আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অবৈধ বিলবোর্ড না রাখার ঘোষণা চসিক মেয়রের

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫, ০১:৪৬ পি. এম.

নিজস্ব সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম ॥ উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে কোন অবৈধ বিলবোর্ড না রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

আজ সোমবার সকাল থেকে থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে।

সকাল সাড়ে নয়টা থেকে অভিযান শুরুর পর সকাল ১১টার দিকে নগরীর ষোলশহর ২নং গেইট এলাকায় যান মেয়র। এসময় তিনি প্রায় ১০ মিনিট সেখানে অবস্থান করে উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

পরে সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের তালিকা অনুযায়ী সকল অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হবে। চট্টগ্রামে কোন অবৈধ বিলবোর্ড থাকতে পারবেনা।’

এসময় কয়েকজন বিলবোর্ডের নথি নিয়ে আসলে মেয়র বলেন, এসব নথি তারা কোত্থেকে আনছে সেটা আমরা জানিনা। সিটি করপোরেশনে এ ধরনের কোন নথি সংরক্ষিত নেই।

নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নির্দেশে প্রায় ছয়মাস পর পুনরায় এ অভিযান শুরু করেছে সিটি করপোরেশন।

করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বলেন,‘অবৈধ বিলবোর্ড সরিয়ে নিতে মালিকদের ৩১ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যারা নির্ধারিত সময়ে বিলবোর্ড সরিয়ে নেয়নি তাদের বিলবোর্ড উচ্ছেদ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।’

আ জ ম নাছির উদ্দিন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ১৬ মে একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নগরীর অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদের ঘোষণা দেন।

২৫ মে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব ও ভূমি শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নগরীর সবগুলো বিলবোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিনকে বিলবোর্ড উচ্ছেদের নির্দেশ দেন তিনি।

৩১ মে’র মধ্যে অবৈধ বিলবোর্ড সরিয়ে নিতে মালিকদের সময় বেঁধে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে সিটি করপোরেশন। সময় পার হলেও ‍অবৈধ বিলবোর্ড সরিয়ে নেয়নি ব্যবসায়ীরা।

করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত নগরীতে ২১৯টি বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে ছয় হাজার ১৭০টি বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ডের অনুমোদন দেয় কর্পোরেশন। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৬৪টি কর্পোরেশনের নিজস্ব জায়গায় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। বাকিগুলো রয়েছে রেলওয়ে ও বন্দরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জায়গায়।

২০১৩ সালের জুন থেকে নতুন বিলবোর্ড অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পুরনো বিলবোর্ডের নবায়নও বন্ধ রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নগরীতে বর্তমানে কোন বৈধ বিলবোর্ড নেই।

কিন্তু ২৫ মে বৈঠকে নগরীতে ৪২৯টি বৈধ বিলবোর্ড ও এক হাজার ৩৩টি অবৈধ বিলবোর্ড আছে বলে মেয়রকে অবহিত করেন রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম নগরীতে বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা আছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম সফরে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যত্রতত্র বিলবোর্ড নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী এজন্য সিটি কর্পোরেশনকেও দায়ী করেন।

সর্বশেষ গত ২২ মে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে ছয়টি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন।

প্রকাশিত : ১ জুন ২০১৫, ০১:৪৬ পি. এম.

০১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: