মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মার্কিন পর্যটকদের আগমন

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫
  • কিউবার অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব

কিউবার অর্থনীতির চেহারাটা বাইরে থেকে ভালই মনে হয়। কিন্তু ভিতরের দিকে তাকালে এর গলদগুলো নগ্নভাবে বেরিয়ে পড়ে। তবে গত ১৭ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ দশকের বৈরিতার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দেয়ার পর কিউবার অর্থনীতিতে একটা চাঙ্গাভাব আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, যদিও তার জন্য দেশটার অনেক কিছু করা বাকি আছে।

১৭ ডিসেম্বরের সেই ঘোষণার পর কিউবার ভাগ্যবান মুষ্টিমেয় জীবনে উন্নতি ঘটছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ বছর কিউবায় মার্কিন ট্যুরিস্টদের আগমন ১৭ শতাংশ বাড়বে। এতে দেশটার বৈদেশিক মুদ্রা বাড়বে ৫০ কোটি ডলার। জিডিপি বাড়বে প্রায় ১ শতাংশ। মার্কিন টুরিস্ট আগমন বৃদ্ধির সম্ভাবনায় কিছু কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন রেস্তরাঁ নতুন সাজে সেজে ফ্লোরিডার মানে পৌঁছাতে চেষ্টা করছে। ট্যুরিস্টদের জন্য বাড়তি থাকার ব্যবস্থা লাগবে। তার জন্য কিছু কিউবান টাকা পয়সা ধার করে তাদের বাড়িতে আলাদা প্রাইভেট রুমের ব্যবস্থা করছে। হোটেলগুলোরও একই অবস্থা।

গত বছর কিউবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১.৩ শতাংশ। কিন্তু ওপরে যে সব কর্মকা-ের কথা বলা হলো তাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা। গত বছর কিউবা সরকার নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন পাশ করে আশা করেছিল, এতে দেশে নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে, যার পরিমাণ হবে বছরে ২৫০ কোটি ডলার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন বিনিয়োগের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর একটা বড় কারণ সম্ভবত এই যে, সরকার এখনও বেসরকারী ব্যবসাকে অপছন্দের চোখে দেখে আসছে এবং মনে করছে যে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই অর্থনীতির মর্মবস্তু হয়ে থাকবে। এক অর্থনীতিবিদের ভাষায়, সরকার সমৃদ্ধি সৃষ্টি করতে চায়, কিন্তু সমৃদ্ধশালী নাগরিক নয়।

এর ফল দাঁড়াচ্ছে এই যে, কোনটাই সৃষ্টি না হবার ঝুঁকি থাকছে। কিউবায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে স্বনিয়োজিত লোকের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। এদের কিছু অংশ অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে লাভবান হয়। কিউবার যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী সৃষ্টি হচ্ছে এরা তার প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু সংখ্যগরিষ্ঠ শ্রমিক কর্মচারী যারা রাষ্ট্রীয় খাতে কর্মরত, তারা আয় করে দেশীয় মুদ্রা পেসো। এরা সরকারী রেশনের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশ থেকে টাকা পয়সা না পাঠানো হলে কিম্বা আইন বহির্ভূতভাবে তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত না হলে এদের সংসার চালানোই দায়। এতে করে সমাজে ঘোরতর অস্যাম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এই অসাম্য আরও তীব্রতার রূপ নিচ্ছে বিভিন্ন পণ্য বিশেষত খাদ্য ঘাটতির কারণে।

আরও কথা হলো, কিউবার সমাজে একটা দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে, যেখানে অসন্তুষ্ট সরকারী কর্মচারীরা কাজের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে মন্থর করে নিয়ে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং এইভাবে ঘাটতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে। অসাম্য দূর করার চেষ্টায় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের বিশেষত ডাক্তারদের বেতন বাড়িয়েছে। আখ ও চিনি শিল্পের শ্রমিক মজুরিও বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অংশত এই মজুরি বৃদ্ধির জন্য এ বছর বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৬ শতাংশের ওপর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব কিছুই প্রেসিডেন্ট ক্যাস্ট্রোর বিরাট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিলে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত এর আগের কংগ্রেসে তিনি কিছু সংস্কার কর্মসূচী চালু করেছিলেন। সেগুলোর সাফল্য ব্যর্থতার খতিয়ান এবং সেই সঙ্গে জবাবদিতিহা তাকে এবারের কংগ্রেসে দিতে হবে। বলাবাহুল্য, ক্যাস্ট্রোর সেই সব সংস্কার কর্মসূচী ফল বিপর্যয়কর হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কারন সংস্কার যথার্থ অর্থে ছিল প্রলেপসর্বস্ব।

এবারের কংগ্রেসে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসার সমূহ সম্ভাবনা আছে। যারা ক্ষমতায় আসতে পারেন তারা যথার্থ সংস্কারবাদী। ওরা এলে পরিবর্তন ঘটবে এই ভেবে ক্ষমতাসীনদের অনেকে শঙ্কিত। তারা মনে করেন যে পরিবর্তন বিপ্লবের অনেক সুফলকে নস্যাত করে দেবে যেমন বিনামূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কল্যাণ। এগুলো পুঁজিাবদের সুনামিতে ভেসে যেতে পারে।

চলমান ডেস্ক

সূত্রÑ দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৫

১০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: