কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আর্থিক প্রতিবেদনের আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করে অডিটরস প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কোম্পানির লাভ-লোকসান ও সম্পদের হিসাব নিরীক্ষা করে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ও স্বচ্ছভাবে (ট্রু এ্যান্ড ফেয়ার) আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত না করার অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের স্বাধীন মত দেয়ার সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা দেয়া হচ্ছে না। কোন কোন ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালকদের ফরমায়েসে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করছেন নিরীক্ষকরা। এসব কারণে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারছেন না। যদিও আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দিচ্ছে কমিশন। এতে প্রায়ই বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। বিএসইসিতে নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করতে পারবে না।

জানা গেছে, তাদের বাংলাদেশ চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অর্ডার, ১৯৭৩ অনুযায়ী কোন অংশীদারি ফার্ম, যাদের অন্তত দুজন অংশীদারি রয়েছে ও বিদেশী নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির যোগ্যতা অর্জন করবে। এক্ষেত্রে যাদের বিদেশী নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, সেসব নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত চারজন অংশীদারি থাকতে হবে। অন্তত দুজন অংশীদারির (বিদেশী নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে অথবা নেই) নিরীক্ষা কাজে ন্যূনতম সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া প্রতিজন অংশীদারির অধীনে যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন অন্তত আটজন নিরীক্ষাকর্মী থাকতে হবে।

এদিকে কোন সিকিউরিটিজ অথবা স্টক এক্সচেঞ্জ-সংক্রান্ত কোন অপরাধের দায়ে আদালত কর্তৃক দি ত হলে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএসইসিতে নিবন্ধের অযোগ্য হবে। এছাড়া সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭-এর ১২ বিধির ৩(বি) উপ-বিধি অনুযায়ী অযোগ্য ঘোষিত হলে, যে কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা কোন আইন দ্বারা স্থগিত থাকলেও কোন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধের অযোগ্য হবে। কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জরিমানা এবং জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বিএসইতে তালিকাভুক্তির যোগ্য হবে না সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোন কোম্পানির নিরীক্ষাকালীন সময়ে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কোন সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। এমনকি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, তাদের পোষ্য বা তাদের আত্মীয়রা নিরীক্ষাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার ধারণ করতে পারবেন না।

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

২৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: