রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হিমেল সন্ধ্যায় রাজধানীতে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ‘মায়ার মাধুরী’

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫
হিমেল সন্ধ্যায় রাজধানীতে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ‘মায়ার মাধুরী’
  • সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ বাইরে তখন হাড়কাঁপানো মাঘের শীত। আর সেই সাঁজবেলায় রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে ভেসে বেড়াল সুরের অনুরণন। সুরেলা শব্দধ্বনিতে উদ্দীপ্ত হলো শ্রোতার শ্রবণ ইন্দ্রিয়। যেন বাতাসেও মিশে গেল সুর আর কুয়াশার মায়াজাল। মায়া বিস্তারী সুরবৈভবে স্নাত হলো সঙ্গীতানুরানুগীর হৃদয়তন্ত্রী। এভাবেই রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে মায়ার মাধুরী শীর্ষক উচ্চাঙ্গসঙ্গীতাসরে আলোড়িত হলো গানপ্রেমীরা। দেশের সহিংস পরিস্থিতির মাঝেও তাঁদের কাছে এ গানের আসরটি ধরা দেয় একখণ্ড শান্তির পরশ হিসেবে।

মঙ্গলবার হিমেল হাওয়াময় শীতল সন্ধ্যায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে এ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের চর্চা অব্যাহত রাখা, প্রচার-প্রসার ও উচ্চরুচিসম্পন্ন শ্রোতা তৈরির লক্ষ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিলনায়তন ভর্তি শুদ্ধ সঙ্গীত পিপাসুদের সরব উপস্থিতি ছিল যেন দেশের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের পুনর্জাগরণের বার্তাবহ। সময় যত গড়িয়েছে বিশাল মিলনায়তনে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শ্রোতার সংখ্যা। রাত আটটা নাগাদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে অডিটোরিয়াম। যথাসময়েই শুরু হয় সাড়ে ৩ ঘণ্টার সুরের খেলা। ছিল না কোন আলোচনা কিংবা কোন অতিথির বাগাড়ম্বর। শুধুই সুর আর সংগীতের সম্মিলন। শুরুতেই মঞ্চে ওঠেন দেশের প্রতিশ্রুতিশীল রাগসংগীত শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ।

সঙ্গীতাসরের এমন মহিমান্বিত আয়োজনে পালিত হয় ভারতের প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গসঙ্গীতশিল্পী প-িত উলহাস কশলকরের ৬০তম জন্মদিন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে এ গুণী শিল্পীর পরিবেশনায় মুগ্ধ হন শ্রোতারা। দেশের প্রতিশীল শিল্পী প্রিয়াংকা গোপের পরিবেশনার মাধ্যমে সান্ধ্যকালীন এ সঙ্গীতানুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই শিল্পী নিজেকে উজাড় ও শ্রোতাকে নিবিষ্ট করে পরিবেশন করেন খেয়াল। রাগ মারু বিহাগের আশ্রয়ে মুগ্ধ করে শুদ্ধ সঙ্গীদের অনুরাগীদের। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন ইফতেখার আলম প্রধান। হারমোনিয়ামে ছিলেন টিংকু শীল ও তানপুরায় মনিরা ইসলাম।

প্রিয়াংকা গোপের মুগ্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই মঞ্চে আসেন ভারতের আরেক নামী উচ্চাঙ্গসঙ্গীতশিল্পী প-িত উদয় ভাওয়ালকর। সংগীতপর্ব শুরুর আগেই শ্রোতাদের জানিয়ে দেন তাঁর বাংলাপ্রীতির কথা। হিন্দী ও বাংলার মিশেল ঘটিয়ে বলেন, ‘আমি খুব ভালো করে বাংলা ভাষাটা শিখতে চাই। এ ভাষার অনেক কিছু আমি বুঝতে পারি। কিন্তু সঠিকভাবে এখনও বলতে পারি না। আশা করি, ভবিষ্যততে বাংলা বলতে পারব, এমনকি বাংলায় গাইতেও পারব।’ প-িত উদয় ভাওয়ালকর সংক্ষিপ্ত কথা শেষে শুরু করেন সুরের খেলা। যেন গানপ্রেমীদের বহমান সুরের ভেলায় ভাসিয়ে দেন তিনি। পরিবেশন করেন রাগ ভুপ। অনবদ্য কণ্ঠসঙ্গীত ও সুরের নিবিষ্টতায় তাঁর সঙ্গে পাখোয়াজে সুর ছড়ান প্রতাপ আওয়াদ। তানপুরায় সঙ্গত করেন উৎপল রায় ও প্রসেনজিত সরকার।

সব শেষে কণ্ঠের মাধুর্য নিয়ে মঞ্চে আসেন সঙ্গীতাসরের অন্যতম আকর্ষণ প-িত উলহাস কশলকর। এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয় ৬০তম জন্মদিনের ফুলেল শুভেচ্ছা। ৬০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে ফুল দিয়ে সম্মাননা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের। দর্শকশ্রোতারাও আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁকে। স্বল্প সময়ে শুভেচ্ছাপর্ব শেষে শুরু হয় এ গুণী শিল্পীর কণ্ঠমাধুরীর উপস্থাপনা। সুর-তাল ও লয়ের খেলায় শ্রোতাকে সিক্ত করে পরিবেশন করেন খেয়াল। আর তাঁর সঙ্গে তবলায় বোল তোলেন আরেক প-িত সুরেশ তালওয়ালকর।

থিয়েটার ফোকসের নাটক যমুনা মঞ্চস্থ ॥ ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের নাট্যদল থিয়েটার ফোকস্্। দলটির আলোচিত প্রযোজনা যমুনা। নাটকটি নিয়ে ২০১২ সাল থেকে অক্সফোর্ড, বার্মিংহাম ও লন্ডনের দর্শকদের আলোড়িত করেছে। আর এবার দলটি ঢাকায় এই প্রযোজনাটির কয়েকটি প্রদর্শনী করেছে। ঢাকার নাট্যদল দেশ নাটক ও বটতলার যৌথ উদ্যোগে এই প্রদর্শনীগুলো নাট্যপ্রেমী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আর তাই দর্শকের অনুরোধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেগুন বাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আবারও মঞ্চস্থ হলো নাটকটি। প্রযোজনাটি রচনা করেছেন সেলিনা শেলী। ইংরেজী ভাষার এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

যমুনা একজন ভাস্কর। তাঁর প্রথম প্রদর্শনীর আগে আমরা দেখি তাঁকে ভীষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতে। সে কি তাঁর অতীতের শেকল ভেঙ্গে মুক্ত হাওয়ায় উড়বে নাকি পরিবার ও স্বজনের কথা ভেবে চুপই থাকবে। কিন্তু চুপ থাকলে যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায় এড়ানো যাবে না। কি করবে এখন যমুনা? বাংলাদেশের একজন ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্বা নারীর ব্যক্তিগত লড়াই ও বেঁচে থাকার গল্প যমুনা। উল্লেখ্য, দর্শনীর বিনিময়ে প্রযোজনাটির এই প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হবে।

আঁলিয়সে মনজুরুল ইসলামের সঙ্গীতসন্ধ্যা ॥ মঙ্গলবার শীতের সন্ধ্যায় ফরাসী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো দেশের গজল সংগীতের শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠশিল্পী মনজুরুল ইসলাম খানের সঙ্গীতসন্ধ্যা। উপমহাদেশের শাস্ত্রীয়সংগীতভিত্তিক সংগীতানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এ সঙ্গীতাসরের আয়োজন করা হয়।

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী ২০১৫

২১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: