মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আকস্মিক ঢামেক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ॥ অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫, ০১:০২ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বুধবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকের গায়ে এ্যাপ্রোন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনুপস্থিত এ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্ধতনদের নির্দেশ দেন তিনি।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে জরুরী বিভাগের ইমার্জেন্সি ওটিতে (ইউওটি) থাকা রোগীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় ওই বিভাগে থাকা দায়িত্বরত চিকিৎসকের গায়ে এ্যাপ্রোন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পরে হাসপাতালের ২০৪, ২০৭, ২০৮, ২১০ এবং ২১১ নং ওয়ার্ডে ঢুকে রোগী এবং চিকিৎসকদের খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। এ সময় বেশ কিছু ওয়ার্ডে এ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার উপস্থিত না থাকায় তাদের নাম লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি। তবে মন্ত্রী হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেন।

যাওয়ার সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল নয়, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে এরূপ ঝটিকা পরিদর্শনে যাবেন তিনি। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. দ্বীন মুহাম্মদসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ এখন সরকারের স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাচ্ছে ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে সরকার স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত করেছে। বাংলাদেশ এখন পোলিও মুক্ত। ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মাও নির্মূলের পথে। এক্ষেত্রে বেসরকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকাও অনেক। তারা সরকারের সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে আসলে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া সম্ভব।

মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অর্ডিনেশন মেকানিজমের ওয়েবসাইট উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নূরুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ, বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার গত ছয় বছরে নানাবিধ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে যার সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু দুর্গম অঞ্চল ছাড়া বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ এখন নেই বললেই চলে। যক্ষ্মার মতো মরণব্যাধির হাত থেকেও বাংলাদেশ অনেকটাই মুক্ত। এসব ক্ষেত্রে বেসরকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় সরকার আরও কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, আমাদের শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসসহ ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকে সাফল্য আজ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। এমন মজবুত অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাত্রার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু , স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশের ৯৯ ভাগ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিসেবার ব্যবস্থা। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সূচকগুলোকে আরো উর্ধমুখী করতে গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তা কামনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

প্রকাশিত : ৪ জুন ২০১৫, ০১:০২ এ. এম.

০৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: