আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মা দিবস ও আজকের প্রেক্ষাপট

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫
  • রহিমা আক্তার

‘ভাল বেতনে চাকরি করছ, অথচ এখনও ফ্ল্যাট কিনতে পারনি। এমনকি ঘরে একটা এসিও লাগওনি’, আত্মীয়তার সূত্রধরে অনিককে কথাগুলো বলছে তার পরিচিত একজন। উত্তরে অনিক বলছে, ‘আগে বাবা-মাকে হজ করাতে নিয়ে যাব। বাবা-মায়ের ঘরে এসি লাগাব, তারপর আমার ফ্ল্যাট আমার এসি।’ এমন সন্তানের কথা শুনলে গর্বে বুক ভরে যায়। সৃষ্টিকর্তার কাছে দুহাত তুলে মায়ের আকুতিÑ ‘আমার সন্তানকে ভাল রেখ।’

‘মা তুমি সকাল সকাল রেডি হয়ে থাকবে। আশ্রম থেকে ওরা আসবে তোমায় নিতে। তুমি যাবে, তাই তোমার বউমা আজ অফিসে যাবে না। দেরি করলে অসুবিধা হবে। কাল আবার ও ছুটি নিতে পারবে না।’ অতি আদরের সন্তান মায়ের দায়িত্ব পালন করতে পারে না বলে মাকে আশ্রমে পাঠায়। মায়ের তেমন বলার কিছু নেই। সন্তান যা বলে তাই করবেন তিনি।

‘আমার যত কষ্টই হোক তোমরা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমি আরও ধৈর্য্য ধরব। সব মেনে নেব। তবুও তোমরা বড় হও। লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হও। তোমাদের জন্য সব সহ্য করতে পারব।’ সন্তানরা বড় হবার পর অনেকটা অভিমান নিয়ে সেই মা চলে যান আশ্রমে। সেখান থেকেও অতি আদরের মানিকদের জন্য দোয়া করেনÑ আমার সন্ত্রানরা যেন ভাল থাকে।

১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলস্ন মে মাসের ২য় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন। তবে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড মে মাসের চতুর্থ রবিবার ‘মাদারিং মানডে’ পালন করা হয়। এরও অনেক আগে মা দিবস নিয়ে আলোচনা হয়। মা দিবসটির সূচনা প্রাচীন-গ্রিসের মাতৃ-আরাধনার প্রথা থেকে। গ্রিক দেবী সিবেলের সম্মানে একটি উৎসব পালন করা হতো। মার্চ মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে হতো উৎসবটি। মায়েদের জন্য উপহার কেনা হতো, দেয়া হতো, সামাজিক অনুষ্ঠানও হতো। এটি ছিল খ্রীস্টান সম্প্রাদায়সহ অন্যান্য সম্প্রাদায়ের পঞ্জিকার একটি অঙ্গ।

প্রায় দেড়শ’ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামে এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তাঁর মেয়ে আনা মারিয়া জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ১৯০৭ সালের এক বরিবার আনা মারিয়া তাঁর সানডে স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। ১৯২২ সালে আনা জারভিস আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস সমিতি স্থাপন করেন। তখন থেকেই মে মাসের ২য় রবিবার মাতৃদিবস পালন করা হচ্ছে।

এই বছর ১১ মে বিশ্ব মা দিবস। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার অঙ্গরাজ্য গ্রাফটনে সর্ব প্রথম মা দিবস ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়। এ কৃতিত্বের দাবিদার আনা জারভিস। পরে সরকারিভাবে মাতৃদিবসটি পালনের জন্য ছুটির দিনটি বাণিজ্যিক হয়ে পড়ে। বাণিজ্যিক স্বার্থে মাতৃদিবসকে কাজে লাগানোর প্রতিবাদে আনা বহু সমালোচনা করেন। হাতেলেখা চিঠি না লিখে কার্ড কেনার নতুন প্রথাকে তিনি আলসেমি হিসেবে গণ্য করেন। প্রতিবাদের জন্য এক সময় তাকে কারাবরণও করতে হয়। সেই সঙ্গে বাঙালীর জীবনে মা একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে আবির্ভূত হয়। বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে মা দিবসটি পালিত হবে। তবে আমাদের কাম্য হবে, এটাকে বাণিজ্যিক বা লোক দেখানো হিসেবে না নিয়ে মায়ের প্রতি ভালবাসা হৃদয় থেকে উপচে পড়ার মাধ্যমে। অটুট রাখার এই বন্ধন। সন্তান তার দায়িত্ব পালন করবে। সৃষ্টি থেকেই তো জেনেছি-শুনেছি, এখন মানি যে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত। তাই ঢাক-ঢোল নয়। স্নেহ বন্ধনের মাঝে থেকেই পালিত হোক বিশ্ব মা দিবস, যা আজকের প্রেক্ষাপটকে সুন্দর ও সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

প্রকাশিত : ৮ মে ২০১৫

০৮/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: