কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এক পেনাল্টিতেই বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৪

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অভীষ্ট লক্ষ্যপূরণের জন্য বাকি ছিল আর মাত্র একটি ধাপ। কিন্তু সেই ধাপটি পেরুতে না পেরে পর্যবসিত হতে হলো ব্যর্থতায়। সেই সঙ্গে পুড়তে হলো স্বপ্নভঙ্গের নিদারুণ বেদনায়। সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল ১-০ গোলে হেরে গেছে নেপাল জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের কাছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের জিন্নাহ্ ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সাজানা রানা খেলার ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নেপালের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন। এই জয়ে নেপাল পৌঁছে গেল ফাইনালে। সেখানে তারা মোকাবেলা করবে ভারতের। একইদিন একই ভেন্যুতে ভারত প্রথম সেমিতে ৫-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে অনায়াসেই ফাইনালের টিকেট কাটে। মজার ব্যাপারÑ এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে ভারত-নেপাল! আরও মজার ব্যাপার, দুবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, রানার্সআপ নেপাল (২০১০ ও ২০১২ সালে)!

দুই দলই খেলা শুরু করে সতর্ক ভঙ্গিতে। প্রথম ২৫ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের বল নিয়ন্ত্রণ ছিল ৬০ শতাংশ। উভয়দলই চেষ্টা করে আক্রমণ করে খেলতে। কিন্তু রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ও ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় তা আর আলোর মুখ দেখছিল না। ৪১ মিনিটে নেপালের সাজানা ফ্রি কিক নিলে সেটা অনেক কষ্টে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় নেপাল। স্পট কিক থেকে সেটা গোলে পরিণত করতে ভুল করেননি সাজানা (১-০)। ৬৫ মিনিটে নেপালের সবিত্রা বান্দারি একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ৬৮ মিনিটে নেপালের নিরু থাপাও গোল মিস করেন। বাকি সময়টায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও বাংলাদেশ দল কাক্সিক্ষত গোল করে আর ফিরতে পারেনি সমতায়।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নেপাল ১০৯, আর বাংলাদেশ ১১৭। ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ বাংলাদেশ বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬-১ গোলে হারায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায় ১-৫ গোলে। আর তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে হারায় ৩-১ গোলে। ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হার নিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে ‘বি’ গ্রুপে নেপাল তাদের ৩ খেলার প্রতিটিতেই জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। তারা হারায় ভুটানকে ৮-০, পাকিস্তানকে ২-০ এবং শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ গোলে। সেমিফাইনালসহ নেপাল এ পর্যন্ত কোন ম্যাচেই গোল হজম করেনি। এই কৃতিত্ব অন্য কোন দলের নেই।

এই প্রতিযোগিতার ২০১০ আসরের সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। আর সর্বশেষ ২০১২ আসরের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। পক্ষান্তরে নেপাল এই আসরে ২০১০ ও ২০১২ সালে রানার্সআপ হয়েছিল। ২০১০ আসরের সেমিতে নেপালের কাছে ০-৩ গোলে পরাভূত হয়েছিল বাংলাদেশ। স্বভাবতই তাদের হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার একটা সুযোগ ছিল সুকিতাতে নোরিওর দলের। কিন্ত সেটা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। কদিন আগে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৬ দলের মেয়েরা দেশের মাটিতে অভাবনীয় ফুটবল খেলেছে। এবার পালা ছিল জাতীয় মহিলা দলের। তারা যে একেবারে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা বলা যাবে না। ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, মোটামুটি ভালই করেছে তারা।

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৪

২০/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: