মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নীল এলইডি’র আবিষ্কার নোবেল পেয়েছে যে কারণে-

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ইব্রাহিম নোমান

লাইট-এমিটিং ডায়োড বা এলইডি ইলেকট্রনিক্সে ডায়োড বহুল ব্যবহার্য একটি সেমিকন্ডাক্টর। এলইডি এমন একটি ডায়োড, যা কিনা একটি সেমিকন্ডাক্টর এবং একই সঙ্গে আলোও বিকিরণ করে। বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। প্রায় প্রতিটি ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রে এর ব্যবহার হতে দেখা যায়। মোবাইলের কি-প্যাড জ্বলে ওঠাও এই এলইডির অবদান। এতে খুবই কম তড়িৎপ্রবাহ প্রয়োজন হয়। সাধারণত ১০-২০ মিলি এম্পিয়ার কারেন্ট ও ৩ ভোল্ট একটি এলইডি জ্বালানোর জন্য ব্যবহার হয়। রাস্তায় ইদানীং যে বড় স্ক্রিনের টিভি দেখা যায়, তাও অসংখ্য এলইডির সমন্বয়। এগুলো এক একটি সাতটি পর্যন্ত রং প্রদর্শন করতে পারে। আমাদের চারপাশের বাহারি বাতি থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের নানা ডিভাইসের কল্যাণে এলইডি অর্থাৎ লাইট-এমিটিং ডায়োড এখন অনেকেরই পরিচিত শব্দ। এলইডি থেকে লাল ও সবুজ আলোর দেখা পাওয়া গেছে কয়েক দশক আগেই। পাওয়া যাচ্ছিল না নীল আলো। যেটা ছাড়া সম্ভব হচ্ছিল না তিন রং মিশিয়ে সাদা আলো সৃষ্টি। কয়েক দশক ধরে গবেষণা চালিয়েও যা পারেনি, সেটাই সম্ভব করেন আকাসাকি, আমানো ও নাকামুরা। আবিষ্কার করেন এলইডি থেকে নীল আলো পাওয়ার কৌশল। আর এতে উন্মুক্ত হয়েছে সাদা আলোর এলইডি তৈরির নতুন রাস্তা। আর এ আবিষ্কারই জয় করে নেয় নোবেল পুরষ্কার।

বর্তমানে মোবাইল ফোন ও এলইডি স্ক্রিন ছাড়াও অপটিক্যাল যোগাযোগ, ইন্ডিকেটর বাতি, ইনফ্রারেড রশ্মি, আলোকসজ্জা, ট্রাফিক সিগন্যাল, অপটিক্যাল মাউস, লেজার রশ্মি উৎপাদনসহ আরো অনেক কাজে এলইডি ব্যবহৃত হয়।

এমন এক আবিষ্কার মানবজাতির চরম উপকারে লেগেছে। নীল এলইডি ব্যবহার করে নতুন কায়দায় মিলছে সাদা আলো। এসেছে এলইডি বাতি। আমাদের হাতে আছে এখন অনেক বেশি টেকসই এবং অনেক বেশি দক্ষ আলোর উৎস। আকাসাকি, আমানো এবং নাকামুরা ১৯৯০-এর দশকে সেমিকন্ডাক্টর থেকে নীল রশ্মি উৎপাদন করে বিপ্লব এনেছিলেন রোশনাই প্রযুক্তিতে। পৃথিবীতে মোট বিজলির এক-চতুর্থাংশ যেহেতু কাজে লাগে আলো জ্বালাতে, তাই সাদা এলইডি পৃথিবী জুড়ে কমায় জ্বালানি খরচ। পৃথিবীতে দেড় শ’ কোটি মানুষ, যাঁরা এখনও বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে বিজলি পান না, তাঁদের জীবনযাত্রার মান বাড়াবে এলইডি আলো। কারণ এই আলো জ্বলে কম শক্তিতে। সস্তার সৌরশক্তিতেও এ বাতি আলো দেবে ঘরে-ঘরে।

রোশনাই প্রযুক্তির কত যে বিবর্তন দেখল মানুষ! প্রথমে পাথরে পাথর ঘষে চকমকি আলো। তার পর তেল পুড়িয়ে, সলতে জ্বালিয়ে প্রদীপ। কুড়ি হাজার বছর আগেকার কৌশল উনিশ শতকে লাইট বাল্ব। কৌশল তখনও মোটা দাগের। সরু তার বা ফিলামেন্টে তড়িত পাঠিয়ে এমন গরম করে ফেলা, যাতে তা থেকে আলো ঠিকরোয়। বিজলি খরচ ঢের। কিন্তু আলো তেমন জোরদার নয়। বিশ শতকে এল টিউবলাইট বা ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব। বিজলিতে কিছুটা সাশ্রয়, আলোও তুলনায় বেশি। এতে আলো মেলে নতুন কৌশলে। প্রায় বায়ুশূন্য কাঁচনলে ঘটাতে হয় তড়িতের স্পার্ক। ফিলামেন্ট গরম করতে হয় না বলে তাপ তৈরির কারণে বিদ্যুতশক্তির অপচয় অনেক কম হয় এতে।

এরপর এলইডি বাতি। বিদ্যুত থেকে সরাসরি আলো সৃষ্টি। অনেক বেশি দক্ষ কায়দা। বিজলি খরচের হিসেবে আলো তৈরির ক্ষমতায় ফ্লুরোসেন্ট বাতি পুরনো দিনের বাল্বের তুলনায় চারগুণেরও বেশি দক্ষ। আর এলইডি বাতি ফ্লুরোসেন্টের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি দক্ষ। আয়ুতেও অনেক ফারাক। পুরনো দিনের বাল্ব যদি টেকে এক হাজার ঘণ্টা, তবে, ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব আলো দেয় দশ হাজার ঘণ্টা। এলইডি বাতির আয়ু সেখানে এক লাখ ঘণ্টা।

লাল এলইডির আবিষ্কার হয়েছিল ১৯৫০-এর দশকে। তা কাজে লেগেছিল ডিজিটাল ঘড়িতে, ক্যালকুলেটরে কিংবা বৈদ্যুতিন যন্ত্রের অন-অফ দশা বোঝাতে। সবুজ এলইডির আবিষ্কার কিছু পরে। কিন্তু বেগ দিচ্ছিল নীল এলইডি। অথচ এটা না পেলে যে তিন রং মিশিয়ে তৈরি হবে না সাদা আলো! বিপ্লব আসবে না রোশনাই জগতে! তার ওপরে হাজার হাজার কোটি ডলার মুনাফার প্রলোভন তো আছেই। নীল এলইডি আবিষ্কারের লক্ষ্যে তাই দৌড় শুরু করে বহু বহুজাতিক সংস্থা। এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। তিন দশকের তীব্র প্রতিযোগিতা। সবাই যখন ব্যর্থ এবং প্রায় নিশ্চিত যে নীল এলইডি আর মিলবে না কখনও, তখনও হাল ছাড়েননি আকাসাকি, আমানো এবং নাকামুরা। ১৯৯০-এর দশকে এসে এই তিন বিজ্ঞানী সফল হন নীল এলইডি তৈরিতে।

সূত্র : ফ্রন্টলাইন

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: