আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শীত ফড়িং

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • মোকাদ্দেস আলী রাব্বী

লাবিব জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে। ওর মনটা খুব খারাপ। কিছুক্ষণ আগে ওর আম্মু বকা দিয়েছে। বড় আপু শ্যামলির সঙ্গে ফড়িং নিয়ে ঝগড়া করেছে। তাই আম্মু বকা দিয়েছে। বকা খেয়ে মন খারাপ করে ঘরে দরজা লাগিয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ও। লাবিবের খুব মন খারাপ হলে সে দৌড়ে এস জানালার পাশে দাঁড়ায় আর আকাশ দেখে। বরাবরের মতো আজও তাই করছে লাবিব। লাবিব মনে মনে ভাবে আম্মু শ্যামলি আপুকেই বেশি ভালবাসে। নইলে শ্যামলি আপুকে বকা না দিয়ে বরাবরই আমাকেই কেন বকা দেবে। আপু কি পারত না আমাকে ফড়িংটা দিতে। আম্মুও তো বলতে পারত, লাবিব ছোট ও ফড়িংটা ধরতে চাচ্ছে ওকে দাও। তা না বরং আমাকেই বকা দিল। এসব ভাবে লাবিব। চোখের কোণায় টলটলে জল ছল্ছল্ করছে। জল আটকে গিয়ে কী যেন তার চোখে আটকে গেল। সে বুঝতে পারল শা করে শব্দ করে কী যেন ঢুকে পড়ল ঘরের ভেতর। চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে দেখে সেই ফড়িংটা জানালা দিয়ে ঢুকে পড়েছে। ফড়িংটার দুই ডানায় সবানের ফেনার মতো কিছু জড়িয়ে রয়েছে। মনটা খুশিতে টগবগ করে লাবিবের। সে এবার ফড়িংটাকে ধরবে। আপুকে গিয়ে দেখাবে আর বলবে, দেখো এটা আমাকে পছন্দ করেছে তাই তোমার কাছ থেকে আমার কাছে চলে এসেছে। এ কথা ভাবতে ভাবতে জানালা লাগাল লাবিব। হঠাৎ ফড়িংটা বলে উঠল- তুমি কি আমাকে ধরতে আসতেছো লাবিব? লাবিব শুনে প্রচ- ভয় পেল। ফড়িং আবার কথা বলে কিভাবে। ভাবে লাবিব ফড়িং আবার বলে, ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আমি তোমাকে কামড়াতে আসিনি ভয়ও দেখাতে আসিনি। তুমি আমাকে ধরতে আসতেছিলে নাকি বল।

লাবিব বলে-হু।

-না তুমি আমাকে ধরবে না। একটু আগে তোমরা দু’ভাই-বোন আমাকে নিয়ে খুব টানাহেঁচরা করেছ। আমার একটা ডানা ভেঙ্গে যাওয়া যাওয়া অবস্থা।

-আচ্ছা ধরব না। লাবিব বলে। তুমি আপুর কাছ থেকে চলে এলে কিভাবে?

-তোমার আপু আমাকে এক হাতে আলতো করে ধরে অন্য হাত দিয়ে সুতো খুঁজতে ছিল। সেই ফাঁকে আমি পালিয়ে এসেছি।

-বেশ করেছ। আপু আমাকে আম্মুর কাছ থেকে বকা দিয়ে নিয়েছে। আচ্ছা তুমি ঢাকা শহরে কিভাবে এলে?

-কেন?

-তোমাদের আমি আমার দাদু বাড়িতে দেখেছি। ঢাকায় আসার পর কোনদিন দেখিনি তো।

-ঢাকাতেও অনেক ফড়িং আছে, হয়তো তোমার চোখে পড়ে না। তবে আমি গ্রাম থেকেই এসেছি।

-কিভাবে এলে?

-কেন ডানা মেলে। ডানা মেলে উড়তে কী আনন্দ! বলেই ফড়িং লাবিবের মাথার চারপাশে ঘুরল। লাবিবের খুব ভাল লাগল।

-কেন এসেছ ঢাকায়? জিজ্ঞেস করে লাবিব।

-তোমার বন্ধু হতে। বলে ফড়িং।

-তাই, আমি খুব খুশি হয়েছি। সত্যি সত্যি তুমি আমার বন্ধু হবে?

আমি তোমার বন্ধু হতে আসিনি, মজা করলাম তোমার সঙ্গে। হু তবে তোমার বন্ধু হব।

-ঠিক আছে আমরা এখন বন্ধু। আচ্ছা তাহলে কী জন্য এসেছ?

-আমি শীত ফড়িং। গ্রাম থেকে শীত নিয়ে এসেছি ঢাকা শহরে। কুয়াশার চাদরে ঢেকে দেব ঢাকাকে।

-কেন?

-শীতকালে গ্রামে কী কুয়াশা, দেখোছ কখনও?

-হু দেখেছি।

-ঢাকায় অনেকে এই শীত বুঝতে পারে না, তাই তাদের শীত বুঝাতে এসেছি আমি শীত ফড়িং। তুমি তোমার আম্মুকে শীতের পোশাক বের করতে বল। এখন আমি শীত ছড়াব সারা শহরে।

-নাহ্,আমি আম্মুকে ডাকব না। আম্মু শুধু আমাকে বকা দেয়।

-তাই, তোমাকে আদর করে না?

-করে, তবে শ্যামলি আপুকে বেশি আদর করে।

-কালকে থেকে তোমাকে বেশি আদর করবে আম্মু। তোমাকে আম্মুকে ডাকতে হবে না। আম্মু তোমার কাছে ছুটে আসবে।

-কেন?

-তোমার শীতের পোশাক নিয়েই আসবে। ঠা-া লাগবে তোমার তুমি বুঝতেই পারবে না। একটু পরে আমি বের হয়ে যাব শীত বিলাতে। তুমি জানালা খুলে দাও।

-ফিরবে কখন?

-ফিরব আবার রাতে, দেখা হবে তোমার সঙ্গে-আড্ডা জমাতে।

-আচ্ছা ঠিক আছে।

-ও হ্যাঁ তোমার প্রিয় পত্রিকাতে কালকে শিরোনাম দেখবে, কুয়াশায় ঢেকে গেছে ঢাকা। বলেই ফড়িং জানালা দিয়ে বের হয়ে গেল।

সত্যি সত্যি আম্মু এক ঘণ্টা পরে লাবিবের জন্য শীতের পোশাক বের করে নিয়ে এলো। রাতে প্রচ- জ্বর এলো লাবিবের। আব্বু-আম্মু সারাক্ষণ বসে থাকল লাবিবের পাশে। লাবিব রাতে আব্বুকে জিজ্ঞেস করল,Ñ আব্বু বাইরে কী খুব কুয়াশা পড়ছে?

আব্বু বলে-হু।

লাবিব বলে, তাহলে আব্বু কালকে কী পত্রিকায় খবর বের হবে।

-হু বের হবে।

লাবিব বলে-তাহলে দেখবে কালকে পত্রিকাতে লেখবে কুয়াশায় ঢেকে গেছে ঢাকা।

আম্মু বলে-হ্যাঁ বাবা তাই বের হবে। তুমি ঘুমাও।

লাবিব এর পরে ঘুমায়। সারারাত আর টের পয়নি ও। ফড়িং এর সঙ্গে কথা বলাও হয়নি। সকালে ঘুম ভেঙ্গেই দেখে শীত ফড়িং ওর সামনে। ফড়িং বলে, আম্মু কেমন আদর করেছে কাল থেকে?

লাবিব বলে, অনেক অনেক বেশি।

শীত ফড়িং বলে, হু বলেছিলাম না!

পাশের রুম থেকে আব্বুর কণ্ঠ শোনা যায়। আব্বু আম্মুকে বলছে, দেখে যাও লাবিব কাল রাতে যে কথা বলেছিল পত্রিকাতে হুবহু সেই কথা ছেপেছে। লাবিব শুনে খুব খুশি। শীত ফড়িং তার সামনে একটা পত্রিকা নিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম পাতাতেই লেখা, ‘কুয়াশায় ঢেকে গেছে ঢাকা’।

বিজয় উৎসব

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার, স্বাধীনতা আমাদের গর্ব, বাঙালী আমাদের পরিচয়। আসছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঝিলিমিলি আয়োজন করতে যাচ্ছে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা। দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারবে এ প্রতিযোগিতায়। বিজয়ীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় উপহার। ছবি রঙ করে পাঠাতে হবে অ৪ সাইজের কাগজে। ছবি পাঠানোর শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর, ২০১৪। সঙ্গে তোমার নাম, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, স্কুলের নাম, শ্রেণী, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর পাঠাতে ভুল করবে না যেন! খামের ওপর লিখবেÑ

বিজয় উৎসব- ২০১৪

বিভাগীয় সম্পাদক, ঝিলিমিলি

২৪/এ, রাশেদ খান মেনন সড়ক, ঢাকা-১০০০

লরষরসরষরলধহধশধহঃযধ@ুধযড়ড়.পড়স

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: