কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জাদুঘরে কারুশিল্প প্রদর্শনী

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় জাদুঘরের মূল ভবনের বাঁ-পাশের খোলা আঙিনা যেন ধারণ করেছে লোকসংস্কৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্য। তাঁতযন্ত্রে চলছে কারুকার্যময় জামদানি শাড়ির বুননের প্রক্রিয়া। একটু সামনে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে শোলা দিয়ে তৈরি ফুল কিংবা বক তৈরির দৃশ্য। এমন সুন্দর দৃশ্য অবলোকনের মাঝে কানে আসে মিঠে বাঁশির সুর। নজরে পড়ে রকমারি বাঁশির পসরা সাজিয়ে বসা দোকানির ঠোঁটে চেপে বসা বাঁশের সুরযন্ত্র থেকে ভেসে বেড়াচ্ছে সুরেলা শব্দধ্বনি। আর এমন রকমারি ও রূপময় চিত্রকল্পের দেখা মিলেছে জাদুঘর আয়োজিত কারুশিল্প প্রদর্শনীতে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী এ কারুশিল্প মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার ছুটির দিনের দুপুরে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে কারুশিল্পী ও কারুশিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ। বলেন, কারুশিল্পীরা আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গভীরভাবে মমত্ব দিয়ে লালন করে চলেছে। শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতা পরিশীলিত হয়ে আজ ধ্রুপদী মর্যাদায় অভিসিক্ত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনের আগে অর্থমন্ত্রী তাঁর পিতা আবুল আহমেদ আব্দুল হাফিজ কর্তৃক ১৯৮৪ সালে জাদুঘরে উপহ্নহার দেয়া মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের স্বর্ণমুদ্রা, তুলট কাগজে লেখা কোরআন শরীফের পা-ুলিপি এবং একটি হুক্কা বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সভাকক্ষে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় অর্থমন্ত্রীর ভাই ও বোনেরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। আলোচক ড. আমিনুর রহমান সুলতান ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের জীবন ইতিহাস নিয়ে চমৎকার একটি তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এম আজিজুর রহমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, জাদুঘরের এ আয়োজনটি এদেশের কারুশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে দারুণ অবদান রাখবে।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কারুশিল্পীরা হলো আমাদের লোকসংস্কৃতির প্রাণপুরুষ। এদের নান্দনিক কাজগুলোই হাজার বছরের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খ্যাতিমান কারুশিল্পীরা। সাজিয়ে বসেছেন লোকজ অনুষঙ্গের দৃষ্টিনন্দন পণ্যসম্ভার নিয়ে। ২০টির অধিক স্টলে সজ্জিত মেলায় রয়েছে রকমারি জামদারি, বৈচিত্র্যময় নকশিকাঁথা, রঙের বৈভব ছড়ানো পটচিত্র, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি, শীতলপাটি, নকশাদার হাতপাখা, নানা আঙ্গিকের টেপা পুতুল, শোলাশিল্প, ধাতবশিল্প, বাঁশিশিল্প, বেতশিল্প, পাটশিল্প, রিক্সা পেইন্টিং ও বই বাঁধাই।

২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এছাড়া শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর আজ শনিবার একুশে ফেব্রুয়ারি তিন পর্বের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিনা টিকেটে দেখা যাবে। বেলা ১১টায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, শিল্পী ফরিদা পারভীনসহ দেশের খ্যাতনামা শিল্পীবৃন্দ সঙ্গীত ও নাচ পরিবেশন করবেন। এছাড়া থাকছে কবিতা পাঠের আসর। অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে থাকবে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষীর প্রতিনিধিবৃন্দের অংশগ্রহণে ভাষা বিনিময় মেলা। বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ভাষাভাষীর প্রতিনিধিবৃন্দ ২৭টি স্টলে তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতি প্রদর্শন করবেন এবং আগ্রহী দর্শনার্থীদের সঙ্গে নিজস্ব ভাষায় মতবিনিময় করবেন।

উদীচীর একুশে উদযাপন ॥ মাতৃভাষার সম্মান রক্ষা এবং সর্বস্তরে বাংলাভাষা চর্চা জোরদার করার লক্ষ্যে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। অমর একুশে উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে উদীচী চত্বরে সংগঠনের ঢাকা মহানগর সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি নিবেদিত ‘রক্ত শপথে তোমায় স্মরণ করি’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুটি দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন মহানগর সংসদের শিল্পীরা। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘ঘুমের দেশে ঘুম ভাঙ্গাতে ঘুমিয়ে গেল যারা’ ও ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গান দুটি।

গান শেষে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সহ-সভাপতি নিবাস দের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। অংশ নেনÑ উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানী, সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম, মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন।

আলোচনা শেষে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদসহ বিভিন্ন শাখার শিল্পীরা। এছাড়াও ছিল দলীয় নৃত্য এবং একক ও বৃন্দ আবৃত্তি। মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটকটির পাঠাভিনয় পরিবেশন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নাটক বিভাগের শিল্পীরা।

রবীন্দ্র সরোবরে একুশের অনুষ্ঠানমালা ॥ ‘বুকের খুনে যুদ্ধ জারি অমর একুশে ফেব্রুয়ারি’ সেøাগানে চলছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অমর একুশের অনুষ্ঠানমালা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হওয়া আয়োজনটি এখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরে। ১৪ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালার ১৩তম দিন ছিল শুক্রবার।

বিকেল থেকে নৃত্য-গীত ও কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চ। সেই সঙ্গে পথনাটকের পরিবেশনা। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেয় স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, উজান ও ভিন্নধারা। একক কণ্ঠে গান শোনান মাসফিদা আখতার মালা, মঞ্জিলা দেওয়ান, উদয় শংকর বসাক, রিনা ফেরদৌসী ও অলোক দাশগুপ্ত। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে মুক্তধারা আবৃত্তিচর্চা কেন্দ্র, আবৃত্তি একাডেমি ও উদ্ভাসন। একক কণ্ঠে আবৃত্তি করেন সোহেল আহমেদ। তাবাসসুম আহ্্মদের পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে আঙ্গিকাম। পথনাটক উপস্থাপন করে নাট্যধারা, অবয়ব নাট্যদল ও চন্দ্রকলা থিয়েটার।

আজ শনিবার একই স্থানে বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে ভাষা শহীদদের নিবেদিত এ আয়োজন। এদিনের অনুষ্ঠান সূচীতে রয়েছে একক ও দলীয় সঙ্গীত, একক ও দলীয় আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা, শিশু সংগঠনের উপস্থাপনা ও পথনাটকের পরিবেশনা।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: