আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিএনপির সিটি নির্বাচন বর্জন পূর্বপরিকল্পিত ॥ ডকুমেন্ট ফাঁস

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫
বিএনপির সিটি নির্বাচন বর্জন পূর্বপরিকল্পিত ॥ ডকুমেন্ট ফাঁস
  • খালেদার নির্দেশ জানিয়ে শিমুল বিশ্বাস ও মওদুদের ফোনালাপ
  • নজরুল ইসলাম খান ও জনৈক নেতার ফোনালাপ

রাজন ভট্টাচার্য ॥ পরিকল্পিতভাবেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দুই শীর্ষ নেতার ফাঁস হওয়া টেলিফোন আলাপ, তাদের তিন মেয়র প্রার্থীর বিপুল পরিমাণ ভোট পাওয়া, কাউন্সিলর সমর্থিত প্রার্থীদের অনেকের বিজয়সহ চট্টগ্রামের মনজুর আলমের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাই এর বড় প্রমাণ। তাছাড়া তড়িঘড়ি করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার বিষয়টিকে ভালভাবে দেখেনি পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে শুরু করে কূটনীতিকরা। উল্টো তারা সমালোচনা করেছেন। এতে হিতে বিপরীত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোটের জন্য। দলের নেতাকর্মীরাও এ ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে নাখোশ। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা এজেন্টদের অনেকেই এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এ কৌশল নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। এই অজুহাতে ফের সহিংস আন্দোলনসহ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামার পথ তৈরি করতে তারা এ কাজ করে। তাদের ধারণা, এতে আন্দোলনে জনসমর্থন বাড়বে। বাধ্য হয়ে নির্বাচন দেবে সরকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাজধানীতে যেসব কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে এর বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। জাল ভোট দেয়ার ঘটনা খুবই নগণ্য। অনেক কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে কোন এজেন্টই ছিল না। যারা ছিলেন, ভোট বর্জনের পর দলের প্রতি নাখোশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগের খুব একটা সত্যতা মেলেনি। এই প্রেক্ষাপটে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি তথা ২০ দলের রাজনৈতিক স্বার্থ খুব একটা হাসিল হবে বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন বর্জনের সমালোচনা করে, দলটির পক্ষ থেকে আনা কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কারচুপি হলে তাদের মেয়র প্রার্থীরা লাখ লাখ ভোট পেলেন কী করে? বুধবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে বাস পোড়ানোয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও বলেন, তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মানুষ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বিএনপির প্রতি এখন কেবলই ঘৃণা দেখাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষের পেটে লাথি মারে, পুড়িয়ে মারে তাদের প্রতি কেবল ঘৃণা, ঘৃণা আর ঘৃণা। কারচুপি করে কারও ভোট কেড়ে নেয়া হয়নি। তাদের মেয়র প্রার্থীরা লাখ লাখ ভোট পেয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে কোন মানুষ ভোট দিতে যেতে পারেনি। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, মিরপুর, মাগুরার উপ-নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ভোট শুরুর আগেই বর্জনের পরিকল্পনা ॥ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি ভোট শুরুর আগেই চূড়ান্ত করা হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া দু’টি টেলিফোন সংলাপে। মঙ্গলবার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর পরই ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু করে ব্লগে কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়া প্রথম টেলিসংলাপটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মী পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তির। যিনি নির্বাচনের মাঠ জরিপের দায়িত্বে ছিলেন বলে মনে হয়েছে।

বিএনপি কর্মী :- হ্যালো সালামুয়ালাইকুম স্যার।

নজরুল ইসলাম খান :- ওয়ালাইকুম সালাম। আপনি কোথায়?

বিএনপি কর্মী :- আমি তো সিদ্ধেশ্বরী তে স্যার।

নজরুল ইসলাম খান :- সিদ্ধেশ্বরীতে, কাজে নাকি?

বিএনপি কর্মী :- কাজে মানে, নির্বাচনী কাজেই আর কি! আপনি তো হাসপাতালেই আছেন স্যার?

নজরুল ইসলাম খান :- হাসপাতালেই তো, আমাকে এখানে বসায় দিয়ে উনি বাসায় গেল।

বিএনপি কর্মী :- সে তো আমি জানি আর কি।

নজরুল ইসলাম খান :-আমার পরশু দিন হয়ত একটু ব্যাংকক যাওয়া লাগতে পারে।

বিএনপি কর্মী :- তাই না?

নজরুল ইসলাম খান :- হ্যাঁ

বিএনপি কর্মী :- (ও স্যার ব্যাংককে যাবেন)। সাডেনলি রাজনৈতিক তথ্য স্যার ঠিক আছে। মাঠ জরিপে আমার কাছে আপডেট যে তথ্য রয়েছে, তাতে নির্বাচনের দিন ১০-১১টার দিকে যদি আমাদের নির্বাচন বর্জন করতে হয়, সেক্ষেত্রে একদিন আগেই উইথড্র করলে আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগে মাঠে মারামারি করে বিশৃঙ্খলা করবে। আমাদেরকে সুযোগ গ্রহণ করতে হবে, এভাবেই ম্যাডামকে পরামর্শ দিয়ে আমি মনে করি যুগোপযোগী ডিসিশন নেয়া যাবে। ... নির্বাচন, স্যার নির্বাচনের দিন যদি নির্বাচন বয়কট করা হয়, হতে পারে যদি, ঠিক আছে (হ্যাঁ) তাহলে সেটা যদি আগের দিন আগেভাগে করা যায় আর কি। একটু সুযোগ পাইলে আওয়ামী লীগের লোকই এখন মাঠে মারামারি করে আর কি, সেই রকম একটা পরিবেশ তৈরি আছে।

নজরুল ইসলাম খান :- আচ্ছা। মানে কতটুকু নিশ্চিত আছেন এইটা আর কি?

বিএনপি কর্মী :- একশ পার্সেন্ট, কোটি পার্সেন্ট স্যার। আমার মতো এ রকম একজন রুট লেভেলের কর্মী স্যার, একদম ফিল্ডের রুট লেভেলের পার্টির নিউজ স্যার এইটা।

নজরুল ইসলাম খান :- হ্যাঁ।

বিএনপি কর্মী :- এই হলো ব্যাপার স্যার।

নজরুল ইসলাম খান :- আচ্ছা, দেখা যাক আর কি।

বিএনপি কর্মী :- ঠিক আছে স্যার, ঠিক আছে। সালামুয়ালাইকুম স্যার।

মওদুদ-শিমুল ও তাবিথের ফোনালাপ ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে মেয়র নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ফোনালাপের মাধ্যমে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের কাছে ভোট বর্জনের নির্দেশনাটি পৌঁছে দেন। এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। নির্বাচন বয়কট প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার নির্দেশনা সংক্রান্ত ওই অডিও রেকর্ডের আলোচনা তুলে ধরা হলো।

মওদুদ আহমদ :- হ্যালো শিমুল

শিমুল বিশ্বাস :- স্যার, কার সাথে কথা বললেন স্যার।

মওদুদ আহমদ :- আমি তাবিথের সাথে কথা বললাম। ওর আব্বা বলল উইথড্র করে ফেলেন। ওর আব্বার কথায় উইথড্র করব না। তবে ওর আব্বার কথা এ্যাকসেপ্ট করছি...

শিমুল বিশ্বাস :- না ঐ নাগরিক কমিটি এবং আব্বাস ভাই উইথড্র করার কথা বলতেছে।

মওদুদ আহমদ :- সবাই বলেছে। তারপরও একটা কথা থেকে যায় তাবিথ তো ক্যান্ডিডেড। তাবিথেরও একই মত। কিন্তু ও বলছে আমাকে একটু সময় দেন, আমি কল ব্যাক করছি আপনাকে। তো যাই হোক...

শিমুল বিশ্বাস :- আমার মনে হয় স্যার আর সময় দিয়েন না স্যার। ম্যাডামকে বলেছি, ম্যাডাম বলল- উইথড্র করার দিকে চলে যান।

মওদুদ আহমদ :- আচ্ছা আর কোন প্রোগ্রামের উক্তি দিব না।

শিমুল বিশ্বাস :- উইথড্র করার ঘোষণা দিয়ে দেন স্যার।

মওদুদ আহমদ :- আর কোন, অন্য কোন...

শিমুল বিশ্বাস :- আর কোন প্রোগ্রামের এখন কোন দরকার নেই স্যার।

মওদুদ আহমদ :- ওকে। তাহলে ম্যাডাম হ্যাজ এ্যাগ্রিড

শিমুল বিশ্বাস :- রাইট স্যার।

মওদুদ আহমদ :- সো উয়ি আর গোয়িং এহেড

শিমুল বিশ্বাস :- জি

মওদুদ আহমদ :- আচ্ছা ওটা কি আমরা গুলশান অফিসেই করব?

শিমুল বিশ্বাস :- না স্যার, সবগুলো একসাথে করেন। ঐ নাগরিক অন্দোলন..

মওদুদ আহমদ :- না না ওদেরকে তো ডাকব...। হান্নান বলেছে আমার পক্ষে আসাটা সম্ভবপর নয়।

শিমুল বিশ্বাস :- একখানে হয়ে করেন স্যার।

মওদুদ আহমদ :- কোথায় করব? একটা মতামত দেও?

শিমুল বিশ্বাস :- আমাদের কোন মতামত নেই। কেন্দ্রীয় বিএনপি অফিসে করতে পারেন। সেটা ভাল হয়।

মওদুদ আহমদ :- সেখানে তো আবার আমরা কি করে যাব ওখানে?

শিমুল :- তাহলে স্যার আপনি সেটা বলেন, সবার সাথে কথা বলেন স্যার।

মওদুদ আহমদ :- না, সবাই তো রাজি আছে। এখানেই আসার জন্যও রাজি আছে।

শিমুল :- এখানে করলে কোন অসুবিধা নেই।

মওদুদ আহমদ :- না তোমার কি মত?

শিমুল :Ñ আমার কোন মতামত নেই। আপনি যেটা নিবেন সেটাই। যেখানে সুবিধা হয় যেখানে সবার আসতে সুবিধা হয়।

মওদুদ আহমদ :- হয় এখানে করতে হবে না হয় পল্টনে করতে হবে। এই দুটাই তো জায়গা। আর তো জায়গা নেই।

শিমুল :- পল্টনে যেতে পারলে ভাল হয় স্যার।

মওদুদ আহমদ : - আচ্ছা দেখি আমরা সবাই কি হয় দেখি।

শিমুল :- স্যার

মওদুদ আহমদ :- আচ্ছা আচ্ছা

শিমুল :- আসলামালাইকুম

মওদুদ আহমদ :-হ্যা ওয়ালাইকুম আসসালাম

দুটি টেলিফোন আলাপের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় বেলা সোয়া ১২টার মধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয় বিএনপির পক্ষ থেকে। এর আগে সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম। শুধু তাই নয় কেঁদে কেঁদে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ঘটলেও বর্জন করার মতো বিষয় ছিল না। দলের পক্ষ থেকে অনেকটা চাপ সৃষ্টি করেই তাঁকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। হয়ত এ কারণেই রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচন বর্জন পূর্ব পরিকল্পিত দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হওয়ায় বিএনপির পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে না এসে তারা (বিএনপি) ভুল করেছিল। সেই না আসার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল প্রমাণ করতে তারা ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জন করেছে। কিন্তু সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা সফল হয়নি। বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া পূর্ব পরিকল্পিত। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের একটি ‘কল রেকর্ড’ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি মাঠ পর্যায়ের একজন নেতার সঙ্গে আলাপ করছেন ‘নির্বাচনের দিন ভোট বর্জন করা ভাল হবে, নাকি আগের দিন বর্জন করলে ভাল হবে’। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাবিথ নির্বাচন থেকে সরে যেতে চায়নি, মওদুদ আহমদ তাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছেন।

এদিকে ভোট জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে ভোটের দিন সকাল সকাল নির্বাচন বর্জন করল বিএনপি। প্রশ্ন হলো তাহলে এত ভোট পেল কি করে দলটি। নির্বাচিত বিএনপির কাউন্সিলরদের অনেকে বলছেন, ভোট সুষ্ঠু হওয়ার কথা। যা হয়েছে তা সব নির্বাচনেই হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে জয়ী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন মোট ৭১৯টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট পান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম কমলা লেবু প্রতীকে পেয়েছেন ৩ লাখ চার হাজার ৮৩৭ ভোট। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক ৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল বাস প্রতীকে পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন। ৮৮৯টির মধ্যে ৮৮৬ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলে ইলিশ প্রতীকের সাঈদ খোকন পেয়েছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৬ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস মগ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৯১ ভোট।

বিএনপির তৃণমুলের কর্মী থেকে শুরু করে নেতাদের অনেকে মনে করেন, নির্বাচন বর্জণের ঘোষণা দেয়া মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। দলের সমর্থন পেয়ে মেয়র প্রার্থীরা যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন এই বাস্তবতায় দিনভর ভোট শেষে ফলাফল নিজেদের ঘরে নেয়ার বিষয়টি অমূলক ছিল না। তাছাড়া তিনি সিটির কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত অনেকেই বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি-সমর্থিত একজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অথচ, নির্বাচন নিয়ে তাঁর দলের অবস্থান ঠিক উল্টো। ওই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর নাম সাজ্জাদ হোসেন। ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে ১৪ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়েছেন তিনি। ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কিমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, পাঁচ ভাগ ভোটারও ভোট দেননি। অথচ তিনি সিটিতে তাদের মেয়র প্রার্থীরা পেয়েছেন কাস্ট হওয়া ভোটের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন বলছেন, ৪৪ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

সাঈদ খোকনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন না করলে তাদের পক্ষে আরও বেশি ভোট পড়তো। কিন্তু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পূর্ব পরিকল্পিত নাটক মঞ্চস্থ করেছে। আসলে জনগণ দ্বারা ধিক্কৃত হয়ে গণবিচ্ছন্ন হয়ে হতাশায় ভুগছে বিএনপি। বিএনপির নীল নকশার কারণে চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম নির্বাচন থেকেই শুধু নয়, রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সিটি নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছিল। একটি সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়ায় নির্বাচন কমিশনসহ সং্িশ্লষ্টদের ধন্যবাদ দেন কামরুল।

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

৩০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: