কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বর্ষার শাড়ি বর্ষার সাজ

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫
  • রেজা ফারুক

বর্ষার ভেজা ভেজা ছায়ায় ডুবে আছে সমগ্র প্রকৃতি। বাগানে বাগানে ফুটেছে কেয়া, কেতকী, জুঁই, অলকানন্দ, কামিনী, কাঁঠালচাঁপা। কদম গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে রৌদ্রোজ্জ্বল হলুদ কদমের ঘ্রাণময় উদ্বেল হাওয়ার আসা-যাওয়ার মুহূর্তগুলো বর্ষার নিবিড় ছোঁয়ায় যেন নিঃসর্গে ছড়িয়ে দেয় এক সতেজ আবহস্নিগ্ধ আমেজ। গ্রীষ্মের প্রাবল্যকে ছাপিয়ে বৃষ্টির দিনের মুখর উপস্থিতি যেমন নদীমাতৃক ছয়ঋতুবদ্ধ বাংলাদেশের পল্্অনুপলে বদলে যাওয়ার রঙটাকে স্পষ্ট করে দেয়। তেমনি দৈনন্দিন জীবনধারাতেও আসে ব্যাপক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন যে হঠাৎ করে আসে তা কিন্তু নয়, বর্ষার আগমনের প্রারম্ভে আকাশ তার রঙ বদলাতে থাকে। সেই রঙে দানা বাঁধে মেঘলা আবহ। তারপর সমুদ্র থেকে উঠে আসা মৌসুমী বায়ু প্রবাহ সারাদেশের ওপর বর্ষণের ছন্দময় মূর্ছনার এক আনন্দঘন আবেশ ছড়িয়ে দেয়। যে আবেশের রেশ ধরে নদী, খাল, বিল, হাওড়গুলো বর্ষার নতুন টলটলে পানির কল্লোলে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বৃষ্টির ধারায় সিক্ত হয় বাংলার প্রকৃতি, মৃত্তিকা, আবাদি জমি, ফুল, বৃক্ষ, উদ্ভিদ, বন-অরণ্য তথা জীবন ও প্রকৃতির প্রতিটি স্তবকে বর্ষাকালীন রিদমিক গুঞ্জরণ থেমে থেমে সেতারের মতো বেজে যায়, বাজতে থাকে নিমগ্ন ভাল লাগায়।

বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে, তেমনি জীবনকেও করে তোলে উৎসবমুখর। সারা বাংলায় অপার আনন্দে বর্ষা বরণের মায়াবি দৃশ্যপট যেমন চোখে পড়ে, তেমনি এই বৃষ্টি-বাদলের বিড়ম্বনার দৃশ্যও কিন্তু কম নয়। অনর্গল বৃষ্টিতে পথঘাট ডুবে গিয়ে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘœ ঘটানোর পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী ছেলেমেয়েদেরও ফেলে দেয় সাময়িক সমস্যায়। সেই সঙ্গে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কর্মজীবনকে টানা বৃষ্টির দিন ভীষণ টানাপোড়নের মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এছাড়া অফিসগামী নারী-পুরুষের জন্যও অবিশ্রাম বৃষ্টি ছেদ টেনে দেয় স্বস্তিময় কাজকর্মে। পথ চলতে গিয়ে পোশাকআশাক হয়ে যায় কাদায় মাখামাখি। নগর জীবনে বৃষ্টির বিড়ম্বনা যেন সবকিছু ছাপিয়ে যায়। রিকশা, যানবাহন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। কর্মজীবী নারী-পুরুষের কাছে বৃষ্টির সকাল কিংবা বিকেলটা বেশ অস্বস্তিকর লাগে। তারপরও বর্ষা এক অনন্ত সজীবতা নিয়ে, প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে দিতে আসে।

বর্ষার শাড়ি ও পোশাক

বর্ষাকালে সাধারণত মহিলা এবং কলেজ-ইউনিভার্সিটিগামী মেয়েদের বিশেষ বিড়ম্বনার মুখোমুখি করে তোলে। আর তাই তাদের বর্ষাকালীন শাড়ি ও ড্রেসের ব্যাপারে বেশ সজাগ থাকতে হয়। না হলে তাদের সৌন্দর্যময়তা ও ফ্রেশনেসটা খুবই ম্লান হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষার সময় আকাশের রঙ দেখে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট-প্যান্ট, জুতো নির্বাচন করাটা বিশেষ প্রয়োজন। না হলে আচমকা বৃষ্টিতে সব আয়োজন ভ-ুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ঘর থেকে বাইরে বেরুবার আগে যদি মনে হয় বৃষ্টি নামতে পারে। তাহলে শাড়ির ক্ষেত্রে সিল্ক, জর্জেট, শিফনকে প্রাধান্য দেয়াটাই ভাল। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রেও সিল্ক জাতীয় ড্রেসকে অগ্রাধিকার দেয়াটা যেমন উত্তম, পাশাপাশি প্যান্ট-শার্টের বেলায়ও বৃষ্টি উপযোগী ড্রেস পরাটাই ব্যাটার। আর পোশাকের রঙ যত গাঢ় আর উজ্জ্বল হবে ততই ভাল। কেননা সিল্ক ও গাঢ় রঙের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা প্যান্ট-শার্ট বৃষ্টির পানি ও কাদা, ময়লায় নষ্ট হওয়া থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পায়। একইভাবে জুতোর বেলাতেও সতর্ক নির্বাচন জরুরী। বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে এমন দিনে সু না পরাই ভাল। এক্ষেত্রে সিøপার, স্যান্ডেল, চটি জাতীয় জুতোই বর্ষা উপযোগী। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে লাল, কমলা, সবুজ, হলুদ, ধূসর কিংবা লেমন কালারটাকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে। তেমনি প্রিন্টেড পোশাকও বাদল দিনের পরিবেশ উপযোগী পোশাক। তাছাড়া নীলাম্বর বর্ষামুখর দিনের মনকাড়া রঙ ‘নীল’ তো রয়েছেই।

বর্ষার সাজগোছ

বর্ষায় একজন নারী কিভাবে সাজবেন সে বিষয়ে প্রথমেই কোন বিউটি এক্সপার্টের সহযোগিতা নিতে পারেন। বিশেষ করে পার্টি সাজের বিষয়ে। সাধারণ সাজের বিষয়ে তথা ঘর থেকে বেরুনোর আগে আবহাওয়া দেখে সেজে নিতে পারেন নিজের মতো করে। তবে বর্ষা দিনে হাল্কা সাজই সর্বোত্তম। যেন বৃষ্টির পানিতে আপনার সাজগোছ, প্রসাধন, স্মার্টনেসকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে না পারে। সেই সঙ্গে আপনার ব্যক্তিত্বময় অভিব্যক্তি যেন ক্ষুণ্ণ না হয় সে বিষয়েও এই বাদল দিনে একটু বেশিই সচেতন থাকতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যেন মেঘলা দিনের বিষণ্ণতা আপনার মনের ওপর কোন ছায়া ফেলতে না পারে। সারা বর্ষায় হৃদয়কে বৃষ্টির গুঞ্জনের মতোই গুঞ্জনময় রাখতে চেষ্টা করবেন।

ছবি : রুদ্র ইউসুফ

মডেল : বুলবুল টুম্পা

প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৫

১৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: