মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ৮২তম জন্মদিন ও তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • স্বদেশ রায়

বাংলাদেশে বর্তমান যে সন্ত্রাস চলছে বা দেশকে যে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করার দেশী ও বিদেশী চক্রান্ত চলছে এর অন্যতম একটি কারণ- বাংলাদেশ আপনা মাংসে হরিণী বৈরী। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেক দেশের জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তাছাড়া যে কোন দেশের দারিদ্র্যের একটি বড় কারণ ল্যান্ড-লক। ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের ও ভারতের যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা আছে তা অচিরেই কেটে যাবে। তখন ভারত-বাংলাদেশ মিলিতভাবে এশিয়ায় বড় অর্থনীতির নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্ব অর্থনীতির অনেক বড় দেশ এবং এশিয়ার সন্ত্রাসকবলিত ও বাংলাদেশের চির বৈরী পাকিস্তানের জন্য মাথা ব্যথার কারণ। গত কয়েকদিনে বাংলাদেশের কয়েক বড় শিল্পপতির সঙ্গে নানান সময়ে কথা হয়েছে; তাদের বক্তব্য একটিই-বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য এই সন্ত্রাস চলছে। সব মিলিয়ে একটি বিষয় সামনে আসছে, বাংলাদেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এ নিয়ে এখন আর কারও কোন দ্বিমত নেই। অমর্ত্য সেন গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁর দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি সংক্রান্ত বক্তব্যে বার বার বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সব থেকে ভাল করছে বাংলাদেশ। কাকতালীয় হলেও সত্য, অমর্ত্য সেনের মতে দক্ষিণ এশিয়ার যে দেশটি অর্থনীতিতে সব থেকে ভাল করছে ওই দেশটির অর্থনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অমর্ত্য সেনেরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবুল মাল আব্দুল মুহিত। দুই বন্ধুর ভেতর একটি অদ্ভুত মিল আছে তা হলো- তাঁরা দু’জনই রবীন্দ্রনাথের মতো বয়সকে পরাভূত করে এগিয়ে চলেছেন। অমর্ত্য সেনের এ মুহূর্তের লেখাগুলো পড়লে যেমন বিস্মিত হতে হয়; কীভাবে একটি মানুষ এই বয়সে এসে দর্শন ও অর্থনীতি নিয়ে এভাবে চিন্তা করতে পারেন। পাশাপাশি ঠিক একই বয়সের আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে যখন দেখি তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের অর্থনীতির নেতৃত্ব দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিক বিশ্বের একটি অংশে পরিণত করতে চলেছেন তখনও বিস্মিত হতে হয়।

আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আজ ৮২ তম জন্মদিন। প্রতিবছর তাঁর জন্মদিনে একটি চমৎকার ঘরোয়া অনুষ্ঠান হয়। একটি দুঃখজনক কারণে এবার সেই অনুষ্ঠানটি হবে না। তারপরও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সরাসরি যেমন তাঁকে শুভেচ্ছা জানাবেন তেমনি পরোক্ষভাবে তিনি পাবেন কোটি কোটি মানুষের শুভেচ্ছা। যাঁরা আজ তাঁর অর্থনৈতিক নেতৃত্বের ফলে দারিদ্র্যকে পার করে দিয়ে অনেক স্বচ্ছ একটি জীবন যাপন করতে পারছে। আবুল মাল আব্দুল মুহিত গত ছয় বছরে এ দেশের অর্থনীতিকে যেখানে এনে দাঁড় করিয়েছেন তাতে কেবলমাত্র জঙ্গীরা যদি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল না করে তাহলে এই অর্থনীতিকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমাদের অর্থনীতির অবস্থান আজ কোথায় তা ছোট্ট একটি উদাহরণই যথেষ্ট। ২০০৯ সালে আবুল মাল আব্দুল মুহিত যখন অর্থনীতির নেতৃত্ব হাতে তুলে নেন তখন দেশীয় বাজারের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০.৫০ % আর ২০১৪-তে সেটা ৩০.৫০%।

আজ তাঁর জন্মদিন। তাই এ দিনের লেখায় অর্থনীতির কথা বেশি নয়। শুধু ছোট্ট ওই উদাহরণটি দিলাম তরুণ প্রজন্মের জন্য যে আবুল মাল আবদুল মুহিত তাদের জন্য কোন অর্থনীতির ভিত তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছেন। এই অর্থনীতির ভিত তৈরিতে তিনি এত বেশি সময় দিচ্ছেন যে, যার কারণে এদেশের তরুণ প্রজন্ম তাঁর হাত থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন বাঙালীর এক হাজার বছরের ইতিহাস। কিন্তু এই অর্থনীতির নেতৃত্ব কাঁধে পড়াতে সে কাজটি বন্ধ। কারণ, ২০০৯ সালে যখন তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন তখন তিনি কোন কোন দিন ১৮ থেকে ২১ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। এখন এই একাশি বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যাঁরা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে তাঁদের আবুল মাল আব্দুল মুহিতের জীবন থেকে শেখা উচিত-একটি দায়িত্ব সঠিক পালন করতে হলে কতটা নিবেদিত হতে হয়, কত সময় দিতে হয়।

আর এই সময় কিন্তু ইচ্ছা করলেই দেয়া যায় না। কারণ, কোন দায়িত্ব পালন করতে হলে তাঁকে জ্ঞানী হতে হয়। অর্থনীতি শুধু নয়, সমাজবিজ্ঞানের যে কোন বিষয় অনেক জটিল। এর সঙ্গে ইতিহাস, রাজনীতি, ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, জলবায়ুর ফলে মানুষের ন্যাচার, অনেক কিছুই জড়িত। এসব বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে কখনই রাষ্ট্রের কোন ক্ষেত্রে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া যায় না। আর এই জ্ঞান অর্জনের জন্য আবুল মাল আব্দুল মুহিত যে পরিশ্রম করেছেন তা তরুণ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ। ১৯৬৯ সালে আবুল মাল আব্দুল মুহিতের উপলব্ধি হয়, শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ঠিকই, বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ডিগ্রী নিয়েছেন কৃত্বিতের সঙ্গে। কিন্তু, তারপরও পৃথিবীর বিশাল জ্ঞান ভা-ারে তাঁর প্রবেশ তাঁর মতে তখনও ঘটেনি। তাই ১৯৭০ থেকে ২০০৪ অবধি এই চৌত্রিশ বছর তিনি দিনে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। বাকি সময় কাজ ও পড়ার পেছনে ব্যয় করেছেন। তাঁর মতে, আমরা ঘুমিয়ে জীবনের জ্ঞানার্জনের একটি বড় সময় নষ্ট করে দেই।

আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন সফল মানুষ। তাঁর এই ৮২ তম জন্মদিনে তাঁর শতায়ু কামনা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু তাঁর জন্য করার নেই। তবে তরুণ প্রজন্মকে বলব, আমাদের ভবিষ্যতের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে তরুণ প্রজন্মকে আবুল মাল আব্দুল মুহিতের জীবন অনুসরণ করতে হবে। জীবনে আরামশয্যা ফেলে দিয়ে বইয়ের জগতে প্রবেশ করতে হবে। ঘুম নয়, বই পড়া। এই হোক তাঁর ৮২ তম জন্মদিনে তাঁর জীবন থেকে আগামী দিনের তরুণদের শিক্ষা।

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

২৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: