আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কুড়িগ্রাম ও মাদারীপুর ॥ নদীতে তীব্র ভাঙ্গন

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে দুধকুমার নদের প্রবল স্রোতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ গারুহারা এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি ও ভিটেমাটি। স্থানীয় লোকজন ঘরবাড়ি ভিটা সরিয়ে নিতে সময় পাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ গারুহারা এলাকায় দুধকুমার পারে গিয়ে দেখা যায় ভাঙ্গনের তীব্রতা। উত্তর ও দক্ষিণ গারুহারার এলাকায় বেগমগঞ্জ ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এক ঘণ্টায় প্রায় ২ শত মিটার ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গনকবলিত উত্তর গারুহারার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ কোরবান আলী জানান, পানির ঘূর্ণি পাকের কারণে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং নদের দুই পারের মাটি ভেঙ্গে পড়ছে। চোখের সামনে আবাদি জমি আর ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। এমন ভাঙ্গন জীবনে দেখি নাই। জরুরীভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে এলাকা দুটি অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এ অবস্থা দেখে ভিতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার সাহাদত হোসেন মাস্টার ও সোমেদ আলী। উভয়ে জানান, দুই বছর থেকে নদীর ভাঙ্গন চলছে। আমরা বারবার উর্ধতন মহলে জানিয়েছি। কোন লাভ হয় নাই। বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকা মোল্লা ও পরিষদের সচিব আব্দুর ছাত্তার জানান, আমি নদী পারের মানুষ। জীবনে এমন ভাঙ্গন দেখি নাই।

বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে দিনমজুর আবুল কাশেম, সেকেন্দার আলী, গোলাপ হোসেন। এ সময় তারা জানান, এখন কোথায় যাব জানি না। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে কোবাদ আলী, ছোমেদ আলী, ছামাদ, তাইজুল ও আহাদ। নদীর অবস্থা দেখে এরা সবাই শঙ্কিত। তারা বলেন, নিজের কোন জায়গা-জমি নাই। এখন কোথায় আশ্রয় নেব জাানি না। যেভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে দুই-একদিনের মধ্যে বাড়ি সরাতে হবে।

পানি উন্নয়ন বের্ডের সাব-উপসহকারী প্রকৌশলী মহিবুর ইসলাম জানান, দুধকুমার নদীতে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা এত বেশি নিমিষেই সব শেষ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, দুধকুমার নদীতে যে জায়গায় ৫শ’ মিটার ভাঙ্গন রোধে কাজ হচ্ছে তার উত্তরে ভাঙ্গন চলছে। এখানে আরও এক হাজার মিটার কাজ হলে ভাল হতো। তিনি আরও বলেন, গত বছর একটি প্রকল্প তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। পাস হয় নাই।

কালকিনিতে দুই কি.মি.

এলাকায় ভাঙ্গন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালকিনি মাদারীপুর থেকে জানান, এনায়েতনগর এলাকার ব্যাপারীকান্দি থেকে নতুন চর বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। এতে করে কৃষকদের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এদিকে বসত ঘর নিয়েও ভাঙ্গন আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ।

নদীর পেটে চলে যাচ্ছে ধান, পাট ও আখসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। নদী ভাঙ্গনের শিকার নূর হোসেন, মফিজুল ও শিপন হোসেনসহ ২০Ñ২৫ কৃষক জানায়, নদীর তা-বে আস্তে-আস্তে যে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে আমাদের জমিতো চলে যাচ্ছেই সেই সঙ্গে বসত ঘরও চলে যাওয়ার পথে। এভাবে জমি-জমা চলে গেলে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০১৫

১১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: