মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বছরের আলোচিত তারুণ্য

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ওয়াসফিয়া নাজরিন

নিশাত মুজমদারের পর যে নারী এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করার গৌবর অর্জন করেছেন তিনি ওয়াসফিয়া নাজরিন। এ গৌরবের সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে সাত মহাদেশের ৬টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের অর্জন। এমন ইতিবাচক অর্জন নিয়েই তিনি ছিলেন ২০১৪-এর আলোচিত তারুণ্য হন। হন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘এ্যাডভেঞ্চার অব দি ইয়ার।’

ওয়াসফিয়ার ২০১২ সালের ২৬ মে বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। ২০০৬ সাল থেকে তাঁর পর্বতারোহণ শুরু। তাঁর উল্লেখযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্বতারোহণের মধ্যে ছিল আফ্রিকার কিলিমানজারো, দক্ষিণ আমেরিকার একানকোগোয়া প্রভৃতি। ঝুঁকিপূর্ণ ও আলোচিত এসব পর্বতারোহণের বিশ্বের বাছাইকৃত ৩৫০ জনের মধ্যে একজন ওয়াসফিয়া নাজরিন। পর্বতারোহণের মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল করেন। তাঁর এমন অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল জিওগ্রাফি কর্তৃক অর্জন করেন। ‘এ্যাডভেঞ্চার অব দি ইয়ার।’ সাম্মানিক এ অর্জন বাংলাদেশের নারী-পুরুষের মধ্যে এই প্রথম। ওয়াসফিয়া নাজরিন শুধু একজন পর্বতারোহীই নন। তাঁর রয়েছে আরও সম্মানজনক কাজে অংশগ্রহণ। তাঁর আরেকটি বড় পরিচয় তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। মানবাধিকারের ব্যাপারে তিনি সোচ্চার ও পরিচিত কণ্ঠ। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থায় যৌনজীবী ও শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন। তিব্বতে মানবাধিকার প্রশ্নে ও সে দেশের ধর্মীয় নেতা দালালাইমার সঙ্গে ছবি তোলায় একবার তিনি চীনে প্রবেশাধিকার হারান।

আসিফ আযিম

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পের মান নিয়ে ‘সন্তোষজনক’ কিছু বলার পরিবেশ সৃষ্টি না হলেও এ দেশেরই এক কৃতী মডেল আন্তর্জাতিক পরিম-লে নিজের স্থান উঁচুতে নিয়ে সাফল্যের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বহির্বিশ্বে দেশের বিজ্ঞাপন শিল্প সাফল্যের মুখ দেখাতে যখন আশাপ্রদ কিছু হচ্ছিল না তখন এই তরুণ মডেল দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বৈকি। এই মডেল আসিফ আযিম।

আসিফ আযিম স্বপ্ন দেখতেন মডেল হওয়ার। লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে ২০০২ সালে। ঢাকার একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে অংশ নেয়ার পর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক দেশীয় বিজ্ঞাপনী সংস্থা থেকে তার কাছে কাজের অফার আসতে থাকে।

একসময় কাজের তাগিতে ভারতে যান তিনি। বিজ্ঞাপন শিল্পের গুরুস্থানীয়দের নজর কাড়তে সমর্থ হন। কাজের সুযোগ ঘটে দেশের গ-ি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে। নিজের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন কাজের পরতে পরতে। স্পেন ও অস্ট্রোলিয়ায় নিজেকে তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন, ম্যাগাজিনগুলোয় তাঁকে নিয়ে হয় আলোচনা। খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাহচর্য পান। এই উপমহাদেশের ফিল্ম, ফ্যাশন ডিজাইন, বিজ্ঞাপনরে তীর্থভূমি মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোরেতে বাড়ে তাঁর কদর।

এ পর্যায়ের বাংলাদেশের এই কৃতী মডেলের সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেয় বলিউডের সিনেমায় অভিনয়ের। এ সম্ভাবনার দ্বারপান্তে দাঁড়িয়ে থাকা তারুণ্য ছিল ২০১৪ জুড়ে তরুণ-তরুণী, বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন জগতের সবার মুখে মুখে। আমরা তাঁর স্বপ্নের সাফল্য কামনা করি।

তাসকিন আহমেদ

ক্রিকেটে তাসকিন আহমদের অভিষেক খুব বেশি দিনের নয়। এরই মধ্যে দর্শক তো বটেই ক্রীড়া জগতেও ক্রীড়াবোদ্ধাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখছে ক্রিকেটাঙ্গন।

তাসকিনের ক্রিকেট জীবন শুরু কৈশোর থেকেই। বাবার পিটুনি খাবার পরও নিজের অদম্য ইচ্ছায় এগিয়ে যেতে থাকেন। সন্তানের কৃতিত্ব-সাফল্য দেখে পিতাই একদিন উৎসাহ-প্রেরণাদাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। হয়ে ওঠেন পেসার।

পেস বোলিং পরীক্ষায় ৬০০ জনের মধ্যে প্রথম ২০-এর মধ্যে স্থান করে নেন তিনি। ২০১০ সালে ফার্স্ট ডিভিশন ও অনুর্ধ ১৭-এ খেলে নিজের সামর্থ্য তুলে ধরেন। বোঝাতে সক্ষম হন তিনি নির্ভরশীল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লাল-সবুজ দলের হয়ে খেলে সবার নজরে আসেন। টি২০ বিশ্বকাপের বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলে নিজের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করেন এই সম্ভাবনাময় পেসার। জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য তাসকিন আহমেদ ২০১৪ সালে দর্শক ও ক্রীড়ামোদীদের কাছে ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ওয়ার্দা রিহাব

আইসিসি টি২০-২০১৪ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথা হয়ত অনেক দর্শকই এখনও ভুলে যাননি। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের এক নারীর মেধা-মননের স্বাক্ষর অনন্য হয়ে আছে। সেই নারী ওয়ার্দা রিহাব। মূলত তিনি নৃত্যশিল্পী। তাঁর কোরিওগ্রাফিতে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৯০ জন নৃত্যশিল্পী বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেন। দেশের সুনাম বয়ে আনেন তো বটেই, পাশাপাশি বাঙালী সংস্কৃতির অনুষঙ্গ ছড়িয়ে যায় বিশ্বব্যাপী। নন্দিত এ কোরিওগ্রাফি আন্তর্জাতিক কোন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংযোজন করলেন প্রথম কোন বাংলাদেশী নারী। এজন্য তিনি বছরের অন্যতম আলোচিত তারুণ্য হিসেবে সবার সপ্রশংস দৃষ্টি কাড়েন।

আইসিসি টি২০-এর ওই অনুষ্ঠানে যেসব গানের মাধ্যমে নৃত্য পরিবেশিত হয় সেগুলো হলো রুনা লায়লার কণ্ঠে গীত ‘সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী...’, সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘মাঝি নাও বাইয়া যাও...’, কুমার বিশ্বজিতের কণ্ঠে ‘একতারা বাজাইও না...’, মমতাজের গাওয়া গান ‘আমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিল গো মরার কোকিলে...’ প্রভৃতি। বাংলাদেশের রিকশা উপস্থাপন করে ব্যতিক্রম এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেন ওয়ার্দা রিহাব।

ঢাকার মেয়ে ওয়ার্দা রিহাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষে ভারতের রবীন্দ্র ভারতীতে নৃত্যে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। নাচের মাধ্যমেই মূলত বাঙালী সংস্কৃতিকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরেন এই গুণীশিল্পী। মণিপুরি নৃত্যকে মূল অবলম্বন করে এগোলেও বাংলার লোকনৃত্য, মিসরের লোকনৃত্য তানুরা, ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যেও তিনি পারঙ্গম। দেশী-বেদেশী অনকে পরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে তাঁর প্রাপ্তির ঝুলি সমৃদ্ধ। রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য ‘তাসের দেশ’-এর কোরিওগ্রাফি যুক্তরাজ্যের র‌্যাসেল ক্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেন। এসব নানা রকম ইতিবাচক অংশগ্রহণ ও অর্জনের মাধ্যমে ২০১৪-এ আলোচিত হন ওয়ার্দা রিহাব।

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪

৩০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: