কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বোরো ধানের শীষ মরা রোগ

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫
  • শেরপুরে দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর, ২১ এপ্রিল ॥ খাদ্য উদ্বৃত্ত অঞ্চল শেরপুরে এবার চলতি বোরো আবাদে ধানের শীষ মরা রোগ মহামারী আকার ধারণ করেছে। এতে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫শ’-৬শ’ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বোরো আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আর দিশেহারা হয়ে পড়ছেন এলাকার কৃষক। জানা যায়, সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই বোরো আবাদে ওই রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রি-ধান ২৬ ও ব্রি-ধান ২৮ জাতের ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। কৃষিবিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় প্রায় ৫০-৬০ হেক্টর জমিতে ওই রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ একর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষিবিভাগ বলছে, এটি ধানের নেক ব্লাস্ট রোগ।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তিনি ৮ একর জমিতে ব্রি-ধান ২৬ ও ২৮ জাতের লাগিয়েছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখন প্রায় ৬ একর জমির ধানের শীষ সম্পূর্ণরূপে মরে গেছে। এতে ধান কাটা ও মাড়াই খরচও উঠবে না। কৃষক নজরুল ইসলাম, ইমান আলী, জয়নুদ্দিন বলেন, ধানের শীষ মরা রোগ প্রতিরোধের জন্য এমিস্টার টম, জেলি ও ট্রুপার নামক ছত্রাকনাশক বোরো ক্ষেতে স্প্রে করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। ক্ষেতের সব ধান মরে গেছে। তারা বলেন, আয়ের আর কোন পথ না থাকায় প্রকৃতি নির্ভর ওই আবাদে আমরা বিরাট মাইর খাইছি। হাতের টাকা খরচ করে বোরো ধান লাগাইছি। কেউবা ঋণ-ধার করে আবাদ করছে। পুরো আবাদই নষ্ট হওয়ায় এখন তাদের আর কোন উপায় নেই। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীরা পড়েছে মহাবিপাকে।

একই অবস্থা বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায়। এ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১২ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমি। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয় ১৩ হাজার ৯শ’ ২০ হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশায় বুক বাঁধে কৃষক ও কৃষিবিভাগ। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই নেকব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে বোরো আবাদ। উপজেলার প্রায় সর্বত্রই বোরো ধানের ক্ষেতে ব্যাপক আকারে ওই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া শ্রীবরদী, নকলা ও শেরপুর সদর উপজেলার কিছু কিছু এলাকাতেও ওই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: