মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্রিটেনের নির্বাচনে বাংলার তিন কন্যার বিজয়

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫
ব্রিটেনের নির্বাচনে বাংলার তিন কন্যার বিজয়

সালাম মশরুর সিলেট অফিস ॥ বাংলার তিন কন্যা বাংলাদেশের গর্ব। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৩ কন্যার বিজয় বিশ্বসভায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। দুনিয়া জুড়ে প্রচার মাধ্যমে স্থান পাচ্ছে এই ভোটের খবর। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিজয়ী এই তিন কন্যা হলেন রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক। তারা ৩ জনই লেবার পাটির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটিয়ে অবশেষে তারা বিজয়ের স্বাদ নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। এই নির্বাচনে মূলধারার ৩টি রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোট ১২ জন প্রার্থী। লেবার পার্টি থেকে সর্বোচ্চ ৮ জন, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি থেকে ৩ জন এবং কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ১ জন। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে স্কটল্যান্ডের একটি আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পাওয়া ব্রিটিশ বাংলাদেশী সুমন হকের প্রার্থীতা নির্বাচনের পুর্বেই বাতিল করে দেয়া হয়। দলীয় ছাড়াও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নর্থ ওয়েস্টের রচডেল আসনে কাউন্সিলার ফারুক আহমদ এবং বেথনালগ্রীন এন্ড বো আসনে মোহাম্মদ রওশন আলী এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনে লড়েছেন মোট ১৩ জন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত প্রাথী। লেবার পার্টি থেকে বেথনালগ্রীন এন্ড বো আসনের বর্তমান এমপি রোশনারা আলী, ইলিং সেন্ট্রাল এন্ড একটন আসনে ড. রুপা হক, হ্যামস্টেড এন্ড কিলবার্ন আসনে টিউলিপ সিদ্দিক, বেকেনহান আসনে ব্যারিস্টার মেরিনা আহমদ, ওয়েলউইন এন্ড হাটফিল্ড আসনে ব্যারিস্টার আনওয়ার বাবুল মিয়া, রিগেইট এন্ড বানস্টেড আসনে আলী আখলাকুল, নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে আমরান হোসাইন, লিবারেল ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে নর্দাম্পটন সাউথ আসনে প্রিন্স সাদিক চৌধুরী, লুটন সাউথ আসনে আশুক আহমদ এমবিই, ওয়েলসের আর্ফন আসনে কাউন্সিলর মুহাম্মদ সুলতান এবং কনজারভেটিভ পার্টি থেকে বার্কিং আসনে মিনা রহমান। ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কৃতি সন্তান।

রুশনারা আলী ॥ ২৪ হাজার ভোটের বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের মেয়ে রুশনারা আলী। বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার পাটির প্রার্থী রুশনারা পেয়েছেন ৩২ হাজার ৩৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কনজারভেটিভ পাটির ম্যাথু স্মিথ পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৭০ ভোট। বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের ৮০ হাজার ভোটারের ৬৩.৯ শতাংশ এবার ভোট দিয়েছেন। বাঙালি অধ্যুষিত এ এলাকার ভোটাররা যে রুশনারাকেই আবারও পার্লামেন্টে পাঠাবেন এটা যেন আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। ভোটের ফলাফল থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে রুশনারা আলী দ্বিতীয়বারের মতো এমপি প্রার্থী ছিলেন। ইস্ট লন্ডনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত বেথনালগ্রীন এন্ড বো আসনে দেশটির প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি তাকে পূনরায় মনোনয়ন প্রদান করা হয়। ২০১০ সালে এই আসন থেকেই তিনি বিজয় লাভ করে ইতিহাস গড়ে ছিলেন। তার এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশীদের অভিষেক হয়েছিল। এবার রুশনারার সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের এই আসনটি ধরে রাখা। বেথনালগ্রীন এন্ড বো আসনকে বলা হয় লেবার পাটির সবেচেয়ে নিশ্চিত আসনের একটি। তবে ২০০৫ সালের নির্বাচানে ইরাক ইস্যু নিয়ে কথা তুলে এখানে তৎকালীন লেবার প্রার্থী উনা কিংকে হারিয়ে নির্বাচিত হোন রেসপেক্ট পাটির জর্জ গ্যালওয়ে। মূলত এই ইরাক ইস্যুর উপর ভিত্তি করে রেসপেক্ট পাটির জন্ম হয়। সেই হারানো আসনটি উদ্ধার হয় ২০১০ সালে বর্তমান এমপি রোশানারা আলীর হাত ধরে। একই সাথে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে নেন প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পদার্পন করে। বেথনালগ্রীণ এন্ড বো আসনে সর্বোচ্চসংখ্যক মুসলিম ও বাংলাদেশী ভোটারদের বসবাস। যা শুধু ইংল্যান্ড নয়, পুরো ব্রিটেনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই আসনে মোট জনসংখ্যা ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি। এরমধ্যে ভোটার হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার। ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার প্রার্থী রোশানারা আলীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২১ হাজার ৭৫৪। যা ছিল মোট ভোটের ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেট পাটির প্রার্থী বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আজমল মাসরুর। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০ হাজার ২১০। ঐ বছর তৃতীয়স্থান অধিকার করা রেসপেক্ট পাটির আবজল মিয়া পেয়েছিলেন ৮ হাজার ৫৩২ ভোট। এবার বেথনালগ্রীণ এন্ড বো আসন থেকে প্রার্থী ছিলেন বিভিন্ন দলকে মোট ১১ জন। কিন্তু মূলধারা দল থেকে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে লেবার পার্টি থেকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়েছেন রোশানারা আলী। ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ানের মতে, রুশনারা আলী দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলমান মহিলাদের মধ্যে অন্যতম। যিনি ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও যোগ্যতা রাখেন। বিলেতের সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম সুযোগ আসে ১৯৯৭ সালে পিটার শোর এমপির অবসর গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর প্রায় ১৪ বছর অপেক্ষার পরে বেথনাল গ্রীন ও বো আসন থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশী রুশনারা এমপি নির্বাচিত হন। সিলেটের বিশ্বনাথে ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণকারী রোশানারা মা বাবার সাথে মাত্র ৭ বছর বয়সে লন্ডনে আসেন। দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ডিগ্রিধারী রোশানারা আলী থিংক ট্যাংক সংস্থা ইয়ূথ ফাউন্ডেশনের এসোসিয়েট ডিরেক্টর ছিলেন। লেবার পাটির নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রভাবশালী একজন রুশনারা বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টারী ট্রেজারী সিলেক্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি লেবার পাটির শ্যাডো এডুকেশন মিনিস্টার ও শ্যাডো মিনিস্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

টিউলিপ সিদ্দিক ॥ কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের বিজয় দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। তাক লাগানো তাঁর এই বিজয় তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। লন্ডনের সবচেয়ে আলোচিত হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ২৩ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পাটির প্রার্থী সায়মন মার্কাস পেয়েছেন ২২ হাজার ৮৩৯ ভোট। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টির মাজিদ নাওয়াজ তিন হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ২৩ বছর ধরে লেবার পার্টির দখলে থাকা হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড কিলবার্ন আসনটি ধরে রাখা টিউলিপের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ কনজারভেটিভ পার্টি এবার এই আসনটিকে ‘টার্গেট সিট’ বানিয়ে ছিল।

লন্ডনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০টি আসনের শীর্ষে ছিল হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড কিলবার্ন। এ কারণে আসনটির প্রতি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টি ছিল ভিন্ন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জও ছিল অন্য রকম। হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড কিলবার্ন আসনে ১৯৯২ সাল থেকে লেবার পার্টির এমপি ছিলেন অস্কার জয়ী অভিনেত্রী গ্লেন্ডা জ্যাকসন। গত নির্বাচনে তিনি মাত্র ৪২ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। এই আসনে গতবার প্রধান তিনটি দলের মধ্যে লেবার পার্টি ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ, কনজারভেটিভ পার্টি ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৩১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পায়। যে কারণে আসনটিকে বলা হচ্ছিল ‘ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ আসন। গ্লেন্ডা জ্যাকসন অবসর নেয়ার ঘোষণা দিলে লেবার পার্টির স্থানীয় সদস্যদের ভোটে এ আসনে এমপি পদে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন পান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ। এবারই প্রথম এমপি পদে নির্বাচন করলেন তিনি। প্রথমবারেই পেলেন জয়। টিউলিপ ১৬ বছর বয়স থেকে হ্যাম্পস্টেড এ্যান্ড কিলবার্নে বসবাস করছেন। এই এলাকার স্কুলে পড়েছেন তিনি। কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলটির নতুন প্রার্থী টিউলিপ সিদ্দিক রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভোটের মাঠে নামেন। হ্যাম্পস্ট্যাড এ্যান্ড কিলবার্ন আসনে প্রায় ৮০ হাজার ভোটার রয়েছেন। ২০১০ সালে লেবার পার্টির প্রার্থী গ্লেন্ডা জ্যাকসন ১৭ হাজার ৩৩২ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২৩ বছর এমপি থাকার পর গ্লেন্ডা বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরের ঘোষণা দেন। ফলে আসনটিতে এমপি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আসে টিউলিপের। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে লেবার পার্টির স্থানীয় সদস্যদের ভোটে টিউলিপ হ্যাম্পস্ট্যাড এ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়ন লাভ করেন। শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিশুকাল কেটেছে ব্রুনেই, বাংলাদেশ, ভারত এবং সিঙ্গাপুরে। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গবর্নমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী টিউলিপ সিদ্দিক মাত্র ১৬ বছর বয়সেই লেবার পার্টির সদস্য হন। ২০১০ সালে লন্ডন বারা অব ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশী মহিলা হিসেবে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন টিউলিপ সিদ্দিক। পরে কাউন্সিলের সংস্কৃতি বিষয়ক কেবিনেট মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, গ্রেটার লন্ডন অথরিটি ও সেইভ দ্যা চিল্ড্রেন ফান্ড চ্যারিটির সঙ্গে কাজ করেন টিউলিপ। লেবার পার্টির লিডার এ্যাড. মিলিবান্ডের লিডারশিপ ক্যাম্পেইনে কাজ করেন তিনি। এছাড়া সাবেক এমপি উনা কিং, এমপি সাদিক খান, হ্যারি কোহেনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টিউলিপ সিদ্দিক ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনেও অংশ নেন। টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের ক্যামডেন এ্যান্ড ইজলিংটন এনএইচএস ট্রাস্ট (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস)-এর গবর্নর, রয়েল সোসাইটি অব আর্টর একজন ফেলো এবং কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য। স্থানীয় পত্রিকা হ্যাম্পস্ট্যাড ও হাইগেইট এ-প্রেসের নিয়মিত লেখক টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটেনের প্রভাবশালী একশ বাঙালীর তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর।

রূপা হক ॥ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রূপা হক। ৪৩ বছর বয়সী রূপা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল এ্যান্ড অ্যাকটন আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। নির্বাচনে লেবার প্রার্থী রূপা পেয়েছেন ২২ হাজার ২ ভোট। আর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী এনজি ব্রে পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০১ ভোট। রূপা ২০০৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০১০ সালে লন্ডন বারা অব ইলিংয়ের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

লন্ডনে লেবার পার্টির অন্যতম ‘টার্গেট সিট’ ইলিং সেন্ট্রাল এ্যান্ড একটন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে এই আসন ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। গতবার রীতিমতো লড়াই করে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কাছে হেরে যান লেবার পার্টির প্রার্থী। এবার এই লড়াইয়ে লেবার দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত কিংষ্টন ইউনিভার্সিটির লেকচারার বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ড. রূপা হক। আসনটি ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। ইলিং সেন্ট্রাল হচ্ছে লন্ডন বারা অব ইলিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একটন হচ্ছে লন্ডনের অন্যতম ডিস্ট্রিক্ট টাউন। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মিলে গঠিত হয়েছে ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন নির্বাচনী আসন। এই আসনে ২০১০ নির্বাচনে বিজয়ী হোন কনজারভেটিভ পার্টির এনগি ব্রে। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ৯ শ’ ৪৪ ভোট। যা নিকটতম লেবার প্রার্থীর চেয়ে ৩ হাজার ৭শ’ ১৬ ভোট বেশি ছিল। এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন ড. রূপা হক। এর আগে ২০০৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি লন্ডনের চেশাম ও এমারশাম আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিংষ্টন ইউনিভার্সিটির সোশ্যালজির সিনিয়র লেকচারার রূপা হকের জন্ম ইলিংয়ে ১৯৭২ সালে। লেবার পার্টির প্রার্থী রূপা হক এক সময় ইলিং বারা কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। লেখক, কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ রূপা হক ১৯৯৩ সালে ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পলিটিক্যাল, সোশ্যাল সায়েন্স ও আইন বিষয়ে গ্রাজুয়েট ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি কালচারাল স্টাডিজের উপর ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। রূপা হক মানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতেও দীর্ঘদিন লেকচারারের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫

০৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: