মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিরে দেখা ভাষা আন্দোলন

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • এমআর মাহবুব

১৯নং আজিমপুর

১৯নং আজিমপুরকে বলা হয় ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার। আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ১৯নং আজিমপুরের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক আবুল কাশেম। তিনি তখন থাকতেন ঢাকার ১৯নং আজিমপুরের বাসভবনে। এখানে ভাষা আন্দোলনের প্রথম অফিস স্থাপন করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা সম্মিলিত ঘোষণাপত্র ও ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশ করা হয় ১৯নং আজিমপুর থেকে। ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বের প্রায় প্রতিটি সভা ও পরিকল্পনা করা হতো এখান থেকেই। ১৯৪৮ সালের ১৪ নবেম্বর ১৯নং আজিমপুর থেকে ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। ১৯৫২ সালে এখান থেকেই প্রকাশিত মাসিক ‘দ্যুতি পত্রিকা’। সৈনিক ও দ্যুতিকে কেন্দ্র করে ১৯নং আজিমপুর হয়ে উঠে সমকালীন লেখক, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের মিলনক্ষেত্র।

আমাদের প্রেস ও তমদ্দুুন লাইব্রেরি এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেরও অফিস ছিল ১৯নং আজিমপুরে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন ও এ আন্দোলনের সফলতার পর্বে অনেক গুরুত্ব কাজ হয়েছে ১৯নং আজিমপুর থেকে। বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলায় প্রথম পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, বাংলা সাইন বোর্ড প্রবর্তন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে প্রথম পুস্তক রচনা, ফোকলোর সংগঠন প্রতিষ্ঠাসহ বাংলাভাষার বিকাশ ও নানা সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ১৯নং আজিমপুর। সঙ্গত কারণে ১৯নং আজিমপুরের ভবনটিকে আমাদের জাতীয় ইহিহাস ঐতিহ্যের স্বার্থে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০০৫ সালে এখানে গড়ে ওঠে বিশাল অট্রালিকা। বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নটি।

লেখক : গবেষক

mrmahbub@yahoo.com

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: