মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে ১০ পেট্রোলবোমা উদ্ধার ॥ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি এলাকা থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১০টি পেট্রোলবোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার ভোরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এগুলো উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে উদ্ধার হয় ৪টি খালি বোতল। এদিকে, যেখান থেকে এসব পেট্রোলবোমা উদ্ধার করা হয়েছে তার অনতিদূরে অবস্থিত সিজিএস নামে সরকারী একটি ক্লাব। এ ক্লাবকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের রাজনৈতিক কর্মকা- থাকায় এ ঘটনা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিএনপির সহিংসতার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক কাজ বলে দাবি করেছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (তানভীর আরাফাত) সাংবাদিকদের জানান, গোপন তথ্যে সিজিএস কলোনির ভেতরে সিজিএস ক্লাবের পেছন থেকে পেট্রোলবোমাগুলো উদ্ধার করা হয়। ভোর ৬টার দিকে পুলিশ গিয়ে এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হরতালে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এগুলো সেখানে রাখা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ডবলমুরিং থানার এসআই তফাজ্জল হোসেন জানান, ক্লাবের পেছনে কিছু পেট্রোলবোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে এমন একটি তথ্য পাওয়ায় পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়। ক্লাবটির পাশাপাশি অবস্থিত পুরনো ভবনের পরিত্যক্ত বাথরুমের মধ্যে ৩টি এবং ক্লাব ঘরের পেছনে থাকা টিনের ছাউনিযুক্ত একটি ঘরে পাওয়া যায় ৭টি পেট্রোলবোমা। এছাড়া ৪টি খালি বোতলও উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উদ্ধারকৃত ককটেলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা এনে এর তদন্ত দাবি করেছেন। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের অভিযোগ, আওয়ামী লীগই নাশকতা চালিয়ে বিএনপির ঘাড়ে চাপাতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছেলেরাই সেখানে বোমা তৈরি করছিল বলে তাদের জোর অভিযোগ।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু এ ব্যাপারে জনকণ্ঠকে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি দাবি করেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকেরাই এগুলো সেখানে রেখে পুলিশকে ইনফর্ম করে থাকতে পারে। আওয়ামী লীগকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবেই তারা এটি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, বিরোধীদলীয় জোট দেশজুড়ে যে মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়েছে এটি তারই একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। উদোরপিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা মাত্র। একটি সরকারী ক্লাবের পার্শ¦বর্তী এলাকায় ককটেল উদ্ধারের ঘটনাটিকে সরকারী দলের ঘাড়ে চাপাতে ২০ দলীয় জোট নির্লজ্জভাবে যে বক্তব্য দিয়েছে তা নিন্দনীয়, অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তানভীর আরাফাত এ প্রসঙ্গে বলেন, কার্যালয় বা ক্লাবের ভেতর থেকে পেট্রোলবোমাগুলো উদ্ধার করা হয়নি। পাওয়া গেছে পরিত্যক্ত বাথরুমে এবং বাগানে। এগুলো ছিল ব্যাগের মধ্যে। ফলে হরতালে ব্যবহার করার জন্যই বোমাগুলো রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছি। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। পুলিশের ধারণাÑ চলমান সহিংসতার সঙ্গে জড়িতরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৯/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: