ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা দায়ী ॥ ফায়ার ডিজি

প্রকাশিত: ০৬:০৪, ২৯ আগস্ট ২০১৬

ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা দায়ী ॥ ফায়ার ডিজি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডাই-এ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) কারখানার ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি ছিটানোর যে পদ্ধতি রয়েছে তা কাজ করেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজেদের রক্ষায় নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। রবিবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান। এছাড়া জেলা প্রশাসনের তদন্ত টিমও ডিএপি কারখানা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বেশকিছু ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। এদিকে, এদিন ডিএপি কারখানার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমপ্লান্টের প্রকৌশলীরা। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, প্লান্টটির নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি ছিল। দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না নিজস্ব ব্যবস্থা। তখন সবগুলো সিস্টেম কাজ করেনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই প্রচুর পরিমাণ পানি ছিটাতে হয়। কিন্তু সেই কাজটাও করা যায়নি ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায়। শুরুতেই পানি ছিটানো গেলে গ্যাস এত দ্রুত ছড়াতে পারত না। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। তবে বাতাস পশ্চিমমুখী হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের ডিজি আরও জানান, এ ধরনের স্পর্শকাতর স্থাপনা যেখানে থাকে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় তা নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেখানে অগ্নি নির্বাপণ ও সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে ৩০ জন সদস্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। সক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অনেকগুলো নতুন ফায়ার স্টেশন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে ডিএপির কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা উঠে এসেছে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনও প্রস্তুত। বিসিআইসি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের পর জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনও দাখিল করা হবে। এদিকে, রবিবার সকালে ডিএপি কারখানার বিস্ফোরিত ট্যাঙ্ক পরিদর্শন করেন চীনা প্রকৌশলীরা। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা চায়না কমপ্লান্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এ টিম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টগুলো দেখে। তবে এ ব্যাপারে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টিমটি প্রতিবেদন আকারে তাদের মতামত জানাবে। এ সময় বিসিআইসির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট সোমবার রাতে ডিএপি কারখানার এ্যামোনিয়া ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির উপক্রম হয়। নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় শত শত মানুষ। মারা যায় প্রকল্পের মৎস্য ও গবাদি পশু। এছাড়া বাতাসে ছড়ানো এ্যামোনিয়ার সংস্পর্শে এসে গাছপালা ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গ্যাস ছড়িয়ে আনোয়ারা ছাড়িয়ে কর্ণফুলীর উত্তর পাড়ে চট্টগ্রাম নগরীর একাংশেও। এতে করে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।