রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারতে নয়, দেশের মধ্যে সঞ্চালন লাইনে ত্রুটিতে গ্রিড বিপর্যয়

প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর ২০১৪

তদন্ত কমিটির ধারণা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভারতীয় নয় দেশের মধ্যে সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল বলে মনে করছে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি। সোমবার বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনের সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাতকার গ্রহণের পর ভারতীয় সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির বিষটি ভুলভাবে বলা হয়েছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। আজ মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি ভেড়ামারার ভারত বাংলাদেশ বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন পরিদর্শনে যাচ্ছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের তদন্ত এখন মাঝপথে। এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় কেন এই বিপর্যয় ঘটল। তবে ভারতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে এ বিপর্যয়ের যে খবর ছড়ানো হয়েছে তা ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

তদন্ত কমিটি সূত্র বলছে, সোমবার সারাদিন ন্যাশনাল লোডডেসপাস সেন্টারে তদন্ত কমিটি সঞ্চালন সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। সাক্ষাতকারগুলো বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটির অপর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রাথমিকভাবে ভারতীয় অংশের সঞ্চালন ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় বলে প্রচার করা হয়েছে। এনএলডিসিও আমাদের বলেছে, সমস্যা ভারতীয় অংশে। কেউ কেউ আর নির্দিষ্ট করে বলেছে সমস্যা কোথায়। কিন্তু এখন সব বক্তব্যের সঙ্গে সাক্ষাতকার এবং তথ্য উপাত্তের বেশ অমিল পাওয়া যাচ্ছে। এসব দিক বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে সমস্যাটি আমাদের দেশের মধ্যে অন্য কোন কারণে ঘটতে পারে। যদিও এখন পুরো বিষয়টি ধারণানির্ভর। তাই আজ ভারত বাংলাদেশ সাবস্টেশন দেখার জন্য ভেড়ামারা যাচ্ছে তদন্ত কমিটি। রবিবারের আগে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হবে না বলেও জানান কমিটির এক সদস্য।

বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এ প্রসঙ্গে সোমবার তাঁর দফতরে বলেন, আজ আমরা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেতে পারি। রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার কারণ সকলকে জানানো হবে। তিনি বলেন, আমরা এখনও শঙ্কা মুক্ত নই। আমাদের বেশিরভাগ গ্রিড লাইন পুরানো। এ ধরনের সঙ্কট সমাধানে আগামী এক মাসের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে। পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরামর্শক আমাদের গ্রিড লাইন বিশ্লেষণ করে এটিকে আধুনিকায়ন করার পরামর্শ দেবেন। সে অনুযায়ী সব কিছু সাজানো হবে।

অন্যদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) বলছে তারা এ ঘটনার কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে তাদের কাছে সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে পিজিবির মহাব্যবস্থাপক তপন কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করব। কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরিতে কিছু সময় প্রয়োজন হবে। তবে আমরা কাজ শুরু করেছি।

প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর ২০১৪

০৪/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: