মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চসিক নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদ ছাড়লেন মনজুর

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫
চসিক নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদ ছাড়লেন মনজুর
  • নগর আওয়ামী লীগের সভায় নাছিরের পক্ষে একত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত

মোয়াজ্জেমুল হক/হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এম মনজুর আলম পদত্যাগ করেছেন। আসন্ন মেয়র নির্বাচনে পুনরায় অংশ নিতে বিএনপির সমর্থনে এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগের পর পরই তিনি মেয়র পদের প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে চসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হয়েছেন ১নং প্যানেল মেয়র আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। উল্লেখ্য, পদে থেকে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধি বিধান না থাকার কারণে পদত্যাগে বাধ্যবাধকতা থাকায় মনজুর আলম পদত্যাগ করেছেন। তবে এ পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা কাউন্সিলদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

কর্পোরেশন সূত্র জানায়, আসন্ন মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে শুক্রবার মনজুর আলম দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র দাখিলের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন চসিক প্যানেল মেয়রের নিকট। এর পর পরই তিনি সরাসরি আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের ব্যানারে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মনজুর আলম। তাঁর এই মনোনয়নপত্র গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হলো।

এদিকে বেলা ৩টায় কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানদের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এম মনজুর আলম বলেন, মেয়র হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হয়েছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আবারও আমি নগরবাসীর দোয়া চাই। এরপর নির্বাচন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণকালে তাঁর সঙ্গে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে জনগণের মধ্যে ভোট না দিতে পারার যে ক্ষোভ রয়েছে তা আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি এম মনজুর আলমকে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, এম মনজুর আলম বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম এর আগে দুপুরে জুমার নামাজ শেষে আমানত শাহ মাজারে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি আসেন সিটি কর্পোরেশনে। সেখানে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলমের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করে সম্মেলন কক্ষে যান। সংক্ষিপ্ত এক আয়োজনে মেয়রের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন প্যানেল মেয়র ও ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের কাছে। তারপরই নগরীর জুবিলী রোডে অবস্থিত আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল বাতেনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র নেন।

চসিক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিদায়ী মেয়র এম মনজুর বলেন, ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ওই বছরের ১৮ জুলাই আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। প্রায় ৫৭ মাস এ দায়িত্বে থেকে নগরীর উন্নয়নে যথাসাধ্য কাজ করেছি।

বিদায়ী মেয়র মনজুর আলম বলেন, আমি বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের পূর্বে লাভজনক পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। সে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি এ পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। এ সময় তিনি সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সির, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রধান ক্ষোভটি হলো দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোট দিতে পারেননি। এবার তাদের ভোট দেয়ার একটি সুযোগ এসেছে। জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সে সুযোগ কাজে লাগাবে।

৯ দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৬২৫ ॥ সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণের ৯ম দিন শুক্রবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ২ মেয়র, ৭ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ২৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। এদিন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী এম মনজুর আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়ায়েজ উদ্দিন ভুঁইয়া। এ নিয়ে মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলেন মোট ৬২৫ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ১৫ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮৭ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৫২৩টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়।

নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ॥ শুক্রবার বিকেলে দারুল ফজল মার্কেট কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠন সভাপতি আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতভাবে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থনে একজন করে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে ৪১ ওয়ার্ডে ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিএনপিরও অবস্থা একই। তবে সংরক্ষিত ১৪ পদে বিএনপির ১৪ জনের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র পদপ্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। তিনি এ লক্ষ্যে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন গতিশীল করতে এবং নগরবাসীর দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে আ জ ম নাছির উদ্দিনকে বিজয়ী করতে হবে।

রাজনীতির পূর্বশর্তই সেবা করাÑ আ জ ম নাছির ॥ শুক্রবার চট্টগ্রাম পলিটেকনিক কলেজের প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা। যেখানে আপামর জনগণই সর্বময় ক্ষমতার উৎস। সুতরাং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনীতির পূর্বশর্তই হচ্ছে জনগণ সংশ্লিষ্টতা। জনমানুষের কল্যাণে, জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনীতি ধারার মূল নিয়ামক। তিনি বলেন, জাতির জনকের অপূর্ণ স্বপ্ন অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লড়াইয়ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ইমাজিন টাইগার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সরকারের এই অভূতপূর্ব সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে তথা ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের দল, মত নির্বিশেষে একই পতাকা তলে দাঁড়াতে হবে।

ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে ও প্রবীর পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমএ লতিফ এমপি, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর পরিচালক বাবুল আলী, কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক অধ্যক্ষ আবদুল মালেক, ফাতিমা নার্গিস চৌধুরী, আবদুস সবুর, এম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: