মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিরিয়ালের নায়িকার নামে পোশাক নিয়ে মাতামাতি

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৫
সিরিয়ালের নায়িকার নামে পোশাক নিয়ে মাতামাতি
  • রাজধানীর ঈদ মার্কেটে কিরণমালা, জলপরি, রাই কিশোরী ও সারা-রার জমজমাট কেনাকাটা

রহিম শেখ ॥ কিরণমালা, জলপরী, রাই কিশোরী ও সারারা। ঈদ উপলক্ষে ভারতীয় সিনেমা কিংবা সিরিয়ালের নায়িকার নামে এসব পোশাক নিয়ে রীতিমতো মাতামাতি চলছে রাজধানীর বিপণিবিতান, শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে। ফিল্মীওয়ালা নাম দেয়া এসব পোশাকের সবই আমদানিকৃত। অথচ এ সব নামে ওপার বাংলা এমনকি পুরো ভারতের কোথাও কোন পোশাক খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি গত ঈদে হিন্দী সিরিয়াল ‘পাখি’ নামের একটি ড্রেস কেনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। বিক্রেতারা জানালেন, ভারতীয় সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ওই নাম দিচ্ছেন এ দেশের কিছু ব্যবসায়ী। ঈদ উৎসবকে পুঁজি করে মুনাফা বা অধিক বাণ্যিজের লোভে প্রতিবছরই কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী পোশাক নিয়ে এমন ‘নামের’ ব্যবসা করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ভারতীয় হিন্দী-বাংলা সিনেমাসহ টিভি চ্যানেলগুলোর মেগা ধারাবাহিক নাটক ও সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকাদের পরনের পোশাকের চাহিদা এখন তুঙ্গে। একশ্রেণীর মৌসুমী ব্যবসায়ী আমদানি করছেন ভারতীয় এসব পোশাক। আমদানির পর বিভিন্ন নামে লাগানো হচ্ছে ট্যাগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারীদের জন্য অন্যতম মার্কেট রাজধানীর গাউছিয়া, নিউমার্কেট, হকার্স মার্কেট এবং বসুন্ধরা সিটি, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, টুইনটাওয়ার, মালিবাগ সুপার মার্কেট, ইস্টার্র্ন প্লাজাসহ সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে ভারতের পোশাক। ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি দোকানেই নানা ধরনের শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস এবং বাচ্চাদের পোশাক সাজানো হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পাকিস্তানী পোশাক থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা ভারতীয় পোশাকের দিকে। শুধু রাজধানীই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের ঈদ বাজারেও একচেটিয়া দখল ভারতীয় পোশাকের।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের ঈদে বিপণিবিতানগুলোতে তরুণীদের মন কেড়েছে ভারতীয় হিন্দী সিরিয়াল রূপকথার রাজকন্যা ‘কিরণমালা’। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র কিরণমালার পোশাক আশাকও তখনকার সময়য়োপযোগী। কিন্তু বাংলাদেশের ঈদ বাজারে কিরণমালা নামক যেসব পোশাক এসেছে তার কোন পোশাকই কখনও পড়েননি চরিত্রটি। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, সিরিয়াল দেখেই এই পোশাকটির প্রতি সবার আগ্রহ। একই সঙ্গে ছোটদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে একটু হাল্কা কাপড়ে করা হয়েছে ‘সারারা’ নামের আরও একটি ঈদ পোশাক। এই নামও নেয়া হয়েছে একটি হিন্দী সিনেমার গান থেকে। কিরণমালা ও সারারা পোশাক দুটি প্রায় একই ধাঁচের। তবে সারারায় কোটি থাকলেও কিরণমালাতে কোটি নেই। ভারতীয় সিরিয়ালের নামধারী এসব পোশাক বিশেষ স্থান জুড়ে রয়েছে শপিংমলগুলোতে। দামও একটু, না বেশ চড়া। বলা যায়, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ডিজাইন, সুতা ও কারুকাজের মান ভেদে জমকালো ও নজরকাড়া এসব পোশাক বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। নিউমার্কেটের গাউছিয়ার জুয়েল ফ্যাশনে কিরণমালা নামে এসেছে ফ্লোর টাচ, সালোয়ার কামিজ, জামা। এসব পোশাকে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানের বিক্রেতারা। তারা বলেন, শব-ই-বরাতের পর থেকের ঈদের ভিড় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হয়নি। যা কিছু ক্রেতা এসেছে তাদের নজর এই কিরণমালার দিকে। আমাদের এখানে এসব কিরণমালার দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। গাউছিয়া মার্কেটে কথা হয় ইসরাত জাহান নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, গত বছর পাখি ড্রেসের জন্য কয়েকজন আত্মহত্যা করেছে। এসব আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি। এইবার বাজারে যেভাবে কিরণমালা পোশাক আসছে তাতে নতুন কোনা দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে। বসুন্ধরা সিটিতে কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিয়া আফরিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোর সাধারণ মানুষ থেকে হলিউড তারকা, সবাই যেখানে খুঁজে ফেরেন, বাংলাদেশের পোশাক, সেখানে এদেশের পোশাকে ভিনদেশী সিরিয়ালের নাম দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক তা কি কখনও ভেবেছেন এ সব ব্যবসায়ীরা ?

সম্প্রতি বলিউডে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দী সিনেমা ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ সিনেমায় চিত্রনায়িকা কারিনা কাপুর যে ধরনের সালোয়ার-কামিজ পরেছেন ঈদকে সামনে রেখে সে ধরনের পোশাকও ঈদ বাজারে এসেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানালেন। এ পোশাক ‘কারিনা ড্রেস’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কারিনা ড্রেসের কামিজ অনেকটা পালাজ্জো কামিজের মতো। সালোয়ারের নিচের দিকের ঘের অনেক বেশি। এছাড়া নিচের দিকে চওড়া ও ভারি কাজ থাকছে। বিক্রেতারা বলছেন, সালোয়ার-কামিজের স্টাইলে এবারের ঈদে বিশেষ সংযোজন ‘কোটি’র ব্যবহার। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনতেই কামিজে কোটি যুক্ত করা হয়েছে। আবার কিছু কিছু কামিজে কোটি থাকছে আলাদা। এ ক্ষেত্রে চাইলে কামিজ থেকে কোটি খুলে রেখেও কামিজ পরা যাবে। আর কামিজটা অবশ্যই লং ও স্ট্রেইট কাটের হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে বাহারি নকশা। নতুনত্বের বাহারি ডিজাইন তো থাকছেই। গলার কাটিংয়েও স্থান পেয়েছে পরিচিত টিভি সিরিয়াল ও সুপারহিট সিনেমার নায়িকার ড্রেসকে সামনে রেখে।

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৫

৩০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: