আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আধুনিক গণনা পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অনেক কম হতে পারে

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫
আধুনিক গণনা পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘের  সংখ্যা অনেক কম  হতে পারে
  • ‘ক্যামেরা ট্র্যাপের’ শুমারির ফল জানা যাবে জুনে

বাবুল সরদার, বাগেরহাট থেকে ॥ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনে এবার বাঘের সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় অনেক কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি মার্চ শেষে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে বাঘের ছবি সংগ্রহের জরিপ শেষ হবে। এরপর জুন মাসে এই জরিপের ফল ঘোষণা করা হবে। তখনই সুন্দরবনে বাংলাদেশ অংশে প্রকৃতপক্ষে বাঘের সংখ্যা জানা যাবে। এই আধুনিক পদ্ধতিতে বাঘ গণনা জরিপে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাঘের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম হবে। ‘পায়ের ছাপ’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ অংশে যখন বাঘ ছিল ৪৪০, তখন ভারত অংশে দেখা গেছে ২৭০। ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে এখন ৭৬ বাঘ নিরূপণ হয়েছে ভারতের সুন্দরবন অংশে। সে হিসেবে বাংলাদেশেও বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। শুধু গণনার প্রদ্ধতিগত কারণে নয়, প্রতিনিয়ত বাঘ হত্যার পাশাপাশি বাসস্থান ধ্বংস, খাদ্য সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানামুখী প্রতিকূলতায় বাঘের সংখ্যা কমছে বলে তাঁদের ধারণা।

সারাবিশ্বে গত এক শ’ বছরে বাঘের সংখ্যা এক লাখ থেকে কমতে কমতে চার হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে মাত্র ১৩ দেশে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবির বলেন, ২০০৪ সালে বাঘের ‘পায়ের ছাপ’ পদ্ধতির গণনাটি কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকায় ওই জরিপটি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়নি। পরবর্তীতে ভারত ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে তাদের সুন্দরবন অংশে বাঘ গণনা করে। ভারতের সুন্দরবন অংশে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে গণনা শেষ হয়েছে। ‘পায়ের ছাপ’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ অংশে যখন বাঘ ছিল ৪৪০, তখন ভারত অংশে দেখা গেছে ২৭০। আর ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে এখন ৭৬ বাঘ পাওয়া গেছে ভারতের সুন্দরবন অংশে। সে হিসেবে বাংলাদেশেও বাঘের সংখ্যা কমে আসা অস্বাভাবিক নয়।

বাঘশুমারি বাস্তবায়নের অন্যতম বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবির জানান, বাঘ গণনায় বিশেষ ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাঘের চলাচলে এলাকা শনাক্ত করে গোপনে গাছে লাগিয়ে রাখা হয়। ক্যামেরার সামনে যা কিছুই নড়াচড়া করবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারই ছবি ধারণ করবে। ভারতে যে বিশেষজ্ঞরা গণনা করেছেন, বাংলাদেশে গণনায়ও তাঁরা সহযোগিতা করছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সুন্দরবন রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান সরদার সফিউল আলম বলেন, শুমারির পদ্ধতিগত কারণেই শুধু নয়, প্রতিনিয়ত বাঘ হত্যার কারণেও বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে ‘পায়ের ছাপ’ পদ্ধতির চেয়ে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপ’ প্রদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অনেক বেশি। তিনি বলেন, বাঘ এখন বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী। এখনই বাঘ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেয়া না হলে সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

০৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: