রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিল্পী জয়নুল আবেদিন

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪
শিল্পী জয়নুল আবেদিন
  • কামরুল হাসান

১৯৩৬ সাল। কলকাতা জাদুঘরে সর্বভারতীয় চিত্র প্রদর্শনী চলছে। দর্শক, সমালোচক ও শিল্পরসিকদের গুঞ্জন শুরু হয়েছে বেশ। তাঁদের গুঞ্জনে মাঝে মাঝে অন্য সব পুরোনো শিল্পীর নামের সঙ্গে একটা নতুন নামও শোনা যেতে লাগল। শিল্পী জয়নুল আবেদিন। সেবারের ওয়াটার কালার বিভাগে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর ছবির বিষয়বস্তু ছিল ‘ব্রহ্মপুত্রের চরের একটি দৃশ্য।’ এত বাস্তব ও প্রাণবন্ত ছবি সেবারের প্রদর্শনীতে আর আসেনি। ওয়াটার কালারে আঁকা ছবিটি। রং বা পদ্ধতি নিয়ে ওস্তাদি বাড়াবাড়ি মোটেই তাতে ছিল না। কলকাতা আর্ট স্কুলের ফোর্থ ইয়ারে সবে উঠেছেন। সাধারণের মধ্যে এই তাঁর প্রথম আবির্ভাব।

কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে আঁকা তাঁর এই ব্রহ্মপুত্রের ছবিটি। মানুষ ঠিক যে সময়টিতে পায় তার প্রথম প্রথম অনুভূতির কাঁচা গন্ধ, প্রকৃতিকে সে এমন সময়েই নিজের করে দেখতে পায়। অনুভব করতে পারে তা প্রতিটি পরিবেশকে। প্রকৃতির সঙ্গে তার আত্মার পরিচয়ও ঘটে এই প্রথম। এই পরিচয় যে যত সহজভাবে করে নিতে পারে, তার পক্ষে দুনিয়ার বাস্তবের মধ্যে নেমে আসাও সহজ হয়ে ওঠে।

শিল্পী জয়নুলের ছবিতেও তাই আমরা যা দেখতে পাই তা হচ্ছে, সামান্য সরঞ্জাম নিয়েও সহজ ও সুন্দরভাবে বাস্তবতার মধ্যখানে নেমে আসার ওস্তাদি। শিল্পী জয়নুলের বাস্তবতার ওপর কিছু বলাই হচ্ছে আমার উদ্দেশ্য। তাই তাঁর বাস্তবতার সঠিক পরিচয় দিতে হলে কিছুটা সমালোচনার মধ্যে নেমে আসতে হয়। শিল্পী জয়নুল কলকাতা আর্ট স্কুলে প্রবেশ করার আগে এবং ছাত্রাবস্থায় যে পরিবেশ ও বাধাবিঘেœর চাপে পড়েছিলেন, তাতে তাঁর পক্ষে তথাকথিত কল্পনাপ্রবণ শিল্পী বা সাইনবোর্ড লেখকদের স্তরে নেমে আসা মোটেই বিচিত্র কিছু ছিল না।

সে যুগে আমরা দেখতে পাই, ভারতীয় শিল্পীদের মধ্যে একদল পুরোপুরি পাশ্চাত্য পদ্ধতি এবং রুচি নিয়ে তাঁদের শিল্প সৃষ্টির কাজে মশগুল। আরেক দল শিল্পী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ভাবপ্রবণতায় কেন্দ্রীভূত হয়ে তাঁদের শিল্প সৃষ্টির জন্য উঠেপড়ে লেগে গেছেন। আরও একটি উপদলকে আমরা ওই সময়ে দেখতে পাই। তাঁরা ইজমের মধ্যে পাক খেতে শুরু করেছেন। ওই তিনটি দলই তাদের বিশেষ বিশেষ সমর্থকের চাকেই পরিবেষ্টিত হয়েছিলেন। ঠিক আমাদের অর্থাৎ জনসাধারণের মধ্যখানে তাঁরা এগিয়ে আসতে পারেননি। অবশ্য তাঁদের মধ্যে কোনো কোনো শিল্পী যে চেষ্টা করেননি তাও নয়। কিন্তু তা সার্থক হয়নি। তার মূল কারণ, আমাদের দেশের মাটির সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ তাঁরা ঘটাতে পারেননি। তাঁরা অধিকাংশই যা করেছেন, তা অপরের কাছে শুনে; অনুভব করে নয়। তাই তাঁদের ছবি দেখলে মনে হয় যেন গ্রামের চাষিকে শহরে ডেকে এনে সস্তা দামের কোট-প্যান্ট পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু অস্বস্তিই বোধ করি। এ ধরনের আবহাওয়ার মধ্যখানে ছাত্রাবস্থা কাটিয়েও শিল্পী জয়নুল আজ যে আমাদের আপনারজনের শিল্পী হতে পেরেছেন, তা তাঁর ড্রইং, টেকনিক বা নিজের তৈরি করা সমর্থকদের সস্তা বাহবার জোরে নয়। তাঁর ড্রইংয়ের বলিষ্ঠতা, রঙের মিষ্টতা ও সাবলীল ছন্দÑএসব তো আছেই, তার ওপরেও যেটা আছে তা হচ্ছে, বাস্তবের সঙ্গে তাঁর আত্মার নিবিড়তা।

শিল্পী জয়নুলের সার্থকতার পেছনে যে জিনিসটা সব সময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তা হচ্ছে, বাস্তব অনুভূতি। তাঁর জীবনের প্রতিটি বাস্তব ঘটনাই তাঁর ছবির মূল বিষয়বস্তু। পল্লিবাংলার অতি সাধারণ ঘরের ছেলে শিল্পী জয়নুল। ছেলেবেলায় তাঁকে গ্রামের চাষিদের সঙ্গে মাঠে বসে ধান কাটতেও দেখা গেছে।১ ধান কাটতে কাটতে যখন চাষিদের পানি-পান্তা খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, তখনো জয়নুল সেখানে তাদের মধ্যখানে বসে। পানি-পান্তায় যোগ দিয়েছেন অন্তরের পুলকমিশ্রিত আবেদন নিয়েই। মাটির সঙ্গে কিশোর বয়সের এই যে মিলন, এর মধ্যে এতটুকুও কৃত্রিমতা ছিল না। কোনো মতলব বা প্ল্যান করে তিনি সেই চাষিদের মধ্যখানে গিয়ে বসেননি। পচা খানা-ডোবার পাড়েও তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন। পচা ডোবার কালো কুচকুচে পানির দিকে তাকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি কী যেন খুঁজে বেড়িয়েছেন। গ্রামের মেয়েরা ধান ভানছে, সেখানেও গেছেন তিনি। যেখানেই তিনি গেছেন, অকৃত্রিম দরদি মন নিয়ে গেছেন। বিভক্ত আত্মা নিয়ে তিনি কোথাও যাননি। প্রকৃতি-শিশুর এক আত্মা নিয়েই সব জায়গায় ঘোরাফেরা করেছেন।

তাই আজ তিনি শহরের স্কুলের মধ্যে বসে থাকলেও তাঁর প্রত্যেকটি ছবির মধ্যে আমরা যা দেখতে পাই তা হচ্ছে, তাঁর বাস্তব জীবনেরই অনুভূতি। বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর বাস্তবের এই অদ্ভুত সমন্বয়ের জন্যই সার্থক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে তাঁর ‘পানি-পান্তা’, ‘পচা ডোবা’,‘খেয়ার অপেক্ষায়,’ ‘রাখাল ছেলে,’ ‘দুমকার মাঠ’ ও পল্লির সব ছবি।

এতো গেল তাঁর বাল্যজীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্প সৃষ্টির কথা। এবার আরেক ধাপ এগিয়ে আসা যাক। মাঝখানে বেশ কিছুদিন তাঁর শিল্প সৃষ্টির উৎস খোলা থাকলেও আমাদের মনে তিনি আলোড়ন তুলতে পারেননি। এমন সময় ১৯৪৩ সাল এল তার মহামারির কালো বোরকা গায়ে দিয়ে। সারা বাংলার গ্রাম ভেঙে পড়ল কলকাতা শহরের বুকে। একমুঠো ভাত, এক কাতরা ফ্যান তাদের প্রার্থনা। তাও ভাগ্যে জুটছে না। হাজার হাজার সুখের সংসার কলকাতার রাস্তা, ডাস্টবিনের ধারে, কাক ও কুকুরের সঙ্গে এক হয়ে মিশে গেল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাশ পড়ে ছেলে-বুড়োর, কোনটা যে কার লাশ তা চেনার উপায় নেই। সবই কঙ্কাল। মানুষের বাস্তব জীবনে তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষের চাবুক যে ঘা দিয়েছিল, শিল্পী জয়নুলের বাস্তবানুভূতির ওপরও তার ব্যথা বেজে উঠেছিল। শিল্পী জয়নুল ঘুরে বেড়ান পথে পথে, মাঝেমধ্যে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে দেখেন মানুষের জীবনের এই বেদনাময় শেষ পরিণতি। তাঁর মুখে কোনো কথা কেউ শোনেনি সেদিন। আর্ট স্কুলে সারা দিন মাস্টারি করার পর বাড়ি ফেরেন তিনি। দেহে ক্লান্তি থাকলেও প্রাণের অনুভূতি তাঁকে চাঙা করে তোলে। কঙ্কালসার কালের এই স্বাক্ষর তাঁকে রেখে যেতে হবে।

শিল্পী জয়নুল তুলে নিলেন মাত্র দুই আনা দামের কাগজ। কবেকার একটি অবসরপ্রাপ্ত মোটা তুলি খাটের নিচ থেকে টেনে বের করলেন। তাকে আবার চালু করার জন্য শিলে একটু থেঁতলে নিলেন মাত্র। রঙের মধ্যে কেবল কালি। এরই মাধ্যমে শুরু হলো তাঁর সার্থক সৃষ্টি তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষের ছবি।

শিল্পী জয়নুলের বাস্তবতা এবার এমনভাবে আমাদের সামনে ধরা দিল, যা কোনো দিন মুছে যাওয়ার নয়। শিল্পজগতে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হলো। মাত্র দুই আনা দামের কাগজের ওপর সাবলীল ছন্দময় রেখা শিল্পী জয়নুল আবেদিনকে জনসাধারণের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরল কলকাতা থেকে শুরু করে সারা পৃথিবীর প্রদর্শনীতি। শিল্পী জয়নুলের ছবি দর্শক ও সমালোচকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

গত দুর্ভিক্ষের বিষয়বস্তু নিয়ে যেসব চিত্র প্রদর্শনী হয়েছিল সেগুলোকে যদি শিল্পীদের বাস্তবানুভূতির প্রদর্শনীই বলা হয়, তাহলে সেদিক দিয়ে শিল্পী জয়নুলই যে একমাত্র শ্রেষ্ঠ বাস্তব শিল্পী, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সারা ভারত উপমহাদেশে শিল্পী জয়নুলের দ্বিতীয় নমুনা আমাদের চোখে পড়েনি।

এবার যদি পেছনের দিকে যাই, তাহলে বাস্তব জীবনের শিল্পী হিসেবে যাঁদের আমাদের চোখে পড়ে, তাঁরা হচ্ছেন ভ্যান গগ, গয়া, সেজান-এঁরা। এঁদের সঙ্গে শিল্পী জয়নুলের তুলনা করাটা হয়তো অপ্রিয় ঠেকবে অনেকেরই কাছে, কিন্তু আজকের দিনে তা অস্বীকার করাও চলে না।

ভ্যান গগ, গয়া, সেজান-এঁরা এবং শিল্পী জয়নুল-এঁদের ছবির বিষয়বস্তু এক হলেও জনসাধারণের শিল্পী হিসেবে জয়নুল আবেদিনের সাধনা যতখানি সার্থক হয়েছে, ভ্যান গগ, গয়াদের তা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে যা দেখতে পাই তা হচ্ছে ভ্যান গগ, গয়া, সেজান-এঁদের ছবির বিষয়বস্তু অতিসাধারণের হলেও তাঁদের আঁকার পদ্ধতি এবং দৃষ্টিভঙ্গি সর্বসাধারণের বোঝার মতো সহজ বা সাবলীল নয়। তাই তাঁরা মূলত জনগণের শিল্পী হলেও দৃষ্টিভঙ্গি এবং পদ্ধতির এমন একটা সীমারেখার মধ্যে তাঁদের ছবিগুলো আটকা পড়ে গেছে, যার রস উপলব্ধি করতে পারেন একমাত্র ওস্তাদ শিল্পীরাই। অতি সাধারণ মানুষের বোধগম্যের বাইরেই থেকে যেতে হলো ভ্যানগগ, গয়া ও সেজানদের ছবিগুলোকে। কিন্ত আজকের দিনে আমরা কী চাই?

আমরা চাই শিল্পীর তুলির আঁচড়ের ভেতর দিয়ে আমাদেরই দেখতে। তাই ছবির বিষয়বস্তু যদি সাধারণ মানুষের জীবনকথা হয়, তবে যাদের জীবনের সুখ-দুঃখের কাহিনীকে কেন্দ্র করে এই ছবি, তাদের সামনে সেই ছবি তুলে ধরার জন্য শক্তিশালী চিন্তাধারার সঙ্গে সহজ পদ্ধতির সংমিশ্রণের ক্ষমতা যথেষ্টভাবে শিল্পীর মনে ও তুলিতে থাকা চাই। শিল্পী জয়নুল আবেদিনের মধ্যে এটাই আমরা দেখতে পাই।

প্রমাণস্বরূপ শিল্পী জয়নুলের কাকের ছবিটার কথা বলে যেতে পারে। কেবল একটা কাক, তা-ই দুর্ভিক্ষের সব বেদনাকে যেন সব দিক দিয়ে ব্যক্ত করেছে। মাত্র একটা কাকের ভেতর এত ভীষণ দুর্ভিক্ষকে আর কেউ এমনিবাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।

দুর্ভিক্ষের ছবি ছাড়াও আরেক দিকের ছবিতে শিল্পী জয়নুলের বাস্তবানুভূতির পরিচয় পাই ১৯৪৫ সালের আঁকা দুমকার পল্লিজীবনের ছবিগুলো থেকে। সেখানে সাঁওতালদের সহজ-সরল জীবনযাত্রার প্রত্যেকটি পটভূমিকা এত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে, যা অনেকের কাছেই অসম্ভব পেনসিল স্কেচ, পেন, ড্রাই ব্রাশ, ওয়াটার কালার ও অয়েল পেন্টিংÑপ্রত্যেকটি পদ্ধতিতেই তিনি এঁকেছেন দুমকার ছবিগুলো। দুমকার হাট, তালবীথি, ময়ূরাক্ষী নদীর বাঁক এবং সাঁওতাল পরিবারের এত ছবি তিনি এঁকেছেন চট করে, যার সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন। এই ছবিগুলোর দিকে চোখ দিলে শিল্পী জয়নুলের বাস্তবানুভূতির প্রতি আর কোনো সন্দেহই জাগে না।

বাস্তবের সঙ্গে অন্তরের এই অকৃত্রিম নিবিড়তাই আজ জয়নুলকে চরম সার্তকতার দিকে নিয়ে এসেছে।

‘বহ্মপুত্রের চরের আঁকাবাঁকা গতিকে আমি যদি মনেপ্রাণে অনুভব করতে না পারতাম, তাহলে আমার কোনো ছবিই এমন ছন্দময় হয়ে উঠত না।’ শিল্পী জয়নুলের স্বীকারোক্তি, যা দুর্ভিক্ষের ছবির বেলায়ও একইভাবে প্রযোজ্য।

‘দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ আমার নিজের জীবনে ঘটেছিল বলে আজকের এই অনাহারক্লিষ্ট মানুষকে এত গভীরভাবে আমি অনুভব করতে পারি।’ আবেদিনের এই স্বীকারোক্তির সঙ্গে ছবির এতটুকু গরমলি কোথাও নেই। শিল্পী জয়নুল শুধু ছবি এঁকেই তাঁর কর্তব্য শেষ করেননি। শিল্পী জয়নুলের প্রভাবও যে কত গভীরভাবে বিস্তার লাভ করেছে, তা তাঁর সংস্পর্শে যেসব তরুণ শিল্পী এসেছেন, তাঁদের ছবিগুলো দেখলে বেশ ধরা পড়ে। তাঁর ছাত্রদের কথা তো ছেড়েই দেওয়া গেল। এমনকি কোনো কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীও তাঁর প্রভাবমুক্ত হতে পারেননি। যদিও এ বিষয়ে তাঁদের স্বীকৃতি নেই। কিন্তু তাঁদের ছবির বিষয়বস্তু নির্বাচন, ড্রইং ও পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সবটাই আমাদের চোখে পড়ে।

সূত্র : বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন

ও আমার কথা

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

২৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: