আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

টাওয়ার আখ্যান

দুখু বাঙাল

কবির সংশয় মানে বিশ্বাসের গর্ভে যার পাথরের ভ্রƒণ। হ্যালো সভ্যতা, কান পেতে শোনো-বুদ্ধের মন্ত্রে আজ ভুল উচ্চারণ! কবে যে জগৎবাসী দেখতে পাবে ক্রুশমুক্ত যিশুর মুখখান। শান্তির মিনার সে যে অলক্ষেই পড়ে আছে জঙ্গীর লেবাস। মাকড়ের মতো এই মায়াজাল পৃথিবীতে নেই বুঝি আর কোনো কবির নিবাস। কে একজন বকতে বকতে চলে গেলেন- পৃথিবীতে পড়বে না আর কোনো গান্ধীর ছায়া। আব্রাহাম লিংকন আইনস্টাইন মাদার তেরেসা সত্যিই কি ফিরবে না পৃথিবীতে আর কোনোদিন! আর হয়তো শুনবে না জগতের কর্ণ যুগল-‘আর যদি একটি গুলি চলে...’। শুনেছিলাম কোনো এক মাহাথির মোহাম্মদের পৌরুষের কথাÑ বেচারার নিদ্রাভঙ্গের বড়বেশি ভয়। অবৈধ অভিবাসী! মানব পাচার! দে আরো ঠেলে দে প্রশান্তর অথই গভীরেÑআগে মাইনাস, হাঙর আর তিমিরের ভোগ। হেই মানবতা, পৃথিবী সেজেছে আজ ইষ্টকনির্মিত টাওয়ারে টাওয়ারে; তবু তোর ভরিল না মন! কে বলেছে জলোচ্ছ্বাসে ভেসে আসা হরিণশাবক তোর হারাম ভক্ষণ? স্টিলডোম-পিষ্ট অসাড় জননীর বুকের বেদিতে স্তন্য চুষে চলা কুঁড়িটিকে ছুড়ে ফেলে রক্তবাহী জর্ডন নদীতে; শত্রুর বীজ কিনা। প্রথম পুরুষ থেকে আজ অব্দি পৃথিবীটা কবরস্থান। গণকবরের খোঁজে দেশে দেশে কী দরকার আর কোনো অভিযাত্রী দল? ঋষি-কবি রবীন্দ্রনাথ মরণশয্যায় শুয়ে আধবোজা চোখে, তুলো স্তূপ আর ভেজাবে না এই কথা ভেবে-দ্যাখো দ্যাখো, নাৎসীরা ধেয়ে আসছে রৌদ্রের সড়কে। পৃথিবীটা কে চালায়? মহান বিধাতা। ছি, বিধাতার খেয়ে বুুঝি কাজ নেই জঞ্জালে দৃষ্টি ফেরাবার! পৃথিবীটা কে চালায় বলো শুনি ফের? পৃথিবী চালায় সব আর্যের সন্তান। হায়! ফুঁ দিলেই হাতের তালুতে কারো ঝরে না যে বৃষ্টির মাদল। বছরটা ঘুরতেই নোবেলর অভিষেকে সিক্ত হবে শান্ত কোনো ভেড়া।

একটি প্রস্তাবনা ও কষ্ট

জাফর সাদেক

একটি সাদা প্রজাপতি উড়ে গেল জন্মসুখ চিহ্নে

একটি কালো প্রজাপতি উড়ে গেল জন্মগন্ধ রেখে

একশব্দে দু’জনেই বলে গেল তাদের অতীত

সম্ভাব্য ভবিষ্যতে আগামী জীবন

সাদা প্রজাপতি নীল হতে চাইলো শরীরময়

একেবারে ব্যথাভরা নীল ...

পৃথিবী হলো অস্থির, চাইলো সময়- ঘর তৈরি

লন, দোলনা, এলোকেশী ডিভান, কত কী

কালো প্রজাপতি চাইলো নীল, যে নীল সবাই চায়

পৃথিবী এদিক ওদিক তাকিয়ে মুহূর্তে হলো গোপন ঝড়

জন্মগন্ধ বিস্মিত হলো এমন শয্যায়, এমন ব্যথায়...

প্রচ্ছায়া

মাহমুদ টোকন

পড়ে শুনে শুনে, ঘরে গুনে গুনে

কতোকাল সয়েছি নীরবে। আমার যা আছে আছে

তোমার কী আসে যায় কবে?

বৃক্ষের অধর্ম দেখিনি। পিঁপড়েরা সমতা কল্যাণ

শিখিয়েছে বার বার তবু যদি এইসব মিথ্যে আলো জ্বেলে

হিংসা শিখিনি তবু ইচ্ছে করে চোখ দেই গেলে।

অভিশাপে বিবৃত নরক। বৈচিত্র্যে-গবেষণাগৃহ

স্বর্গঋদ্ধ যৌনসুষমা আর ভোগের বিষাদ...

দোকানদার ঈশ্বর-

তোমার কাছে বাকি চেয়ে লজ্জা দেবো না।

হায়েনার প্রমত্তের টেউ

শিমুল আজাদ

এ দেশের পুলিশ যা পারে, দেখো, অন্যরা পারে না।

পুলিশের ভয়ে ভদ্রলোক ভীষণ শঙ্কায় মরে,

পারতপক্ষে পালায় কেবলি পাঁচশ মিটার দূরে।

উষ্মের প্রকাশে প্রত্যেকেই জাগে স্বসমাজ ঘিরে

সুযোগের অপেক্ষায় কেউ কেউ পোড়ে ক্ষতবুকে।

অযথা হয়রানির বিচার না পেয়েই দীর্ঘশ্বাসে

অসহায় নাগরিক, গণতন্ত্রের খাঁচায় বন্দী।

উদ্দেশ্যের বলি হয়ে রক্তকে ঝরায় নির্যাতনে।

মৎস্যশিকারি ধৈর্যে ও কৌশলে ওঁৎ পেতে থাকে

তারা চাড় দেয় শুধু গ্রামে গঞ্জে পাড়ায় মহল্লায়।

সামাজিক শান্তি নাগরিক নিরাপত্তা স্বস্তিঘুমে,

আশা তবু প্রত্যাশার প্রহরেরা বিনিদ্র হতেছে।

একজনের অপরাধে অন্যকে জড়িয়ে অর্থক্ষয়ে,

হক না হক চেতনে দুষ্কর্মের দুর্দান্ত জাহাজে-

উঠে পড়ে যায় পাড়ি দেয় ক্লেদ ও পঙ্কিলতায়।

পাতা ঝরে সুশাসন স্বপ্ন হয়ে বাতাসে বিলীন-

অনাকাক্সিক্ষত অপ্রত্যাশিত এই হায়েনার দল

জাতিধ্বংসে নিপীড়নে সর্বদা জাগে প্রমত্ততায়।

শিমার

আশিক সালাম

ধারালো খঞ্জর হাতে নেমেছে শিমার

সারি সারি গাছ কাটে ক্ষিপ্র কুটিল করাত

ড্রাগনের জিভ চাটে আদিগন্ত নীল

ড্রাকুলার দাঁত কাটে সম্ভ্রান্ত সবুজ

অশ্লীল আঙুলে ঝরে আগুনের গুঁড়ো

জ্বলে ওঠে অনিঃশেষ বাতাসের ডানা

নিভে যায় স্বপ্নময় নিশ্বাসের দ্যুতি

পোড়ে আলোকলতার ঝাড়

এইসব প্রেতনৃত্য উলঙ্গ মহড়া

নৃশংসতা মুছে দিতে দাঁড়াবে নিশ্চিত

প্রতিবাদে-প্রতিরোধে সাহসী মানব

মঙ্গল-প্রদীপ হাতে অদম্য উজ্জ্বল

মানুষের চোখে নীল নক্ষত্রের ভাষা

নদীর প্রতিভা নিয়ে ছোটে।

ছোট কবিতা

আইউব সৈয়দ

সবুজ আড্ডার আনন্দ-যৌবন

হেসে ওঠে। দীর্ঘ করিডোরে খা খা নেই;

পুরোটাই পয়মন্তী

উজাড় করা ইতিহাস মগ্ন থাকে বাঁশির প্রেমে

আল্টামেরিন সৌন্দর্য সান্নিধ্যের স্বপ্নে একাকার

ঐতিহ্যের গ্রীবাতেও তুফানিয়া বেগ।

লোনাঘ্রাণে তুমিও ব্যস্ত যেন হররোজ...

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: