রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফসলি জমির টপ সয়েল বিক্রির মহোৎসব

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • কক্সবাজারে প্রশাসন নির্বিকার

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার সদর ঈদগাঁওসহ জেলার বিভিন্নস্থানে ফসলি জমির টপ সয়েল (ফসলি জমির উপরিভাগ) বিক্রির মহোৎসবে মেতে উঠছে কতিপয় ইটভাঁটি মালিক। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে। এতে ওইসব জমিতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা। দেখা গেছে, জালালাবাদ ইউনিয়নে বিশালাকারের ধমকা বিল, ঈদগাঁও ঝাইক্যা কাটা বিল, খুনিয়াপালং, থাইংখালী, মরিচ্যা, রামুসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টপ সয়েল বিক্রির হিড়িক পড়ছে। এসব মাটি ঈদগাঁও, খুনিয়াপালং ও রামুর অন্তত ২৫টি ব্রিক ফিল্ড ও এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নেয়ার ফলে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। মাটির উর্বরতা শক্তি পুনরায় ফিরে পেতে কমপক্ষে ৫-৭ বছর সময় লাগে। এমনকি টপ সয়েল তুলে নেয়ার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি শূন্যের কোটায়ও নেমে আসতে পারে। যে কারণে দেশে ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে জানান তারা। ভাঁটি মালিকগণ জমির মালিক থেকে কানিপ্রতি মাত্র ৮ থেকে ১০হাজার টাকার বিনিময়ে এসব মাটি কিনে নিচ্ছে বলে জমির মালিক নুর আহমদ ও আবুল ফজল জানান। আবুল কালাম, জালাল আহমদসহ কয়েক কৃষক জানিয়েছেন, টপ সয়েল বিক্রির টাকা নেয় জমির মালিকরা। আমরা বর্গাচাষী মাত্র। জমি চাষ করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী জমি নিচু হওয়ায় পানি ধরে রাখতে কষ্ট হয় আমাদের। যে কারণে চাষাবাদে চরম ব্যাঘাত ঘটে থাকে। অনেক সময় জমিতে রোপিত ধানের চারা মারা যায়। এতে করে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা চলতি বোরো মৌসুমে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার অজ্ঞ ও দরিদ্র কিছু জমি মালিক না বুঝে জমির মাটি বিক্রি করছে। ক্ষমতাধর কয়েক ব্যক্তি টপ সয়েল ক্রেতা হওয়ায় প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তাও নির্বিকার ।

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪

১৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: