রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে দক্ষিণ পন্থার উত্থান

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

পৃথিবীর সর্বত্র এখন দক্ষিণপন্থা, ফ্যাসিবাদ ও বর্ণবাদের মতো ঘটনা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এ উদ্বেগ প্রকাশের অন্যতম কারণ। বর্তমানে আমেরিকা-ইউরোপ-ভারত-আরব প্রতিটি অঞ্চলে এমন উন্মাদনা। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বজুড়ে সহিষ্ণুতা ও বন্ধুত্ববাদের যে আবহ তা ক্রমেই উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জন্ম নিচ্ছে নব্য ফ্যাসিবাদ, মৌলবাদ ও সম্প্রসারণবাদের প্রক্রিয়া।

বিশ্লেষকদের অভিমত, স্যামুয়েল হান্টটিংটনের সেই সভ্যতার দ্বন্দ্ব তত্ত্বের প্রতিফলন ঘটছে বর্তমান বিশ্বে। রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র নয়, বরং আদর্শ ও ধর্মীয় মতাদর্শ মুখ্য হয়ে উঠছে এমন সংঘাতে। মূলত আধুনিক বিশ্বে নাইন ইলেভেন এমন ঘটনার সূত্রপাত, যার ফলে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নামের নতুন সেøাগান। ইরাক ও আফগানযুদ্ধ আরবজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার জন্ম দেয়। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় পশ্চিমাদের প্রতি আরবদের ব্যাপক ঘৃণা। আরব তরুণ জাগরণ সে ক্ষোভ ও ঘৃণার নামান্তর। মার্কিন মদদপুষ্ট পুতুল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ তখন আরব বসন্ত নামেই অভিহিত হয়। কিন্তু আরব বসন্ত কেবল আশা পূরণ করতেই ব্যর্থ হয়নি বরং গৃহবিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দেয় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। বর্তমানে অঞ্চলটির বেশ কিছু দেশ এখন ব্যর্থ রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে। লিবিয়া, ইরাক ও সিরিয়া তার উল্লেখ্যযোগ্য উদাহরণ। এসব অঞ্চলে আল-কায়েদা ও এই সংশ্লিষ্ট নতুন জঙ্গী গোষ্ঠী আইএস-এর উত্থান এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ।

আইএস, বোকো হারাম, আল-কায়েদার মতো সংগঠনের মূল লক্ষ্যবস্তু শিশু ও নারী। পাকিস্তানের পেশোয়ারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারকীয় তা-ব, আইএস জঙ্গী কর্তৃক সংখ্যালঘু ইয়াজিদি তরুণীদের ধর্ষণ ও বোকো হারামের তিন শ’ ছাত্রী অপহরণÑ এসব নারকীয় ঘটনার অন্যতম উদাহরণ। আইএস জঙ্গীরা কেবল অপহরণ ও ধর্ষণের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট নয় বরং সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের তারা নির্মমভাবে হত্যা করছে। পাশাপাশি দেশে-দেশে ধর্মীয় চরম পন্থার বীজ বুনে যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক যুদ্ধের মতোই রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসলামবিরোধী অবস্থান বেলজিয়াম, সুইডেন, জার্মান সর্বত্র এখন একই বিরোধিতাÑ একটি ফোবিয়া, ‘ইসলাম।]’

ইউরোপের জনগণের পাশাপাশি তাদের সরকারগুলো এ ফোরিয়ায় আসক্ত।

ফ্রান্স সরকার কর্তৃক বোরকা নিষিদ্ধ, বেলজিয়াম সরকার কর্তৃক মিনার নির্মাণ বন্ধ, সুইডেনে মসজিদে হামলা এবং জার্মানিতে মুসলিম অভিবাসনবিরোধী মিছিল এসব ঘটনার অন্যতম উদাহরণ। ইসলাম ফোবিয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার বিরোধিতা এখন ইউরোপের অন্যতম ট্রেন্ড।

রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলের পর এই প্রবণতা এখন ইউরোপের দেশে-দেশে। ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বাণিজ্য অবরোধ এবং সৈন্য সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো। যার প্রতিফলন ঘটছে কানগুলের জনগণের মানসপটে।

আমেরিকায় ফার্গুসনে মাইকেল ব্রাউনের হত্যা নতুন করে জন্ম দিয়েছে বর্ণবাদের। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হত্যার ঘটনা বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় প্রতিটি রাজ্যে।

সম্প্রতি পুলিশ দুজন অফিসার হত্যা এই ঘটনার নতুন সংযোজন। কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারদের সংঘর্ষ নতুন কী মাত্রা যোগ করে তা এখন দেখার বিষয়।

দক্ষিণপন্থার আবহ যখন সর্বত্র তখন ভারতও পিছিয়ে নেই এ দৌড়ে। গত বছর ভারতের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন উগ্র জাতীয়তাবাদী হিন্দু নেতা নরেন্দ্র মোদি। অতীতে যিনি গুজরাট হত্যাকা-ের জন্য দায়ী ছিলেন তার তখতে আসা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের মুখে নতুন কালিমা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান দেশজুড়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো ঘটনা মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন বেশ কিছু ঘটনার কারণে ভারতে লোকসভায় বিরোধী দলের সদস্যরা নরেন্দ্র মোদির ব্যখ্যা দাবি করেন।

যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজেও এসব ঘটনায় বিব্রত, কারণ জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো ঘটনার ফলে সংসদ অধিবেশনে বেশ কিছু বিল আটকা পড়েছে। কিন্তু থেমে নেই ধর্মান্তর, বজরং দলের মতো আরএস সদস্যরাও ঘরে ফিরিয়ে আনছেন ধর্মান্তরিত মানুষদের।

চলামান ডেস্ক

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: