ শীর্ষক প্রকাশনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

যখন ২০১৪ শেষ হয়ে আসছে; দাঁত বসাতে শুরু করেছে শীত, ঠিক তেমন একটা সময়েই ফেসবুক ওয়ালে মেধাবী কথাশিল্পী জাকির তালুকদার ‘কার্ল মার্কস : মানুষটি কেমন ছিলেন’ গ্রন্থের প্রচ্ছদচিত্র পোস্ট করে জানতে চাইলেন, কেমন লাগছে প্রচ্ছদটি? এর আগে এফবি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন : মার্কস বেঁচে থাকতেই ইউরোপজুড়ে অনেক দল-উপদল তৈরি হয়েছিল মার্কসবাদের নামে। অর্থাৎ মার্কসের দর্শন নিয়ে তখনই নিজের নিজের মতো ব্যাখ্যা। তার জামাতা একবার খবর দিলেন যে, ফ্রান্সে নতুন একটি মার্কসবাদী গ্রুপ গঠিত হয়েছে। বিরক্ত মার্কস বললেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি মার্কসবাদী নই।

জাকির একা নন, অনেক লেখকই বছর শেষে জানাচ্ছেন তাঁদের প্রকাশিতব্য নতুন বইটির তথ্য।

ওয়াসি আহমেদের একটি কী দুটি গল্প আমরা পেয়েছি গোটা বছরে। তার মানে কি তিনি কথাসাহিত্যে অনিয়মিত। আসলে তা নয়। তিনি বহু মাস যাবত লিখে চলেছেন একটি উপন্যাস। বিষয় প্রাচীন সিলেট অঞ্চলের নানকার বিদ্রোহ। এজন্য পুরনো নথিপত্র ঘাঁটতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে দরকারি উপাদান সংগ্রহ করছেন। তেভাগা আন্দোলন নিয়ে সাহিত্যে নানামুখী কাজ হলেও নানকার বিদ্রোহ নিয়ে একটি মঞ্চনাটক ছাড়া বিশেষ কাজ হয়নি। তাই এ নিয়ে ওয়াসি আহমেদের উদ্যোগটি অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসটির একটি শর্ট ভার্সন তিনি প্রকাশ করেছেন ২০১৪ সালের একটি ঈদসংখ্যায়। প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রন্থটি প্রকাশের।

বলা দরকার, ২০১৪ সালকে বিদায় জানাতে গিয়ে পেছনের দিকে তাকিয়ে একটা মিশ্র ভাবনা আসে। এমনিতে লেখকরা থাকেন নেপথ্যে, আর প্রকৃত শিক্ষিত এবং সাহিত্যরসিকদের সীমিত বলয়ের ভেতরও একটি উৎকৃষ্ট প্রকাশনা সীমিত আলোড়নই জাগায়। সেটা নিয়ে ঠিক মাতামাতি হয় না। সেটা অবশ্য কাম্যও নয়। উন্নত সাহিত্য কাজ করে ভেতর-গভীরে, ছাপ ফেলে যায় দীর্ঘস্থায়ী। যদিও সাহিত্যচর্চা এখনও বেশিরভাগ লেখকের জন্যেই খ-কালীন প্রক্রিয়া; সেই সঙ্গে এটাও বলতে পারি যে, লেখালেখি কিছুটা মৌসুমভিত্তিকও বটে। একুশের বইমেলা ও রোজার ঈদÑ এই দুটি উপলক্ষকে সামনে রেখে লেখকদের সক্রিয়তায় বেগ সঞ্চার হয়। সৃজন-আবেগে লেখক নিত্য আলোড়িত হলেও ফসল তোলার জঙ্গমতা লক্ষণীয় ওই দুটি সময়েই। ২০১৪ সালে বইমেলায় কম বই বেরোয়নি। তবে যাঁরা বোদ্ধাপড়ুয়া তাঁরা জানেন ভাল বা গুরুত্বপূর্ণ নতুন বইয়ের তালিকা করতে গেলে অতখানি পুলকিত হওয়া যায় না। সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতিগ্রন্থ ‘তিন পয়সার জোছনা’ নানা কারণে উল্লেখযোগ্য। পঞ্চাশের দশকের ঢাকা শহরের সৃষ্টিশীল মানুষদের কথা রয়েছে গ্রন্থে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের উদ্যোগে আয়োজিত গণআদালতের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটিও মূল্যবান স্মৃতিচারণ। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ ‘সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থ প্রকাশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে রচিত হয়েছে প্রচুর সংবাদ ও অপসংবাদ। মিডিয়া সব সময়েই তাঁকে অনুসরণ করেছে। ‘সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু’ একটি ধারাবাহিক প্রকাশনা। এ বছর প্রকাশিত হয়েছে এটির প্রথম খ-। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান ছিল এ বছরের একটি সেরা প্রকাশনা। তিন খ-ে ভুক্তি ও উপভুক্তি মিলে অভিধানে দেড় লাখের মতো শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলা শব্দের অর্থান্তর, অর্থ সম্প্রসারণ বা সংকোচন প্রভৃতি চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত হয়েছে অভিধানটি।

বছরে কমপক্ষে দশ-পনেরোটি মানসম্পন্ন উপন্যাস পাওয়া কম কথা নয়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের নাম এখানে তুলে দেয়া হলো : গেরিলা ও বীরাঙ্গনাÑ সেলিনা হোসেন, আখলাকের ফিরে আসাÑ মঈনুল আহসান সাবের, কাজল নদীর জলেÑ আন্দালিব রাশদী, আমারও একটা প্রেমকাহিনী আছেÑ আনিসুল হক, রাশিয়ার মেয়েÑ বরেন চক্রবর্তী, লবণপানিÑ মোশাহিদা সুলতানা ঋতু। নির্বাচিত কিছু গল্পগ্রন্থের নাম উল্লেখ করা যাক: মায়াঘরÑ ইমদাদুল হক মিলন, অন্য এক গল্পকারের গল্প নিয়ে গল্পÑ শাহাদুজ্জামান, প্রেম-অপ্রেমের গল্পÑ আহমাদ মোস্তফা কামাল, ধৃতরাষ্ট্রের বালিকারাÑ অদিতি ফাল্গুনী, ইঁদুরÑকামাল রাহমান, নিশিরঙ্গিনীস্বকৃত নোমান।

বলাবাহুল্য সাহিত্যে নতুন উদ্দীপনা যোগ করছেন প্রধানত নতুন লেখকেরাই। এ বছর তাঁরা প্রেরণাও পেয়েছেন। এখনও পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতাই নতুন সৃষ্টির প্রথম প্রকাশপত্র। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এ বছরও পত্র-পত্রিকায় নতুন লেখকদের বিপুল উপস্থিতি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একইসঙ্গে লক্ষ্য করা গেছে একদা বহুলপ্রজ লেখক শওকত আলীর রচনার প্রায় অনুপস্থিতি। বর্ষীয়ান কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুনও শারীরিক সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও লিখেছেন কয়েকটি গল্প; তাঁর অনুলিখনকৃত জীবনী প্রকাশিত হয় একটি ঈদসংখ্যায়। এই গুণী লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে তাঁর পিতৃভূমিতে এবারও একক বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

গত বছরও অন্যত্র এ কথাগুলো বলেছিলাম। আবারও বলছি। আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করে থাকি একজন লেখক যখন জীবনসায়াহ্নে পৌঁছে যান, সাহিত্যভুবনে আর তেমন সক্রিয় থাকেন না, তখন তিনি যেন আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। পত্র-পত্রিকা তাঁদের এড়িয়ে চলে বা ভুলে যায়। অনুজ লেখকেরাও তাঁদের খোঁজ আর তেমন করে রাখেন না। এটা নির্মম ও অনুচিত। পত্রিকা কর্তৃপক্ষেরও কর্তব্য থাকে পাঠকের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র রক্ষায় ভূমিকা রাখা। আর অনুজ লেখকেরাও তাঁদের প্রাণিত ও উজ্জীবিত রাখায় উদ্যোগী হতে পারেন। শওকত আলী, বেলাল চৌধুরী আমাদের কথাসাহিত্যে মূল্যবান অবদান রেখেছেন, তাঁদের কাছে আমাদের ঋণ রয়েছে। সেই ঋণ শোধ হবার নয়, অন্তত সৌজন্যবোধটুকু তো আমরা প্রকাশ করতে পারি।

আমাদের সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক অনেক দিক দিয়েই ব্যতিক্রম। আশি ছুঁইছুঁই বয়সেও তাঁর নতুন লেখার ক্ষমতা তারুণ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী, ফিজিক্যাল ফিটনেস প্রশংসনীয়। ২০১৪ সালে উপন্যাস, নাটক, কবিতা, কাব্যনাটক এবং গদ্য রচনাÑ সবক্ষেত্রেই সৃষ্টিশীল ছিলেন তিনি। সৈয়দ শামসুল হকের জন্মদিনে টানা পঞ্চমবারের মতো তাঁর কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করে শুদ্ধস্বর। বছরের শেষ সপ্তাহে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বেশ কয়েকটি কাগজে তাঁকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন ছিল। জীবদ্দশাতে সাহিত্যিকদের প্রতি এ ধরনের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দৃষ্টান্ত খুব বেশি নেই। অগ্রগণ্য কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হকের নানা ধরনের লেখা প্রকাশিত হয়েছে সারা বছর। এমনকি একটি বিখ্যাত সংবাদপত্রের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষেও তিনি কলম ধরেন।

ষাটের বিশিষ্ট গল্পকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত থাকেন আমেরিকায়। বহু বছর পর বেরুল তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘শূন্য নভে ভ্রমি’। কবি শহীদ কাদরীকে নিয়েও তিনি বই লিখেছেন- শহীদ কাদরী : লেখা না লেখার গল্প। সাযযাদ কাদির লিখেছেন প্রচুর। ঈদসংখ্যা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পূজা সংখ্যায় তাঁর বেশ কিছু প্রবন্ধ/গল্প/উপন্যাস বেরিয়েছে।

এবারের বইমেলা ছিল হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর দ্বিতীয় মেলা। এই জনপ্রিয় লেখককে স্মরণ করে এবারও কিছু বই বের হয়েছে। এর বেশিরভাগই স্মৃতিচারণমূলক, কয়েকটি আলোচনাধর্মী। হুমায়ূন আহমেদের ১৯টি নাতিদীর্ঘ রচনার সংগ্রহ ‘লীলাবতীর মৃত্যু’ বেরুলে তা সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায় হুমায়ূনভক্তদের মধ্যে। ড. ফজলুল আলম গল্প-উপন্যাস লিখতে চান, কিন্তু পরিস্থিতির প্রয়োজনে প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক লেখাই তাঁকে বেশি লিখতে হয়। লিখেছেন ‘সংস্কৃতির শত্রুমিত্র’। এ বছর গল্পের পাশাপাশি তিনি আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খ-টিও অনেকখানি লিখেছেন। পূরবী বসুর প্রথম উপন্যাসটি এবারই বেরুল।

স্বদেশ রায় এ বছরও বাংলা-ইংরেজী মিলে লেখালেখি করেছেন। একাধিক দীর্ঘ কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। পা-ুলিপি প্রস্তুত করেছেন প্রকাশিত উপন্যাসগুলো নিয়ে। আগামী বইমেলায় প্রকাশিত হবে ‘স্বদেশ রায়ের সাতটি উপন্যাস’।

এ বছর গল্প-উপন্যাস রচনায় যাঁরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন তাঁদের ভেতরে আছেন সেলিনা হোসেন, হরিশংকর জলদাস, বুলবুল চৌধুরী, জাকির তালুকদার, ধ্রুব এষ, আন্দালিব রাশদীসহ কয়েকজন। বছরভরই লিখেছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, সালেহা চৌধুরী, মঞ্জু সরকার, সুশান্ত মজুমদার, নাসরীন জাহান, আনিসুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ইকবাল হাসানসহ কয়েক কথাসাহিত্যিক। অন্যান্য বছরের তুলনায় কম লিখেছেন রাহাত খান, রিজিয়া রহমান, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, রশীদ হায়দার, আবুবকর সিদ্দিক, ইমদাদুল হক মিলন, মামুন হুসাইন, সেজান মাহমুদ, মাসুদা ভাট্টি, মশিউল আলম প্রমুখ। এছাড়াও কথাসাহিত্য অঙ্গনে কম-বেশি অবদান রেখেছেন রেজাউর রহমান, বুলবন ওসমান, জাহানারা নওশীন, তাপস মজুমদার, মঈনুল আহসান সাবের, সৈয়দ ইকবাল, নূরুল করিম নাসিম, মহীবুল আজিজ, ইমতিয়ার শামীম, শিকোয়া নাজনীন, আকিমুন রহমান, ইরাজ আহমেদ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, হুমায়ূন মালিক, মোস্তফা কামাল, কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, রাখাল রাহা, নাসিমা আনিস, কাজল শাহনেওয়াজ, মোহিত কামাল, জুলফিয়া ইসলাম, রেজানুর রহমান, মিলু শামস, জিয়া হাশান, পারভীন সুলতানা, কাজী রাফি, আবু হেনা মোস্তফা এনাম, সুমন্ত আসলাম, মাসউদুল হক, আনোয়ারা আজাদ, মালেকা পারভীন, সাদ কামালী, মাহবুব রেজা, রাশেদ রহমান, মাহবুব আজীজ, বকুল আশরাফ, মনি হায়দার প্রমুখ। ফজল হাসান অনুবাদ করেছেন ম্যানবুকার বিজয়ীদের সেরা গল্প। কথাসাহিত্যের অনুবাদে সক্রিয় ছিলেন লুনা রুশদী, রফিকউম মুনির চৌধুরী, আলীম আজিজ প্রমুখ। তরুণ নবীন লেখকদের অনেকেই এ বছর বই বের করেছেন, বছরভর লিখেছেন। এ রকম কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত সংবাদ এখানে পত্রস্থ হলো। প্রশান্ত মৃধার বেরিয়েছে দুটো মিতায়তন উপন্যাসগ্রন্থ। ঈদসংখ্যায়ও একাধিক উপন্যাস বেরিয়েছে। নিয়মিত গল্প লিখেছেন জেসমিন মুন্নী। কাজী জহিরুল ইসলাম এ বছর গল্প রচনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আদনান সৈয়দের ‘জানা-অজানা রবার্ট ক্লাইভ’ প্রকাশিত হয়েছিল। এবার বেরুচ্ছে প্রবাসীদের বাস্তব জীবনকাহিনী উপজীব্য করে লেখা বই ‘আমেরিকানামা’। উপন্যাস বেরিয়েছে শাহনাজ মুন্নীর। গল্প লিখেছেন বেশ কিছু ঈদসংখ্যায়। রাশিদা সুলতানা লিখে চলেছেন উপন্যাস- নানা সম্পর্ক, অবদমন, প্রেম-প্রত্যাখ্যান, নিঃসঙ্গতা, ক্ষমতার ব্যবহার, নিষ্ঠুরতা, ফ্যান্টাসি- এই সব মিলিয়েই তাঁর উপন্যাস। একাধিক উপন্যাস বেরিয়েছে সালাম সালেহউদদীনের, বেশকিছু গল্পও লিখেছেন। মুম রহমান গল্পের পাশাপাশি উপন্যাস লিখেছেন। কম লিখেছেন হামিদ কায়সার। মুজতবা আহমেদ মুরশেদ নানা ধরনের লেখালেখি করেছেন। মোয়াজ্জেম আজিম লিখেছেন গল্পগ্রন্থ।

উপসংহারে বলব, বিদায়ী বছরে দেশের পরিচিত বেশিরভাগ লেখকই পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বেশি সাহিত্যচর্চা করেছেন। তবে পরিমাণ নয়, মানই যে সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা তা না বললেও চলে। সভাসমিতি মঞ্চ ও মিছিলে লেখককে যেতে হলেও লেখার টেবিলেই লুকিয়ে আছে তাঁর প্রাণভোমরা। বাংলাদেশ বিদায়ী বছর ২০১৪ সালে দেখেছে আলোকশিখা অনির্বাণ রাখার সাধনাও করে গেছেন সাহিত্যিকেরা, এ কথা বলতেই হবে।

marufraihan71@gmail.com

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: