আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘সীমান্ত বিল পাসের মধ্য দিয়ে দু’দেশের ছিটমহলবাসীর মানবিক সমস্যার সমাধান হয়ে

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫, ১২:৩৭ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সীমান্ত বিল পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহলবাসীর মানবিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এই বিল পাসের পরে দুই দেশই এখন বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত এখন সম্পর্ক উন্নয়নের একটি মডেল হতে চলেছে। শনিবার ‘স্থল সীমান্ত চুক্তি : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহম্মদ জমির, এ এইচ জি মহিউদ্দিন, মেজর (অব) আবদুর রশিদ, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুশারী প্রমুখ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, সীমান্ত চুক্তি বিল পাসের পরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন দিগন্ত উম্মোচন হয়েছে। এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হবে। তিনি বলেন, দেশভাগের পরে ছিটমহলে যে সমস্যা দেখা দেয়, সেটার সমাধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী উদ্যোগ নেন। তাদের উদ্যোগেই সীমান্ত চুক্তি হয়। তবে সীমান্ত বিল চুক্তি পাস হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত বিল ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাসের সময় সেখানকার সদস্যা বাংলাদেশ নিয়ে অনেক আবেগময় বক্তব্য রেখেছেন। তাদের সেই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক বন্ধনের বিষয়টি আরও একবার সবার স্মরণে এসেছে।

পঙ্কজ শরণ বলেন, লোকসভায় সীমান্ত চুক্তি বিল পাসের পরে তা বাস্তবায়নে দুই দেশ এখন কাজ করছে। এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে ছিটমহল এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিশেষ করে দুই দেশের ছিটমহলবাসীদের মানবিক সমস্যা সমাধান হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ছিটমহল এলাকায় সীমান্তের অপরাধীরা বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিল। এখন ছিটমহলে সেসব অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে। দুই দেশই এখন আরও ভালভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।

পঙ্কজ শরণ বলেন, সীমান্ত বিল পাসের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটবে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এখনও সেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার সমাধানও দ্রুত হবে। তিনি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের একটি মডেল হতে চলেছে।

মূল প্রবন্ধে ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ৪১ বছর পরে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ছিটমহল সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষের আন্তরিকতার কারণে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে সীমান্ত চুক্তি হলেও সেটা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে দিল্লি সফরের সময় থেকে এই চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়। সে সময় থেকে দুই দেশের মধ্যে সহযোহিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়। তারপর এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষ কাজ করে। তারই ধারাবাহিকতায় মোদি সরকার এবার সীমান্ত চুক্তি বিল পাস করে।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫, ১২:৩৭ এ. এম.

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: