মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রজন্মের জন্য ‘বিল্যান্সার’

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫
  • অঞ্জন আচার্য

ঘরে বসে ফ্রিল্যানসিংয়ের কাজ করে টাকা উপার্জন করতে পারছেন অনেকেই। বিশেষ করে ঘরে বসে থাকা ছাত্রছাত্রী এবং নারীদের জন্য ফ্রিল্যান্স কাজ করাই সবচেয়ে সুবিধার। তাই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়ছে এ কাজের। এতদিন এ কাজ করতে হতো বিদেশের সাইটের মাধ্যমে। কিন্তু এখন বাংলাদেশের নিজেদের সাইটই রয়েছে ফ্রিল্যান্স কাজ করার জন্য। গত ১ মে পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত হয়েছে দেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘বিল্যান্সার’। এরই মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার মার্কেটটিতে নিবন্ধন করেছে। পাশাপাশি ৩৫টি প্রজেক্টের কাজ সাইটটিতে উঠেছে। আরও ভাল খবর হলো, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ফেলোশিপ রেজিস্ট্রেশন মডিউল সংক্রান্ত একটি কাজ পেয়ে তা জমাও দিয়েছে এক ফ্রিল্যান্সার। সেলিম রেজা সিজান নামে ওই ফ্রিল্যান্সার ২০ হাজার টাকায় কাজটি পান। শুরুতেই এমন কাজ পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভাল কিছুই ইঙ্গিত করছে। এরই মধ্যে ফ্রিল্যান্সার ও বায়াররা পদচারণা শুরু করে দিয়েছে এই সাইটটিতে।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত শ্রমনির্ভর। তবে তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে মেধানির্ভরতার দিকে। বাংলাদেশেও এই ধারা শুরু হয়েছে। জনপ্রিয় সব অনলাইন কাজের বাজারে (মার্কেটপ্লেস) বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দশের মধ্যে। বাংলাদেশী মুক্ত পেশাজীবীদের (ফ্রিল্যান্সার) কাজ যেখানে সারা বিশ্বে সমাদৃত, সেখানে আমাদের নিজস্ব অনলাইন কাজের বাজার নেইÑ মূলত এমন চিন্তা থেকেই ২০১৩ সালে ‘আমার ডেস্ক’ নামে যাত্রা শুরু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি দেশি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখন এর নাম বিল্যান্সার (িি.িনবষধহপবৎ.পড়স)। এই ওয়েবসাইটে দেয়া কাজগুলো বাংলাদেশের।

বিল্যান্সারকে ওডেক্স-ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার, ভিওয়ার্কার, ইনভাটো স্টুডিও, পিপলপারআওয়ার, মিডিয়াবিস্ট্রো, গুরু,

পর্য, টপকোডারের

মতো আন্তর্জাতিক

ব্র্যান্ডগুলোর

যোগ্য করে

তোলার

চেষ্টা

করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও শফিউল আলম। তিনি জানান, মার্কেটে ঝামেলাহীন পেমেন্ট ব্যবস্থাসহ ফ্রিল্যান্সারা যাতে নির্বিঘেœ ও সহজে কাজ করতে পারে, তার সব সুবিধাই পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে বিল্যান্সারে।

এদিকে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই ফ্রিল্যান্সিং সাইটটি। একটি মার্কেটপ্লেস চালু করার পর এর উন্নয়নের জন্যও কাজ করে যেতে হবে। এরই মধ্যে মার্কেটপ্লেসটির উন্নয়নে কাজ করতে এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধন করেছেন। সরাসরি কাজ করাও শুরু হয়ে গেছে এই সাইটে। বর্তমানে এই মার্কেটপ্লেসে ৩শ’ জন সরাসরি কাজ করছেন।এর আগে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশী এই মার্কেটপ্লেসের নাম ‘বিল্যান্সার’ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্র্যান্ডি, মার্কেটপ্লেসের নির্ভরযোগ্য কারিগরি সক্ষমতা তৈরি, পেমেন্ট পদ্ধতি, ইনভেস্টমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের আস্থা ও আগ্রহের ভিত্তি ইত্যাদি বিষয়ে এগিয়ে নিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে যে কোন পরামর্শ কিংবা অভিযোগ জানানোর জন্য সরাসরি ফেসবুক পেজ রয়েছে তাদের। মার্কেটটি সম্পর্কে যে কোন পরামর্শ বা অভিযোগ জানানো যাবে ওই ফেসবুক পেজে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এই মার্কেটপ্লেস। তবে তথ্যপ্রযুক্তির খবরাখবর যারা রাখেন, তাদের কাছে দেশি মার্কেটপ্লেস হিসেব বিল্যান্সারের নাম ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন। এটি বাংলাদেশের বাংলাদেশী মার্কেটপ্লেস হিসেবে ইতোমধ্যেই পদার্পণ করে ফেলেছে। কারিগরিসহ নানাদিক চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি বাণিজ্যিকভাবে শুরু করা হয়েছে। ফলে এতদিন যারা অন্যের মার্কেটপ্লেসে নিজেদের কাজ তুলেছেন, তারা গর্বের সঙ্গে স্বদেশী এই মার্কেটপ্লেসে নতুন দিগন্তের দেখা পেতে পারেন।

বাংলাদেশের এই মুহূর্তে অন্যতম জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট হচ্ছে ব্র্যানোডটকম (িি.িনৎধহড়ড়ড়.পড়স)। ব্র্যানো ডট কমের মাধ্যমে ঘরে বসে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করা যায়। গ্রাহক চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি গুণগত মানসম্পন্ন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি দুবাই থেকে নামীদামী সব ব্র্যান্ডের আসল প্রসাধনী পণ্য আমদানি করে অনলাইনে বিক্রি করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় সব প্রসাধনী সামগ্রীর সম্ভার নিয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সব প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি।

বিল্যান্সারের সঙ্গে ব্র্যানোর আউটসোর্স-বিষয়ক একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে এখন থেকে ব্র্যানো তার আউটসোর্স করা সকল কাজই বিল্যান্সারের মাধ্যমে করানো হবে। দেশের মার্কেটপ্লেস যাতে খুব সহজেই এগিয়ে যায় এবং খুব সহজেই সাফল্যের মুখ দেখতে পারে, এই কারণে ব্র্যানোর সঙ্গে এই চুক্তি। এই বিষয়ে ব্র্যানোর প্রধান রাজীব রায় বলেন, ‘এটি বিশাল একটি উদ্যোগ। এই ধরনের মার্কেটপ্লেস এই মুহূর্তে সময়ের চাহিদা। এটি যত তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাবে, তত তাড়াতাড়ি দেশের আইটি খাতও এগিয়ে যাবে। দেশে বেকারত্বের চাহিদা ঘুচবে। আমাদের আর বিদেশী প্লাটফর্মের ওপর নির্ভর করতে হবে না। দেশেই যত কাজ আছে, তা দিয়েই খুব সহজেই এগিয়ে যেতে পারবে বিল্যান্সার। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসবে। এই কারণে এই মুহূর্তে যেটা দরকার সেটা হলো, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসা। আশা করছি, দেশের বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্র্যানোর মতো এগিয়ে আসবে এবং বিল্যান্সারকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে।’

এ প্রসঙ্গে মার্কেটপ্লেসটি নিয়ে কাজ করা এর প্রধান শফিউল আলম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে একটু একটু করে এর কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসের মতো এত বড় একটি প্লাটফর্মের যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ তা শেষ করে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের অবশ্যই দেশীয় কোম্পানির সহযোগিতা আবশ্যক।

আমিও আশাবাদী, ব্র্যানোর মতো বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসবে এবং তারাও তাদের কাজগুলো এই মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে দিয়ে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই মার্কেটপ্লেস নিয়ে অনেক বড় কিছু করা সম্ভব।’

প্রকাশিত : ৯ জুন ২০১৫

০৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: