আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ছিটমহলবাসীর দীর্ঘশ্বাসের দিন শেষ হচ্ছে

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
ছিটমহলবাসীর দীর্ঘশ্বাসের দিন শেষ হচ্ছে
  • শতায়ু ময়মন বেওয়া বললেন, “শেখের বেটি কামের কাম করেছে। মুই প্রাণভরি দোয়া দেছো”

তাহমিন হক ববি, ছিটমহল থেকে ॥ বয়সেন ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন ময়মন বেওয়া। বর্তমানে তাঁর বয়স ১০৫ বছর। হাঁটতে কষ্ট হয়। দুটি লাঠির ওপর ভর করেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছেন এই বৃদ্ধা। ১৯৭২ সালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন স্বামী জাফর আলী। সংসার জীবনে ১৪ জন ছেলে-মেয়ে। এর মধ্যে ৯ জন মারা গেছে। বেঁচে আছে ৫ জন। জীবনধারণে বড়ই কষ্টের সময় পার করছেন এই বৃদ্ধা। তারপরও তাঁর কানে এসেছে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি এবার হতে যাচ্ছে। তাই তিনি বললেন, ‘শেখের বেটি হাসিনা হামার এইবার কামের কাম করিছে। মুই শেখের বেটির প্রাণভরি দোয়া দেছো। মুই এ্যালা মরণের দুয়ারত দাঁড়ি আছো। মোর বাঁচি থাকা অবস্থায় যদি ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন হয়, তা হইলে মুই ওপারত (ভারত) যাইম না। মুই এ পারত (বাংলাদেশ) থাকিম (থাকবো)। মোর জীবনটা এইঠে শেষ হয়া যাইবে, তাও মুই (আমি) বাংলাদেশ ছাড়িম না ( ছাড়বো না)। মরণের আগত (আগে) মুই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব চাও।’ এই বৃদ্ধা এবার ছিটমহল বিনিময় বাস্তবায়নের কথায় অত্যন্ত আনন্দিত- উৎফল্লিত। ছিটের মানুষজন এখন টেলিভিশনে, রেডিওতে বা সংবাদপত্রে প্রতিনিয়ত খবর রাখছে কবে তাদের ছিটমহল বিনিময় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহল বড়খানকিবাড়ি খারিজার বাসিন্দা বৃদ্ধা ময়মন বেওয়া এই কথাগুলো বললেন। শুধু ময়মন বেওয়া নন, ছিটমহলের সকলেই বললেন, ওপারে (ভারত) নয়, আমরা এপারের (বাংলাদেশ) নাগরিকত্ব নিয়ে থাকতে চাই। বৃদ্ধা ময়মন বেওয়া আরও বলেন, আজ যদি আমার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব থাকত তা হলে শেখ বেটির সরকারের আমি বয়স্কভাতার কার্ড পাইতাম, টাকা পাইতাম। নাগরিকত্ব না থাকার কারণে তিনি এ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

একই ছিটমহলের বাসিন্দা আশি বছরের বৃদ্ধা জয়গোন নাহার বললেন, আমরা ভারতের ছিটমহলের বাসিন্দা। তাই আমাদের কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। নেই ভোটের অধিকার, নেই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার অধিকার। ফরহাদ হোসেন জানায়, ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তারা বাংলাদেশ সরকারের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ছিটমহল বিনিময়ে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরার মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালে হাসিনা-মনমোহনের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রটোকল ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদন ও সংবিধান সংশোধনের জন্য দি কন্সটিটিউশন (ওয়ান হান্ড্রেড এ্যান্ড নাইনটিনথ এ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৪ ভারতের রাজ্যসভায় ২৪ নবেম্বর শুরু হওয়া শীতকালীন অধিবেশনে উত্থাপিত হয়েছে। ছিটমহল বিনিময় এখন যেন দোরগোড়ায়।

সংবর্ধনাপ্রাপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের ছয়জন পুরুষের মধ্যে একজন এ্যাডভোকেট আহসান হাবিব রয়েছেন। তাঁকে এই সরকারী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। এ্যাডভোকেট আহসান হাবিব জানান, এই সংবর্ধনা ও সরকারী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের করলা ছিটমহলের কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: