কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মধ্য আয়ের দেশ ॥ সাফল্যের মূলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫
  • প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভ, রেমিটেন্স মূল্যস্ফীতি, সঞ্চয়, মাথাপিছু আয়, বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অর্জন

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ উল্লেখযোগ্য সাম্প্রতিক অর্জনের অধিকাংশই আর্থিক খাতে। বলা চলে উন্নত বিশ্বে যখন মন্দার পদধ্বনি, তখন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে উদাহরণ। তার স্বীকৃতিও মিলছে। এর পেছনের শক্তি কি? তার উত্তরও দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বলেছেন নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী উদ্যোগÑ এসব কিছুই ফল দিতে শুরু করেছে। এ কারণেই দেশের আর্থিক খাতের নির্দেশকগুলো যেমন প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভ, রেমিটেন্স, মূল্যস্ফীতি, সঞ্চয়, মাথাপিছু আয়, রফতানি, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়েছে। ফলে দারিদ্র্য নিরসন, বৈষম্য হ্রাস, বিশ্ব অর্থনীতিতে সক্ষমতা অর্জনসহ সর্বশেষ স্বল্পোন্নত দেশের খোলস ছেড়ে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে। ২১ সালের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মধ্য আয়ের দেশের হাতছানি। অর্থনৈতিক এ অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে রয়েছে নানা পরিকল্পনা। এগুলোর বাস্তবায়ন হলে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি মধ্য আয়ের পথে আরও এক ধাপ এগোনো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে উন্নয়নের লক্ষ্য ও কৌশলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, উপযুক্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন, গণদ্রব্য ও সেবার যোগান বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে একীভূত হওয়া, উৎপাদন বিশেষায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অগ্রগতি বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমরা নিম্ন আয়ের দেশ ছিলাম ৪০ বছর। তার থেকে একটা প্রমোশন হলো। আমার মনে হয় এতে আত্মগরিমা বাড়ে। নিজের স্ট্যান্ডার্ড বাড়ে এবং তার প্রমাণ আমরা নিজেরা দিচ্ছি। অনেক কিছু আমরা নিজেরা করছি। এখানে অন্যদের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। এখন তো বৈদেশিক সাহায্য মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ। আমি আগে যখন মন্ত্রী ছিলাম তখন ছিল ৮ শতাংশ। আমাদের সোশ্যাল যে ইন্ডিকেটর, তা খুব ভাল। উপমহাদেশের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আমরা অনেক ভাল।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমার তো খুব খুশি লাগছে- আমরা তাদের (বিশ্বব্যাংক) কাছে বলিনি, তোমরা এটা রিকন্সিডার করো। তারা করে ফেলেছে ইতোমধ্যেই। তবে এর একটা প্রসেস আছে। ইউএন সেটা শুরু করবে কিছুদিন পর। তাতে তিন বছর লাগবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক থেকে দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আফটার অল টাকা-পয়সার সোর্স তো ওইদিকে। ইউএন তো টাকা দেয় না। তবে আমাদের এটা একটা স্যাটিসফেকশন।

সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন আর নিম্ন আয়ের দেশ নয়। এক ধাপ অগ্রগতি হয়ে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বুধবার বার্ষিক মাথাপিছু আয় মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরের (২০১৫ সাল) সর্বশেষ প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। কমেছে অতি দারিদ্র্যও। এ হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মূল্যায়নে দারিদ্র্য হ্রাসের এ চিত্র উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে ধনী-গরিবের বৈষম্য পরিস্থিতির উন্নতির ক্ষেত্রে ভারতকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, পেছনে আছে আরও চারটি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে। ধনী-গরিবের বৈষম্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এ অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে ভাল বলেছে বিশ্বব্যাংক। দক্ষিণ এশিয়ায় বৈষম্য বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে (এ হিসাব আর্থিক সূচকে নির্ণীত) এমনই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রবৃদ্ধি ॥ গত অর্থবছর (২০১৪-১৫) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা তার আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। গত কয়েক বছর ধরেই প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের এ অর্জনকে অসাম্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি বাজেটপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের যে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তা পৃথিবীর ২০টি দেশের মধ্যে একটি। সুতরাং ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে ফাঁদ বলা হয়, তা নেগেটিভ অর্থে না দেখে পজিটিভ অর্থে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে বিনিয়োগ বাড়াতে উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে, যার কয়েকটির কাজ এ বছরের মধ্যে শেষ হবে। বিদ্যুত উন্নয়ন বাড়াতেও নানা পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এসব কারণেই আমার মনে হয়, চ্যালেঞ্জ হলেও সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে না।

রিজার্ভ ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে আবারও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার) অতিক্রম করেছে। গত ২৫ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ নতুন এ মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান রিজার্ভ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রিজার্ভের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান, যা পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। রফতানি আয় বৃদ্ধি ও রেমিটেন্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা, বিদেশ থেকে কর্পোরেট ঋণ গ্রহণ এবং কাক্সিক্ষত হারে আমদানি ব্যয় না হওয়া রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে ফরেক্স রিজার্ভ এ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, রিজার্ভ দিয়ে সাত মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বলেন, মূলত রফতানি আয় ও রেমিটেন্স ভাল প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।

রেমিটেন্স ॥ প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো আয় (রেমিটেন্স) প্রথমবারের মতো দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে এক হাজার ৫৩০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। স্বাধীনতার ৪২ বছরে এটাই বছরে প্রবাসীদের পাঠানো সর্বোচ্চ রেমিটেন্স। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোন অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিটেন্স আসেনি। গত তিন অর্থবছরেই ১৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে অবস্থান করে প্রবাসীদের আয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনশক্তি রফতানি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানামুখীপদক্ষেপ নেয়ায় এর প্রবাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়,সদ্য সমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুন পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

মূল্যস্ফীতি ॥ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গত মে পর্যন্ত সার্বিক ও খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। তবে সামান্য বেড়েছে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে। মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার পয়েন্ট টু পয়েন্টে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থসহ সকল পণ্যের দাম কমে গেছে। এ জন্য দেশেও মূল্যস্ফীতি কমেছে। তাছাড়া ভারতের মূল্যস্ফীতিও কমেছে। পার্শ¦বর্তী দেশ হিসেবে তার একটি প্রভাব পড়েছে।[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ ংঃধৎঃ: }থএড়ইধপশ[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ বহফ: }থএড়ইধপশ অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা বলেন, বিলাশ দ্রব্যের দাম বাড়ায় এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি হাতের মুঠোয় রাখতে চায় সরকার।

মাথাপিছু আয় ॥ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৩১৪ ডলার। বাংলাদেশের বর্তমান বিনিময় হারের হিসাবে যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৯২ টাকা। গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ১৯০ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়ে বেড়েছে ১২৪ ডলার। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, গত বছর মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ১৯০ ডলার।

সঞ্চয় ॥ সুদহার কমানো সত্ত্বেও গত নবেম্বর মাসে রেকর্ড সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। মে মাসেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। তার আগের মাসে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও বিক্রিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

চার লাখ কোটি টাকার পোশাক রফতানি লক্ষ্য ॥ আগামী ছয় বছরের মধ্যে চার লাখ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। রূপকল্প ২০২১ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ওই সময় সামনে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান প্রতিবছর ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ১২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হতো। গত ছয় বছরে বৃদ্ধি পেয়ে তা দ্বিগুণ হয়েছে। এ শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চামড়া, ওষুধ, প্লাস্টিক, পাটজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য, সামুদ্রিক জাহাজ, ইলেক্ট্রনিক্স ও অটোমোবাইলস, হিমায়িত চিংড়ি, শাক-সবজি প্রভৃতি রফতানি হচ্ছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। আশা করা হচ্ছে, রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি পোশাক রফকতানির প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশের পোশাক রফতানি খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তিনি বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা ও সমালোচনা উপেক্ষা করে আমরা পোশাক শিল্পের রফতানির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অধিকাংশ উন্নত দেশে শুল্কমুক্ত কোটায় পণ্য রফতানি করে যাচ্ছি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে তা ভবিষ্যতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এতে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানিতে উভয় দেশই ভূমি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে সম্প্রতি সড়ক যোগাযোগ চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশর রফতানি আরও বাড়বে।

বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ ॥ দেশে সরকারী বিনিয়োগ সন্তোষজনক। তবে এবারের বাজেটে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপি’র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সরকারী বিনিয়োগ জিডিপি’র ৫ দশমিক ৫ হতে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হলেও ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ জিডিপি’র ২১ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা দূর করতে মধ্যমেয়াদে (২০১৬-১৮) তা জিডিপি’র ২৪ শতাংশে উন্নীত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সময়ে সরকারী বিনিয়োগও জিডিপি’র ৭ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে যেমন বিদ্যুত জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে অধিকতর সম্পদ সঞ্চালন করা হবে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন, দ্রুত সময়ে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পের কাজ শেষ করা, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি এবং ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ দূর করা হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাতে বিদ্যুত সমস্যার সমাধান আর থাকছে না। এছাড়া গ্যাসের সমস্যা নিরসনে সমুদ্র অঞ্চলে ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধান করার লক্ষ্যে উৎপাদন-বণ্টন-চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ বোর্ড প্রাইভেটাইজেশন কমিশন এক করা হচ্ছে। এছাড়া বিনিয়োগ বোর্ড ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, উচ্চ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জনে অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটে একটি পথনকশা দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই পথ নকশায় তিনি স্বপ্ন পূরণের কৌশল দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৫

০৪/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: