আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডিএনডির জলাবদ্ধতা ॥ বাড়ছে দুর্ভোগ

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫
  • পানি নিষ্কাশন জরুরী

মোঃ খলিলুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ ডিএনডির নিচু এলাকার বাসিন্দারা এখন আতঙ্কিত। গত চারদিন ধরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে ডিএনডির কয়েক লাখ মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। কিছুতেই কমছে না জলাবদ্ধতা। গত কয়েকদিনের হালকা ও ভারি বর্ষণে ডিএনডির নিচু এলাকার বহু রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, নানা স্থাপনা ও ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে আছে। স্যুয়ারেজের ময়লার সঙ্গে বর্ষণের পানি মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে অনেকেই চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডিএনডির ভেতরে স্থান ভেদে এখন ১ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। তবে ডিএনডি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায়, নিষ্কাশনের শাখা-প্রশাখা খালগুলো পুনর্খনন না করা, নিষ্কাশনের শাখা-প্রশাখা খালগুলো আটকিয়ে পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করা ও নতুন পাম্প হাউস নির্মাণ না করায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টির কারণ বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

জানা যায়, ডিএনডি প্রজেক্টটি ১৯৬২-১৯৬৮ সালে রাজধানী ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৮ হাজার ৩শ’ ৪০ হেক্টর এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ডিএনডি বন্যামুক্ত থাকলে এর চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। শুরু হয় ডিএনডিতে বসবাসের প্রতিযোগিতা। বর্তমানে ডিএনডিতে আনুমানিক ২০ লাখ লোক বসবাস করছে। জানা যায়, পাম্প হাউস নির্মাণের সময় ১৪ দশমিক ৫২ কিউসেক (৫১২ কিউসেক) ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি পাম্প সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় বসানো হয়েছে। অথচ এ পাম্পগুলো ৫০ বছরের পুরনো। তাই পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা আগের মতো নেই বলেও খোদ কর্মকতাই অকপটে স্বীকার করেন। একটি সূত্র জানায়, ২০০৪ ডিএনডিতে স্মরণকালের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন ডিএনডির অধিকাংশ লোক এক মাস থেকে দেড় মাস পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটিয়েছে। এরপর ডিএনডি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।

জালকুড়ি পূর্বপাড়ার খিলপাড়ার বাসিন্দা সোহেল জানায়, গত চারদিন ধরে তাদের এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রান্নাঘর, বাথরুম ডুবে গেছে, উঠানে দুই ফুট পানি। দরজায় দেয়াল দিয়ে পানি ঠেকানো হয়েছে। খিলপাড়ায় প্রায় প্রতি বাড়িতেই বর্ষণের পানি ঢুকেছে। পাইনাদী নতুন মহল্লার বাসিন্দা হাসান জানায়, বর্ষণের পানির সঙ্গে নর্দমার ময়লা-আবর্জনা মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে পচা ও নোংরা পানি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পায়ে ঘা সৃষ্টি হয়েছে। ডিএনডির নিচু এলাকার অনেক বাসিন্দা ঘরের ভেতরে পানি ঠেকাতে দরজায় ইট দিয়ে বেড়িও দিয়েছেন। ডিএনডির নিচু এলাকায় বহু রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, শিল্প প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা পানিতে ডুবে আছে। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে তারা জানান। সূত্রে জানা যায়, ডিএনডি থেকে সুষ্ঠুভাবে সেচ কার্য পরিচালনা করা এবং পানি নিষ্কাশন করার জন্য ৯টি সেচ খাল, ৯টি ডিটিও খাল, ২১০টি আউট লেক খাল, ৮৫টি চকবন্দী খাল অনুসারে ১০টি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। এছাড়াও এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল রয়েছে। এর মধ্যে চ্যানেল-১ খালের দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক ৯০ কিলোমিটার, চ্যানেল-২ এর দৈর্ঘ্য পাঁর দশমিক ৮০ কিলোমিটার, পাগলা খাল ৩ কিলোমিটার, জালকুড়ি খাল ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার, শ্যামপুর খাল ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ফতুল্লা খাল ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ও সেকেন্ডারি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। এ খালগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। মিজমিজির বাসিন্দা হয়রত আলী জানায়, মিজমিজি টিসি রোড সংলগ্ন কংশ নদী নামে একটি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। যে খাল দিয়ে পাইনাদী পূর্বপাড়া, সিআইখোলা, মধ্যপাড়া, মিজমিজি পূর্বপাড়া, মজিববাগ, জুয়েল রোড ও রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার বৃষ্টির পানি ডিএনডির প্রধান নিষ্কাশন খালে গিয়ে পড়ছে। অথচ এ খালটি ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলেছে। এছাড়াও খালটি দখল করে দোকানপাট, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, যদি একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি হয় তবে ডিএনডিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে ডিএনডির নিচু এলাকার বাসিন্দা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

১৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: