মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সঙ্গীতের মহোৎসব ॥ পান্থ আফজাল

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

সঙ্গীতপ্রেমীদের মিলনমেলার মহোৎসব ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব বাংলাদেশ-২০১৪’ তৃতীয় বারের মতো ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের এই মহাযজ্ঞের ধারা অব্যাহত রাখতে ৫ দিনব্যাপী এই আয়োজন ৩৬ জন প্রবীণ ভারতীয় উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পীর পাশাপাশি বাংলাদেশী ১৮ জন উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী সঙ্গীত পরিবেশন করলেন।

সার্বিক বিচারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের এই আসরে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো উচ্চঙ্গসঙ্গীত পরিবেশন করছেন কিংবদন্তি ও বিশ্বখ্যাত সরোদবাদক পদ্মাবিভূষণ ওস্তাদ আমজাদ আলী খান এবং পদ্মবিভূষন বিদুষী কিশোরী আমানকার। এবারের এই উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আয়োজনের প্রথম দিনের পরিবেশনায় ছিল বিদুষী মালবিকা সারুক্কাইয়ের মনোমুগ্ধকর ভরতনাট্যম। অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারিণী এই বিদুষী প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে ভরতনাট্যম পরিবেশন করে শ্রোতাদের বুঁদ করে রাখেন। এছাড়াও সঙ্গীতপ্রেমীরা রাত জেগে উপভোগ করেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী ও বিদুষী গিরিজা দেবীর সুরমাধুর্য। ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খানের সেতার আর রাজরুপা চৌধুরীর সরোদের সুরমূর্ছনার আবেশ ছিল সারা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। প্রাণের এই উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গুরু কড়াইকুডিমানির কনাটর্ক তালবাদ্য এবং পণ্ডিত সাজন মিশ্র ও পণ্ডিত রাজন মিশ্রর অসাধারণ কণ্ঠসঙ্গীত। এছাড়াও বিখ্যাত সন্তর বাদক রাহুল শর্মার পরিবেশনা ছিল অসাধারণ। ভ্রাতৃদ্বয় পণ্ডিত উষা কান্ত গুচা ও পেণ্ডিত রমাকান্ত গু-েচার কণ্ঠসঙ্গীতে বুঁদ হয়ে থাকে হাজার হাজার দর্শক শ্রোতা।

সঙ্গীত উপভোগ করার পাশাপাশি পাঁচ দিনই শ্রেতাদের জন্যে খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয় উৎসব প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টলে। স্কয়ার নিবেদিত ব্র্যাক ব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এই মিলন মেলায় আগত অগনিত দর্শক সারারাত জেগে সঙ্গীত উপভোগের পাশাপাশি প্রিয়জনদের নিয়ে বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বেড়ায় এবং আড্ডা-গানে সময় অতিবাহিত করে। এই উৎসব মুখরিত হয় সঙ্গীতজ্ঞ-শ্রোতার পারস্পারিক সুরের মায়াজালের আদান-প্রদান। তৃতীয় দিনে বিখ্যাত সন্তুর বাদক পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার পরিবেশনা মুগ্ধ করে হাজার হাজার শ্রোতাকে। এছাড়াও মহান উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী পণ্ডিত উল্লাস কাশলকার, পণ্ডিত কুশল দাস, বিদুষী অরুনা সাইরাম, মঞ্জুষা পাতিলের অপূর্ব সঙ্গীত প্রতিভা ছিল সত্যিই উপভোগ্য। মহাযজ্ঞের চতুর্থদিনে দর্শক শ্রোতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে উপভোগ করেন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী পণ্ডিত হরিপ্রাসাদ চৌরাসিয়ার মোহনীয় বাঁশির সুর। এছাড়াও ওস্তাদ আমজাদ আলী খানের সুযোগ্য পুত্রদ্বয় আমান আলী খান ও আয়ান আলী খানের সরেদের সুরমূর্ছনা মুগ্ধ করে অগনিত শ্রোতাকে। তবে শিল্পী কাইযুম চৌধুরীর হঠাৎ চলে যাওয়ার বিয়োগ ব্যথাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই দিনে সকল সঙ্গীতজ্ঞ তাদের পরিবেশনা উৎসর্গ করলেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা এই চিত্রশিল্পীকে। এই দিনে আরও উচ্চাঙ্গসঙ্গীত পরিবেশন করেন প-িত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার, গণেশ রাজাগোপালন, কৌশিক চক্রবর্তী, সামিহান কাশালকর প্রমুখ। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের উচ্চঙ্গ শিল্পী সুপ্রিয়া দাশ, নিশিত দে, অসিত রায়, অমিত চৌধুরী, স্বরুপ হোসেন, রাজরুপা চৌধুরী, মনিরুজ্জামান, নীলমনি, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিশ্বজিত নট্ট প্রমুখের পরিবেশনা উপভোগ্য ছিল। উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ম দিনে ছিল বিশ্বখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আমজাদ আলী খানের পরিবেশনা। এছাড়াও উচ্চাঙ্গসঙ্গীত পরিবেশন করবেন বিদুষী কিশোরী আমানকার, প-িত উদয় ভাওয়ালকর, অশ্বিনী ভিডে দেশপা-ে প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

০৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: