ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১

জাতীয় পরিবেশ কমিটির সভায় মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

দক্ষিণ উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলুন ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫:০৫, ৭ আগস্ট ২০১৭

দক্ষিণ উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলুন ॥ প্রধানমন্ত্রী

সরকার ‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন’ মন্ত্রণালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ কমিটির (ন্যাশনাল কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট) চতুর্থ সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। খবর বাসস’র। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকে জাতীয় পবিবেশনীতি ২০১৭-এর খসড়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার (কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান-সিআইপি)’ খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় পরিবেশ কমিটির তৃতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও এদিন পর্যালোচনা হয়। প্রেস সচিব জানান, এদিন বৈঠকে মংলা বন্দর এলাকায় পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার অনুমোদন দেয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে কৃষিজমি রক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘উন্নয়ন হতে হবে খুবই পরিকল্পিত।’ তিনি আরও জানান, সরকারপ্রধান চাষের জমি রক্ষা করার পাশাপাশি অহেতুক গাছ না কাটা এবং নতুন আবাসন এলাকা ও শিল্পাঞ্চলে জলাধার রাখার কথাও বলেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার তাগিদ দেন। সুন্দরবনকে সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসেবে উল্লেখ তিনি নতুন বনায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কেউ যাতে সুন্দরবনের গাছ না কাটে, সেজন্য ওই এলাকায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, অতিবৃষ্টিতে জনভোগান্তির প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠলে প্রধানমন্ত্রী এর ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতিবৃষ্টি নদীর দূষণ রোধ করার পাশাপাশি লবণাক্ততা কমায়।’ নদী রক্ষায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দূষণ এড়ানো না গেলে নদী নষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ দূষণমুক্ত রাখতে হবে। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাইশে শ্রাবণ প্রয়াণ দিবসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেন। কৃষকদের উন্নয়নে কবিগুরুর বিভিন্ন অবদানের কথাও তিনি এ সময় তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহামুদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এবং সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকা- এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
×