আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে সানস্ক্রিন

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫
  • ডা. বন্দনা চক্রবর্তী

ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে সান স্ক্রিনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তাই সান স্ক্রিন সম্পর্কে কিছু কথা জেনে নেই।

সূর্যের কিরণকে স্কিন ক্যান্সারের প্রধান কারণ বলা হয়। প্রখর বা নরম সূর্য তাপ। সব অবস্থাতেই আছে অতিবেগুনী রশ্মি অথবা আলট্রা ভায়লেট রে। আর এই অতিবেগুনী রশ্মিই ত্বক ক্যান্সারের প্রধান কারণ। অনেক রকম বেগুনী রশ্মির মধ্যে ইউ ভি-এ এবং ইউ ভি-বি ত্বকের কোষ মধ্যস্থিত জিনের ক্ষতি সাধন করে ত্বক ক্যান্সারের সূচনা করে। অতি বেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করতে হয় সানস্ক্রিন। যা এখন সারা পৃথিবীতেই কসমেটিক বা প্রসাধন হিসেবে পাওয়া যায়। যদিও সানস্ক্রিনকে এখন শুধু প্রসাধন না বলে নিত্যকার প্রয়োজনীয় একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক সামগ্রী হিসেবে ভাবা হয়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের সানস্ক্রিন ব্যবহার। মনে রাখা ভাল যে সান স্ক্রিন ব্যবহার ত্বকের অকাল বার্ধক্য, রিঙ্কেল রোধেও অতি জরুরী।

সান স্ক্রিন ব্যবহারের পূর্বে কতগুলো প্রয়োজনীয় বিষয় জেনে নেয়া দরকার কেননা বাজারে এখন নানারকম সান স্ক্রিন পাওয়া যায় এবং কোন সঠিক মানদণ্ড ছাড়াই। বিশেষ করে আমাদের মত দেশে যেখানে প্রসাধনমূলক সামগ্রী নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নামেমাত্র আছে।

সান স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এ ব্যাপারে সহায়ক হতে পারে।

১। সান প্রটেক্টর ফ্যাক্টর : সান প্রটেক্টর ফ্যাক্টর হচ্ছে, কোন একটি সান স্ক্রিনের সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবার ক্ষমতা। সাধারণত বাজারে এসপি এফ-১৫ থেকে এসপিএফ-৩০ বা তদুর্ধ সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। ব্যবহারের পূর্বে এএসপিএফ অবশ্যই দেখে নিতে হবে।

২। অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবার জন্য এসপিএফ-১৫ এবং এসপিএফ-৩০ সান স্ক্রিন ব্যবহারই যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে এই দুয়ের মধ্যে ব্যবধান অতিসামান্য। তবু বিজ্ঞানীদের এসপিএফ-৩০ ব্যবহারের পক্ষেই মত দিয়ে আসছেন। আর এরও উপরে যেগুলো রয়েছে সেগুলোর আলাদা কোন ভূমিকা নেই। এসপিএফ-৩০ দিয়ে থাকে ৯৭% সুরক্ষা। এবং ১০০% সুরক্ষা কোন সান স্ক্রিনই দেয় না। সুতরাং এসপিএফ ৩০-ই যথেষ্ট।

৩। যে সমস্ত সান স্ক্রিন-এ ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ কথাটি লেখা আছে এগুলো ইউভি-এ এবং ইউভি-বি, এই দুই ধরনের অতি বেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। সেজন্য ব্রড স্পেকট্রাম দেখে ব্যবহার করা ভাল। তাছাড়া সান স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ওয়াটার রেজিস্ট্রান্ট’ কথাটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

৪। সান স্ক্রিন শুধু মেয়েদের জন্য নয় পুরুষ, শিশুসহ সবার জন্য ব্যবহার্য।

৫। সান স্ক্রিন সাধারণত সূর্য রশ্মি প্রখর থাকে তখন অর্থাৎ সকাল ৯টা হতে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত ব্যবহার করা দরকার।

৬। মনে রাখতে হবে, যে শুধু একবার সান স্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না অন্তত দু’ঘণ্টা পর পর ব্যবহার করতে হবে।

৭। বাইরে বের হওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে সান স্ক্রিন লাগাতে হবে। মেঘলা দিনেও সান স্ক্রিন ব্যবহার করা দরকার এবং শরীরের যে সমস্ত অংশ ঢাকা না থাকে সে সমস্ত অংশে ব্যবহার করতে হবে।

৮। সান স্ক্রিন শিশুদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে শিশুদের উপযোগী সান স্ক্রিন ব্যবহার করলে ভাল।

৯। সান স্ক্রিন সব ঋতুতেই ব্যবহার করতে হবে, তবে গ্রীষ্মে ব্যবহার করাই কর্তব্য।

১০। সান স্ক্রিন ডেট যদি এক্সপায়ার না হয়ে যায় এবং রং, গন্ধ পরিবর্তন না হয় তাহলে সান স্ক্রিন অনেক দিন ব্যবহার করা যায়।

১১। সান স্ক্রিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব সামান্য। কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু এলার্জিক প্রতিক্রিয়া ছাড়া তেমন কিছু হয় না।

১২। উত্তম সান স্ক্রিন হচ্ছে সেটাই, যেটা একই সঙ্গে ব্রড স্পেকট্রাম, ওয়াটার রেজিস্ট্রান্ট এবং এসপিএফ-৩০ সংবলিত।

১৩। সব শেষে সব থেকে দরকারি কথা মনে রাখার মতো তা হলো, ১০০% সুরক্ষা কোন সান স্ক্রিনই দেয় না।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫

২৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: