আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জন্মশতবর্ষে শিল্পাচার্য

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

বাংলার চিত্রকলার পথিকৃৎ, শিল্পকলা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপকার এবং লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। আজ তাঁর জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হলো। শত শত বছর পরও যিনি স্মরিত হবেন, চিরায়ত মানবের মাঝে সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল, মানবতাবাদী, স্বদেশ প্রেমিক মানব হিসেবে বিরাজ করবেন। বাঙালী মুসলমানের দিব্যদৃষ্টি খুলে দিয়েছেন তিনি তাঁর চিত্রকর্মে। কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়, অসাম্য, বিবেকহীনতার প্রতি তীব্র ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। জন্মেছেন ব্রিটিশ-ভারতের এই বাংলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রথম মহাযুদ্ধকালে। আর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে মানবসৃষ্ট পঞ্চাশের মন্বন্তরের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলেন। ‘দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা’ এঁকে স্বদেশ-বিদেশে শিল্পী হিসেবে নিজস্ব আসন তৈরি করে নিতে পেরেছেন। বাংলার মানুষ ও প্রকৃতি ছিল তাঁর প্রেরণার উৎসমূলে। তারই পাশাপাশি তাঁর দেশাত্মবোধের মূল ভিত্তিতে এক এবং অভিন্ন দেশ-মাতৃকার উৎস ধারায় লালিত। দেশের মাটি ও মানুষ নিয়েই ছিল তাঁর জীবন ভাবনা। আর ৬২ বছরের কর্মময় জীবনের প্রথম অর্ধাংশ তিনি অতিবাহিত করেছেন নিজেকে গড়ে তুলতে ও আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ের সোপান অতিক্রম করতে। পূর্ববঙ্গের চিত্রকলার ধারা সৃষ্টিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঢাকা আর্ট কলেজ। তাঁর ছাত্ররা সবাই শিল্পী হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। এদেশের চিত্রকলার ইতিহাসে প্রধান পুরুষের আসনটি তাঁরই। তাঁর শৈল্পিক, রাজনৈতিক, সামাজিক চেতনা, সৌন্দর্যবোধ দিয়ে বহুমাত্রিক যে শিল্পভুবন নির্মাণ করে গেছেন, তা তাঁর উত্তর পুরুষের জন্য এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। বিষয়াঙ্গিকে এদেশের চিত্রকলার এক সমৃদ্ধ ভিত্তিভূমি তৈরি করেছেন, যে ভিত্তিভূমি থেকে জীবনরস সংগ্রহ করে বাংলাদেশের চিত্রকলা বিশ্বের কাছে মাথা তুলে দাঁড়াতে সমর্থ হয়েছে। তাই ‘শিল্পাচার্য’ উপাধিতে তিনি ভূষিত হয়েছেন।

জয়নুল আবেদিন প্রচুর চিত্রকর্ম সৃজন করেছেন। অনেক হারিয়ে গেছে। দেশে-বিদেশে সেসব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অযতেœ অনেক ছবি নষ্ট হয়ে গেছে। জাতীয় জাদুঘর তাঁর আট শ’ ছবি সংগ্রহ করেছে। প্রাপ্ত আড়াই হাজারের বেশি চিত্রকর্ম সম্পর্কে কোন তথ্য-উপাত্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণমূলক প্রকাশনা নেই। তাঁর চিত্রকর্মের মূল্যায়ন, কর্মজগত জীবন নিয়ে কোন উন্নতমানের রচনা ও প্রকাশনা মেলে না। যা মেলে তা খ-িত।

জন্মশতবর্ষে প্রত্যাশা থাকবে শিল্পাচার্যের হারিয়ে যাওয়া চিত্রগুলো উদ্ধার হবে, তাঁর চিত্রকর্মের ও কর্মপরিধিবিষয়ক গ্রন্থাদি প্রকাশ করা, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণসহ তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখা। আজ জন্মশতবর্ষে বাঙালীর অন্তঃপ্রাণ এই শিল্পীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

২৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: