আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাকার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা উচিত

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার
  • যুক্তিতর্কে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আপীলের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। রবিবার থেকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হবে। রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছেন, একাত্তর সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাকা চৌধুরীর মামলায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে আপীলেও মৃত্যুদ- বহাল থাকা উচিত। অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারকৃত কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদসহ পলাতক পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গ্রেফতারকৃত কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদসহ পলাতক পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে। যুক্তিতর্ক শেষে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদ- বহাল থাকা ন্যায় ও অতি প্রয়োজন । বুধবার সাকা চৌধুরীর আপীল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন এ্যাটর্নি জেনারেল। আপীল শুনানি দশম দিনে দুই কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষের এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলো। আগামী রবিবার থেকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপীল বেঞ্চে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করবেন আসামি পক্ষ। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেনÑ বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধের সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাকিস্তানী বাহিনী ও নিজস্ব বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তা-ব চালিয়েছেন। একই দিনে চার স্থানে পর্যন্ত তা-ব চালিয়েছেন তিনি।

মাহবুবে আলম আরও বলেন, একাত্তরের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সাকা চৌধুরী এসব কাজ করেছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর বেশি হামলা করেছেন। যেন তারা দেশ ছেড়ে চলে যান। এ সব অপরাধের চারটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদ- দেন। তবে ৭টি অভিযোগে তিনি মৃত্যুদ- পাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু বাকি তিনটিতে তাকে ২০ বছর করে কারাদ- দিয়েছেন। তার মৃত্যুদ- বহাল থাকা ন্যায় এবং অতি প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন করেছি বলে উল্লেখ করেন এ্যাটর্র্নি জেনারেল।

এর আগে আসামিপক্ষের শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের রায় উপস্থাপন করেন সাকা চৌধুরীর আইনজীবী এসএম শাহজাহান। গত ১৬ জুন শুনানী শুরু করে ট্রাইব্যুনালের রায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য-জেরা এবং রায় সংক্রান্ত নথিপত্র (পেপারবুক) উপস্থাপন করেছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের ৫ রাজাকার ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারকৃত কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহমেদসহ পলাতক পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেনÑ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানির জন্য সময় আবেদন করেন প্রসিকিউটর সুলতানা রেজিয়া। অপরদিকে, আইনজীবী নিয়োগে অপারগতা থাকায় আসামি শামসুদ্দিন আহমেদের পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনজীবী আব্দুস শুকুরকে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অন্য আসামিগণ হলেনÑ গাজী মোঃ আব্দুল মান্নান, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে মোঃ নাসির ওরফে ক্যাপ্টেন নাসির, সাহাবুদিন আহম্মেদ, মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও মোঃ মাজাহারুল ইসলাম। শামসুদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছে।

জামালপুরের ৮ রাজাকার ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের ৮ রাজাকারের মধ্যে পলাতক ৬ রাজাকারের বিরুদ্ধে পুনরায় পুলিশী তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে জমার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিরা হলেনÑ মোঃ আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মোঃ আব্দুল মান্নান, মোঃ আব্দুল বারি, হারুন ও মোঃ আবুল কাসেম। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতানা রেজিয়া।

অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার এ্যাডভোকেট শামছুল হক ও সিহংজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এসএম ইউসুফ আলী । অন্য ৬ জন এখনও পলাতক রয়েছে।

প্রকাশিত : ২ জুলাই ২০১৫

০২/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: