কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সহিংসতা সৃষ্টিকারীকে শাস্তি দিতে হবে আইনের আওতায়

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • একান্ত সাক্ষাতকারে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ॥ আইন সংস্কারের কাজে ব্যস্ত আইন কমিশন

বিকাশ দত্ত ॥ দেশে বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে এক ধরনের সহিংসতা চলছে। সহিংসতা সৃষ্টিকারী দুষ্কৃতকারীরা যেই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। পৃথিবীর অনেক জায়গায় গৃহযুদ্ধ হয়েছে, তারা তাদের সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেছে। আমাদেরও তা করতে হবে। পাশাপাশি রাম ব্যতীত যেমন রামায়ণ লেখা সম্ভব নয়, প্রিন্সেস অব ডেনমার্ককে বাদ দিয়ে যেমন হেমলেট নাটক অভিনয় করা সম্ভব নয়, তেমনি একুশের প্রথম প্রহর যাদের জন্য এই রাতে তাঁদের বাদ দেয়াটাও ভাল দেখায় না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক প্রদান ও সম্মান প্রদর্শনের পর পরই যে সমস্ত ভাষাসৈনিক এখনও জীবিত আছেন বা যে সমস্ত ভাষাসৈনিক প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের পুত্র-কন্যা ও স্বজনদের দ্বারা পুষ্প প্রদান করার একটি ব্যবস্থা করলে বিষয়টি আরও সুন্দর হতো। আগামীতে যাতে এ ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ চিন্তা করে দেখতে পারেন। এটা করলে আরও সুন্দর হবে। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক নতুন আইন করাসহ পুরাতন আইন সংযোজন-বিয়োজনের কাজে ব্যস্ত থাকার ফাঁকে জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথাগুলো বলেছেন।

আগের চেয়ে বর্তমানে বেশি ব্যস্ত আইন কমিশন। পুরাতন আইনগুলোকে যুগোপযোগী করার জন্য সংযোজন-বিয়োজন চলছে। ইতোমধ্যে আইন কমিশনের সুপারিশের পর ২০১৪ সালে আইন মন্ত্রণালয় ১৪টি আইন গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে চলতি বছর ১৮টি আইন সংশোধনের কাজ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে সাক্ষ্য আইন, মানসিক স্বাস্থ্য আইন, শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ আইনসহ বেশ কিছুু আইন রয়েছে। এছাড়া ৯টি আইন সংশোধনীর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে।

বর্তমান চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের চেয়ে কমিশনের কাজের গতি অনেকাংশে বেড়ে গেছে। ১৯৯৬ ধারা ৬(ক) অনুসারে প্রস্তুতকৃত সপ্তম দ্বিবার্ষিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ দেওয়ানী আইন, ফৌজদারি আইন, সাক্ষ্য আইন, দ্য প্যাসিফিক রিলিফ এ্যাক্ট, খাদ্য অধিকার আইন, আইন সংস্কারের মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা আইন, মোটরযান অর্ডিন্যান্স, অর্থঝণ আদালত আইন, বৈষম্য বিলোপ আইন, মানসিক স্বাস্থ্য আইন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, আইন কমিশন আইন, আইন কমিশন বিধি, শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা (অপরাধ), বাংলাদেশ কোড খ- ১-৩৮, চিকিৎসা মানোন্নয়ন ও এতদসংক্রান্ত অবহেলা আইন, জনস্বার্থে যে কোন বিষয়ে গবেষণাপূর্বক আইন বা বিধি প্রণয়ণ সংক্রান্ত সরকারের নিকট সুপারিশ প্রণয়ন। এ আইনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি আইন সংশোধনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বতর্মানে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট অবরোধ আর হরতালের নামে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে। সে প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, আমি সব সময় মনে করি বিভিন্নকালে বিভিন্ন যুগে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সমস্যা থেকেও আরও আশঙ্কাজনক সৃষ্টি হয়েছিল গৃহযুদ্ধ। কিন্তু সে সকল সমস্যা তাদের বিদ্যমান সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করেছেন। কোন অজুহাতেই কাউকে খাতির করা হয়নি। আমাদেরকেও আমাদের সংবিধান সমুন্নত রাখতে হবে। যে সমস্ত দুষ্কৃতকারী অপরাধ করছে, সে যেই হোক না কেন? তাকে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এনে ত্বরিত দৃশ্যমান শাস্তি দিতে হবে। এটা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সুন্দরভাবে পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক দেয়ার পর দুইজন বিদেশী পুষ্পস্তবক প্রদান করেছেন। এর আগে যা কখনও ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, ১৯৫২ সালের রক্তাক্ত ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা আমাদের চিন্তা-চেতনায় শুধু ধারণই করব না, বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে একুশের চেতনার কথা, তাদের হৃদয়ে গ্রথিত করে দেয়াটাও আমাদের দায়িত্ব। রক্তাক্ত ’৫২-এর সিঁড়ি বেয়ে সেই ধারাবাহিকতাতেই বাঙালী জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের যা কিছু অর্জন সব কিছুই এসেছে রক্তাক্ত ’৫২-এর ধারাবাহিকতায় এটা আমাদের হৃদয়ে গ্রথিত রাখতে হবে। ৩০ লাখ শহীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, ৪ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগ আমরা ভুলিনি। আমরা ভুলতে পারি না। এটা যেন আমাদের রাষ্ট্রের সকল সিদ্ধান্তের চালিকাশক্তি রূপে কাজ করে।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: