কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলা বানান বিষয়ে মুক্ত আলোচনা

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৫, ০১:১১ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলা বানানের ব্যবহারে যেন নৈরাজ্য চলছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানান রীতি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ বানান রীতিকেও আবার যে যার মতো করে ব্যবহার করছে। এখন প্রয়োজন সর্বজনগৃহীত একটি বানান রীতি। এ বিষয়ে অনেকেই কাজ করছেন। তাঁদেরই একজন ড. বেগম জাহান আরা। দীর্ঘদিন তিনি প্রমিত বাংলা বানান রীতি নিয়ে নিবেদিত আছেন গবেষণায়। সেই গবেষণার ফসল হিসেবে তিনি রচনা করেছেন ‘প্রমিত বাংলা বানান পরিমার্জিত সংস্করণ, ২০১২ কিছু কথা’ শীর্ষক গ্রন্থ। শনিবার বিকেলে এই বইটিকে কেন্দ্র করে প্রমিত বাংলা বানান বিষয়ক আলোচনাসভা হয় পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে। কেন্দ্রের অনুশীলন কেন্দ্রে এ আলোচনার আয়োজন করে বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র।

আলোচনাসভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন নজরুল গবেষক ও ভাষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কবি ও লেখক সাযযাদ কাদিরের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন এনসিটিবির সাবেক সদস্য ড. রিয়াজুল ইসলাম, ছড়াকার মাহবুব তালুকদার, কিশোর জগত পত্রিকার সম্পাদক মুখতার আহমেদ প্রমুখ। নিজের গ্রন্থের ভূমিকা থেকে আলোচনা করেন ড. বেগম জাহান আরা।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলা বাানানের প্রধান সমস্যা হচ্ছে লিপি ও ধ্বনির। বইয়ের ভাষার সঙ্গে মিলছে না মুখের কথা। আর পৃথিবীর কোন ভাষায়ই লিপি ও ধ্বনি পরস্পরকে অনুসরণ করেনি। ফলে ভাষা পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আলোচনার সূত্র ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ভাষা কিংবা বানানের ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানান রীতিই মূলত অনুসরণ হচ্ছে। তবে এই বানান রীতির মধ্যেও রয়েছে বিভ্রম। এই রীতি অনুযায়ী দেশী-বিদেশী শব্দের বানানের ক্ষেত্রে দীঘ ই-কার দীর্ঘ উ-কার ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এ রীতিটি আবার তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অথচ তৎসম শব্দ কোনটি অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে লেখিকা জাহান আরা তাঁর বইয়ে বাংলা বানানের নিয়ম থেকে বিভিন্ন বাহুল্য বর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন।

লেখিকা জাহান আরা তাঁর গ্রন্থের ভূমিকা থেকে উল্লেখ করে বলেন, আমার পুস্তিকার বানানে দীর্ঘ-ই, উ বা তাদের কার নেই। নেই মুধা-ন, ৎ এবং শব্দে তিন অক্ষরের যৌথ থেকে ধ্বনিহীন বর্ণও বাদ দেয়া হয়েছে। যেমনÑ স্বাস্থ্য, উজ্জ্বল, বৈশিষ্ট্য-কে লেখা হয়েছে স্বাস্থ্য, উজ্জ্বল ও বৈশিষ্ট্য। শব্দের প্রথম বর্ণে কোনরকম দিত্বকরণ নেই। সে বিষয়ে ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে। এই প্রয়াসকে বিপ্লব, সাহস, ভুল বা বিশেষ্যবাচক মন্দ শব্দ দিয়ে আখ্যায়িত করাসহ পাঠক যা কিছুই বলতে পারেন। কিন্তু হলপ করে বলতে চাই, যুগ যুগ ধরে যে উচ্চারণ বাংলা ভাষীর মুখে ভর করে আছে, সেই প্রকৃত উচ্চারণকেই বিজ্ঞান সত্যের আলোকে লিপিতে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। আরোপ করতে চাইনি কিছুই। মতান্তর থাকতেই পারে। তবে সেখানে ‘বাল্য সংস্কার’ (বঙ্কিমচন্দ্র) যেন না থাকে। তাহলে আধুনিক ভাষা বিজ্ঞানের অঙ্ক মিলবে না। ভুল অঙ্কের ভুল উত্তরই হতে থাকবে। পাওয়া যাবে না সমাধান। বিশ্বায়নের মঞ্চে যেতেই পারবে না প্রমিত বাংলার মতো আধুনিক ভাষা। তিনি আরও বলেন, ণ কিংবা ষ এই বর্ণগুলো প্রাচীনকাল থেকেই লুপ্ত হয়েছে। এগুলোকে বাদ দিলে ভাষার কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু আপোস করতে করতে প্রাকৃতজনের ভাষা ক্রমশই বিপন্ন হয়েছে।

অন্য বক্তারা বলেন, ভাষাকে চাপিয়ে দেয়া যায় না। সৃষ্টিশীল লেখকদের লেখনীর মাধ্যমে উঠে আসবে প্রকৃত ভাষা। এছাড়া বাংলা এই শব্দেরই অনেক রকমের বানান রয়েছে। তাই বানান পরিবর্তনের বিষয়টিকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। ধারাবাহিক ব্যাহত করা ঠিক হবে না। এছাড়া বাংলা বানানের বিশেষজ্ঞ বা প-িতরা এ বিষয়ে এক হচ্ছেন না।

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৫, ০১:১১ এ. এম.

১৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: