কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খালেদার মামলায় সাক্ষ্য বাতিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৯ জুন

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫, ০৪:৪৮ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রাষ্ট্রপক্ষের এক নম্বর সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদের সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি শেষে আগামী ২৯ জুন রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত ১৫ জুন সাক্ষ্য বাতিল করে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্দেশনা চেয়ে এ আবেদনটি জানান খালেদার আইনজীবীরা। ২৩ জুন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার কার্যদিবসে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মাহবুবউদ্দিন খোকন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।

খালেদার আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, বিচারিক আদালতে পাঁচটি কার্যদিবসে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বাদী ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যে কোনও ফৌজদারি মামলার আইন অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্য নিতে হয়। তা না হলে অনুমতি নিয়ে আইনজীবীর উপস্থিতিতে সাক্ষ্য নিতে হয়। এক্ষেত্রে কোনটাই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ কারণেই আবেদনে বাদীর সাক্ষ্য বাতিল ও প্রয়োজনে আবারও সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই সাক্ষ্য কেন বাতিল করা হবে না, সেই রুল চাওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিতেরও আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে বিচারিক আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও প্রথম সাক্ষী হিসেবে গত ২৫ মে পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদী হারুন-অর রশিদ। দুই মামলায়ই তাকে আংশিক জেরা করেছেন আসামিপক্ষ। আগামী ২৩ জুলাই দুর্নীতির দুই মামলায় প্রথম সাক্ষীর বাকি জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। গত ২৫ মে খালেদার আইনজীবীদের করা এই আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার তা খারিজ করে দিয়ে পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করেছেন। এ খারিজাদেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন আসামিপক্ষ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট আসামি ছয়জন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এতিমদের সহায়তার জন্য বিদেশি একটি ব্যাংক থেকে এই অর্থ আসে। ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট এ মামলার অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত বছর ১৯ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু হয়। আদালত তাগিদ দেওয়া পরও খালেদা শুনানিতে অনুপস্থিত থাকেন।

খালেদা ছাড়া অপর পাঁচ আসামি হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার শাসন আমলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০১৫, ০৪:৪৮ পি. এম.

২৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: