কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্যাংকগুলোতে এজএিম বা এভএিম র্পযায়ে মাত্র ৮.৫৪ শতাংশ নারী!

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫, ০৬:৪৭ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের ব্যাংকগুলো মানবসম্পদ উন্নয়নে কার্যকারী ভ’মিকা গ্রহণ করছে। ব্যাংকিং খাতে কর্মচারীদের গড় বেতন ও এলাউন্স বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাংকগুলোর প্রশিক্ষণ প্রদানে অর্থ ব্যায়ের প্রবণতা খুবই নাজুক। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ব্যাংকগুলো মোট খরচের মাত্র ০.০২ শতাংশ ব্যয় করে। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদানে ব্যাংকগুলো ই-লার্নিং ব্যবস্থাও চালু করেছে। শতাংশিক হিসাবে ৩৫ শতাংশ ব্যাংকে তা কার্যকর রয়েছে। নারী কর্মচারীদের প্রতি ব্যাংকগুলোর বিশেষ মনযোগ থাকলেও আনুপাতিক হারে তাদের পরিমাণ খুবই কম। এজিএম বা এভিপিএম পর্যায়ে তা মাত্র ৮.৫৪ শতাংশ। তবে ব্যাংকগুলোতে মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদানের পরিমাণ খুবই ইতিবাচক। এক্ষেত্রে ৯৪ শতাংশ নারীরা পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছে। দেশে কার্যরত ২০ টি ব্যাংকের উপর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত এক রিভিউ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে আসে। ৫৬ টি ব্যাংকের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও মাত্র ২০ টি ব্যাংক ইতিবাচকভাবে সারা দেয়। ওই ২০ ব্যাংকের দেওয়া ২০১২, ১৩ ও ১৪ সালের তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

সোমবার রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট অডিটরিয়ামে ব্যাংকের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এসব তথ্য জানানো হয়। গবেষণাধর্মী এ রিভিউ পেপারটি তৈরি করেন এসোসিয়েট প্রফেসর ও রিভিউ টিম লিডার আশরাফুল আল মামুন, বিআইবিএম’র সহকারী প্রফেসর মাসুদুল হক ও একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক রেকসোনা ইয়াসমিন। সমন্বয়কারী হিসাবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়ন-১ এর যুগ্ম পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড হেড অব ট্রেনিং সালাহুদ দিন আহমেদ।

কর্মশালায় রিভিউ পেপার উপস্থাপনকালে জানানো হয়, ব্যাংকগুলোর এটিম এম বুথ কিংবা কনট্রাকচুয়াল কর্মচারী হয়ে যারা কাজ করেন তাদের বেতন খুবই নাজুক, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মানবিকও। কিছু কিছু ব্যাংকের কর্মচারীদের অগ্নিনির্বাপন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও ডকুমেন্ট সহজেই কর্মচারীরা রক্ষা করতে পারবেন।

কর্মঘন্টা শেষ হওয়ার পরও ব্যাংক কর্মচারীদের অফিসে ধরে রাখার প্রবণতা রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, অফিস আওয়ার শেষ হওয়ার পরও কর্মচারীদের ব্যাংকে ধরে রাখার একটি খারাপ সংস্কৃতি রয়েছে আমাদের দেশে। ওই গবেষণায় দেখা যায় এর ফলে কর্মচারীদের কাজের গতিও কমে আসে।

কর্মচারীদের বয়সের ভিত্তিতে দেখা যায়, যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে এমন কর্মচারীর সংখ্যা মাত্র ১৮.৩৪ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মচারী ৪১.৪৩ শতাংশ আর ৪০ থেকে ৫০ বছরের বয়সী আছেন ১৮.১৯ শতাংশ। তবে ৫০ বছরের উপরে বয়সী কর্মচারী সংখ্যা ২২.০৪ শতাংশ। কিছু কিছু ব্যাংকে বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হওয়া এ কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলেও ওই গবেষণায় উঠে আসে। সার্বিক দিক দিয়ে বিষয়টি অমঙ্গলজনক, যা গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়। এমনকি এর ফলে এমডি পর্যায়ে দক্ষ জনবলের অভাব দেখা দেয় গবেষকরা মত দেন।

ওয়ার্কশপে উপস্থিত ছিলেন দ্যা প্রিমিয়ার ব্যাংকের ফরমার ম্যানিজিং ডিরেক্টর কে এ এম মাজেদুর রহমান, বিআইবিএম’র খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, বিআইবএম’র ডিরেক্টর জেনারেল ড. তৈফিক আহমেদ চৈধুরি, এস এ চৈধুরি, শাহ আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আগত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫, ০৬:৪৭ পি. এম.

২২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: