কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া জামায়াত নেতা রাজ্জাক সাতক্ষীরায় গ্রেফতার

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫
৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া জামায়াত নেতা রাজ্জাক সাতক্ষীরায় গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, ২৭ জুন ॥ জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরডিপির চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক গ্রেফতার হওয়ার পর তার নিজ উপজেলা বাউফলের মানুষ খুশি হয়েছেন। শুক্রবার আবদুর রাজ্জাকসহ তিন জনকে সাতক্ষীরা জেলা শহরের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৭৩টি শাখার মাধ্যমে আরডিপির চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক আমানতকারীদের এক হাজার কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে বাউফলের প্রায় ৪ হাজার আমানতকারীর প্রায় ৫০ কোটি টাকা রয়েছে। তার ভাই ও বাউফল পৌর জামায়াতের আমির হাফেজ আবদুর রশিদের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আরডিপির চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামে। পিতার নাম আবদুল লতিফ। একদিন জীবিকার তাগিদে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় চলে যান। সেখানে একটি মসজিদে ইমামতির চাকরি নেন এবং জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৯ সালে তিনি আরডিপি ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এমসিএস লিমিটেড নামের একটি সমবায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কেবল সমবায় অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে বাউফলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৭৩টি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। তারা মোটা অঙ্কের মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু করেন। মাসিক মুনাফা, মাসিক সঞ্চয় ও হজ প্রকল্পসহ নানা নামে বাউফলসহ দেশের প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানত সংগ্রহ করে। এই টাকা দিয়ে তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ককসি টার্চ (কক্সবাজার সমুদ্র স্পট) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জায়গা ক্রয় করেন। এর মধ্যে কুয়াকাটা ১শ’ শতাংশ জমি ও টিএ্যান্ডটির পাশে ২৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন। এছাড়াও পদ্মার পারে পদ্মা সিটি, হলি সিটি ও মেলামাইন প্রজেক্ট গড়ে তোলেন। এ ছাড়াও তিনি আমানতকারীদের টাকা জামায়াতের রাজনীতিতে ব্যয় করতেন। একপর্যায়ে এই সমবায় প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এর হেড অফিস হচ্ছে, ঢাকার ৩২, পুরানা পল্টনের সুলতান আহম্মেদ প্লাজার ৮ম তলায়। তিনি এ টাকায় ঢাকায় একটি বিলাসবহুল এ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। সেখানে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। তারা দামি গাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার ভাই আবদুর রশিদ বাউফল পৌর জামায়াতের আমিরও প্রতিষ্ঠানটির একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মূলত তার ওপর নির্ভর করেই কেবল বাউফলে ৪ হাজারের বেশি আমানতকারী সৃষ্টি হয়। এই শাখার নজরুল ইসলাম নামের একজন প্রতারিত আমানতকারী থানায় মামলা করার পর থেকে (মামলা নং ২১, তারিখ ২০/৫/২০১৫) তিনি গ্রেফতারের ভয়ে গা-ঢাকা দিয়ে চলেছেন। তাকে বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না। আমানতকারীদের টাকায় তিনিও বাউফলের টিএ্যান্ডটি এলাকায় একটি বহুতল বাড়ির নির্মাণ কাজ করছেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির বাউফল কার্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। এর ফলে আমানতকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাউফলসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও কোর্টে এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় পুলিশ আরডিপির চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার জুলকার নাইন ও কর্মচারী হাফিজুর রহমানসহ তিন জনকে সাতক্ষীরা শহরের হোটেল টাইগার প্লাস থেকে গ্রেফতার করে। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর বাউফলের আমানতকারীরা ভীষণ খুশি হয়েছেন। তারা আবদুর রাজ্জাকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এবং টাকা ফেরত পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: