আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুই শতাধিক গাছ ভাগ বাটোয়ারা

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫
  • শরীয়তপুর- চাঁদপুর সড়কে দরপত্র ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ২০ এপ্রিল ॥ উন্নয়নমূলক কাজের অজুহাতে শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাপরাইল থেকে ভেদরগঞ্জ বাজার পযর্ন্ত দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার রাস্তার পাশের দু’শতাধিক গাছ কেটে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই গাছ কাটার জন্য কোন প্রকার দরপত্র ছাড়াই ঠিকাদারের লোক দিয়ে গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত রাস্তার মেরামত প্রকল্প এলাকা থেকে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে তার কোন সঠিক হিসেব দিতে পারেনি স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাপরাইল গ্রামের পূর্ব পাশ থেকে ভেদরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার রাস্তা ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। রাস্তাটি ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বাবুল খানের মৎস্য খামারের পশ্চিম পাশ থেকে ভেদরগঞ্জ বাজারের দিকে ১৮শ’ মিটার ব্লক দিয়ে সড়ক সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। চলতি বছরের ফেব্রয়ারি মাসে দরপত্র মোতাবেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলে রাস্তার ওপর থাকা মেহগণি, শিশু, কড়ই গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দু’শতাধিক গাছ কেটে তা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গাছগুলো কেটে ’স মিলে বিক্রি করা হয়েছে। নামমাত্র কয়েকটি গাছ অফিসে আনা হলেও বাকি গাছগুলো বিক্রি করে ভাগ বাটোয়ারা করেছে ওই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাউকে গাছ আবার কাউকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে।

রাস্তার মাটির কাজের ঠিকাদার আঃ রব মোল্যা জানান, আমরা গাছ কেটে গাড়িতে করে অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। আবার অনেক গাছ চুরি হয়ে গেছে। কিছু মরা গাছ ছিল সেগুলো এলাকার লোকজন নিয়ে গেছে। শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, এ কাজটি হয়েছে আমি এ স্টেশনে যোগদান করার আগে। আমি কয়েক মাস হলো যোগদান করেছি। কিভাবে গাছ কাটা হয়েছে আমি তা জানি না। কি পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তার কোন তথ্য দফতরে পাইনি। তখন যারা এ প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করেছে তারা অনেকেই বদলি হয়ে গেছে। তবে শুনেছি প্রকল্প এলাকায় কিছু গাছ কাটা হয়েছে এবং সেগুলো অন্যান্য প্রকল্প এলাকা থেকে এনে মজুদ করা গাছের সঙ্গে একত্রে রাখা হয়েছে। গাছের বিষয়ে অভিযোগগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

রাজশাহীতে বন বিভাগের

গাছ বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, গোদাগাড়ী উপজেলা বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি ইউনিয়নে রাস্তায় ঝড়ে পড়া সামাজিক বনায়নের গাছ স’মিলে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বন সংরক্ষণ কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই তিনি স’মিলে গাছ ও গাছের ডালপালা বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে দাবি থাকলেও গাছ বিক্রির টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দুটি ইউনিয়ন পরিষদ ও উপকারভোগীরা। জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় ২০১১ সালে উপজেলার জামাদান্নি থেকে হাবাসপুর ও হাবাসপুর থেকে কানাইডাঙা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগায় বন বিভাগ। দুটি কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় ২৩ উপকারভোগী নিয়ে গাছগুলো লাগানো হয়। জামাদান্নি থেকে হাবাসপুর পর্যন্ত এলাকাটি মাটিকাটা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। আর হাবাসপুর থেকে কানাইডাঙা পর্যন্ত এলাকাটি পড়েছে গোদাগাড়ী সদর ইউনিয়নে।

এলাকাবাসী জানায়, গত ৪ এপ্রিলের ঝড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার শতাধিক গাছ উপড়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী ঝড়ে পড়া এসব গাছ প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা। গাছ বিক্রির ৬০ ভাগ উপকারভোগী, ২০ ভাগ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও ২০ ভাগ বনবিভাগ পাওয়ার কথা। কিন্তু উপকারভোগীদের অভিযোগ, নিলাম ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে স’মিলে। অথচ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না সদর ও মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এর সত্যতাও স্বীকার করেছেন স’মিল মালিক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারী রাস্তার গাছ হওয়ায় তিনি সেগুলো প্রথমে কিনতে চাননি। কিন্তু গাছ বিক্রি করতে যাওয়া শ্রমিকরা জানায়, স্থানীয় বন কর্মকর্তাই গাছগুলো বিক্রি করছেন। এ কারণে তিনি লাকড়ির দরে প্রায় ৯০ মণ কাঠ কিনেছেন।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: