মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এসএসসির ফলে পেট্রোল বোমার প্রভাব ॥ পাসের হার কমেছে

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫
এসএসসির ফলে পেট্রোল বোমার প্রভাব ॥ পাসের হার কমেছে
  • জিপিএ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে
  • ফল খারাপের আরেকটি কারণ বলা হচ্ছে গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ঘটেছে তেমনটাই। বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল অবরোধের নামে চালানো পেট্রোল বোমা হামলা, মানুষ হত্যাসহ ভয়াবহ নাশকতার খেসারত দিল সারাদেশের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাপক আপত্তির পরেও সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে গণিত পরীক্ষা নেয়ার খেসারত। কয়েক বছরের অব্যাহত ভাল ফলের পর এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। গত বছর রেকর্ড সৃষ্টি করে ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৮৭ দশমিক শূন্য চার শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় চার দশমিক ৩ শতাংশ কম। সার্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জনে। যেখানে গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল রেকর্ড সংখ্যক এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন।

আটটি সাধারণ, একটি কারিগরি ও একটি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন। ফেল করেছে এক লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ জন। গত বছর তার আগের বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছিল ৫১ হাজার ৫০ জন। এবার গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ কমেছে ৩০ হাজার ৩৭৫ জন। এবার ৯৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রাজশাহী আর সব শেষে সিলেট বোর্ড। যেখানে পাস করেছে ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। শনিবার একযোগে দশ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি এবং সমমানের দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সকালে গণভবনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানরা তার সঙ্গে ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে অভিনন্দন জানান। এরপর দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় শিক্ষাসচিব শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর দু’টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট অথবা কেন্দ্র থেকে ফল জানতে পারে। মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানতে পারে তারা। প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের ইমেইলেও ফল পাঠিয়ে দেয় স্ব-স্ব শিক্ষা বোর্ড। তবে দেশের কিছুৃ এলাকায় বিদ্যুত ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ওয়েবসাইট ও ইমেইলে ফল জানার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ফল খারাপের দুই কারণ ॥ বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার কবলে পড়া এবারের পরীক্ষা ছিল অন্য যে কোন বছরের তুলনায় আলোচিত। পরীক্ষার মাসে লাগাতার হরতাল অবরোধ দিয়ে মানুষ হত্যা ছিল শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সর্বস্তরেরর মানুষের কাছে আতঙ্ক। ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে পরীক্ষা চলে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত। বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধের মধ্যেই প্রায় দুই মাস ধরে চলার পর শেষ হয় লিখিত পরীক্ষা। অথচ ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১০ মার্চ। একটি দিনের পরীক্ষাও পূর্ব ঘোষিত সময়সূচী অনুসারে হয়নি। দফায় দফায় হরতালে ১৬ দিনে ৩৬৮টি পরীক্ষা পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা পিছিয়ে নিতে হয়েছে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ থেকে শুরু করে সকলেই বলছেন, হরতাল-অবরোধসহ নাশকতার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভালভাবে পূর্ব ঘোষিত নির্দিষ্ট সময়ে একটি পরীক্ষাও দিতে পারেনি। এর ফলে ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। এভাবে নাশকতা না চালালে ফল আরও ভাল হতো। পাসের হারও বাড়ত। খারাপ ফলের কারণ কি? এক প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, পরীক্ষার সময়টাতে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি ও মার্চ সময়টা ছিল ২০ দলীয় জোটের নজিরবিহীন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সময়। ফলে এসএসসি পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একটি পরীক্ষাও নির্দিষ্ট সময়ে হতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা হয়ত ভেবেছে কাল পরীক্ষা। দেখা গেছে তা হতে পারেনি। পরদিন এক পরীক্ষা ভেবেছে, নাশকতায় তাও ওলটপালট। এভাবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। এভাবে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে আগের তুলনায় ভাল ফল করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নাশকতা চালিয়ে অনেক মানুষ হত্যা করা হয়েছে। যাঁরা মারা গেছেন আহত হয়েছেন তাদের ছেলেমেয়ে বা পরিবারের অনেকেই পরীক্ষা দিয়েছে। আমাদের শিক্ষককেও পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে পরীক্ষা নিতে হয়েছে।

এসএসসি’র ফলে পিছিয়ে পড়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এক ধাপ পিছিয়ে তাদের অবস্থান চতুর্থ। এজন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা দায়ী করছেন পরীক্ষার সময়ে চলা ২০ দলের রাজনৈতিক সহিংসতাকে। প্রত্যেকেই বলছেন, পরীক্ষা চলাকালে হরতাল ও অবরোধের মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়ার পর জানে, পরীক্ষা হবে অন্য বিষয়ে। মনের ভয়কে জয় করে তারা পরীক্ষা দিয়েছে। তারপরও তারা প্রমাণ করেছে নিজেদের। সবাইকে সাধুবাদ দিতেই হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। এমনটাই মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম। তিনি বলেন, এবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। শুক্রবার-শনিবার ছাড়া তো কোনা পরীক্ষাই হয়নি। রুটিন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে বিভ্রান্তিতে ছিল শিক্ষার্থীরা। এত কিছুর পরও শিক্ষক, অভিভাবক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আজকের এই ফলে আমরা সত্যি আনন্দিত।

তবে ফল খারাপের পেছনে আছে আরও একটি কারল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে গণিত পরীক্ষা নেয়ার ফলেও খারাপ হয়েছে ফল। গত বছরের তুলনায় অধিকাংশ বোর্ডেই ৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী এ বিষয়ে ফেল করেছে এবার। কোন কোন বোর্ডে গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ফেল করেছে। ফলে সার্বিক ফলও খারাপ হয়েছে। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা- দুটোই কমেছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও জিপিএ-৫ কমেছে ৮৮৯টি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান খান বলেন, প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষায় খারাপ ফলই সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এর মূল কারণ, সব স্কুলে প্রশিক্ষিত গণিত শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে। শহরের স্কুলগুলো গণিতে ভাল ফল করলেও গ্রামের স্কুলগুলোতে এ বিষয়ে বেশি হারে ফেল করেছে। এবার প্রথমবারের মতো গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রথমবারের মতো এ প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে আমরা ধাক্কা খেয়েছি।

এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও হরতালের প্রভাব পড়েছে ফলাফলে। এই বোর্ডে গণিতে গত বছর পাস করেছিল ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, এবার পাস করেছে ৮৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গণিতের একই অবস্থা অন্যান্য বোর্ডেও। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, গত বছর পাস করেছিল ৯৮ এবার ৯২ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া কুমিল্লায় গত বছর পাস করে ৯৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবার ৮৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বরিশালে গত বছর ছিল ৯৭ দশমিক ৩২ এবার ৮৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যাশোর বোর্ডে গত বছর ছিল ৮৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

বোর্ডভিত্তিক ফল ॥ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা এবার কমেছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার কমেনি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তিন লাখ ৪৯ হাজার ৭৪০ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে তিন লাখ দশ হাজার ৪৬ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৯৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮০১ জন, গত বছর এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৬ হাজার ৭৯৫ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ২৭ হাজার ৫২০ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই বোর্ড থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৮৭৩ জন শিক্ষার্থী, গত যা ছিল ১৯ হাজার ৮১৫ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৮ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ, গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দশ হাজার ১৯৫ জন শিক্ষার্থী, আর গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল দশ হাজার ৯৪৫ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে অংশ নিয়েছিল এক লাখ ২৮ হাজার ১৭৫ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৮৪ দশমিক ০২ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৯২ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাত হাজার ১৮১ জন, গত বছর যা পেয়েছিল দশ হাজার ৯৪৪ জন। চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৮৮ হাজার ৪৬৮ জন। পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাত হাজার ১১৬ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১০ হাজার ৮৮৪ জন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৭০ হাজার ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৯০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ১৭১ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছর পেয়েছিল চার হাজার ৭৬২ জন। সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৭২ হাজার ২৪ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৮৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৪৫২ জন শিক্ষার্থী, গত বছর যা পেয়েছিল তিন হাজার ৩৪১ জন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ২৬ হাজার ৫৩২ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৯৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে দশ হাজার ৮৪২ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছর পেয়েছিল ১৪ হাজার ৮২৭ জন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ জন ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৯০ দশমিক ২০ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৩৩৮ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১৪ হাজার ১৩ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ দশ হাজার ২৮৯ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৮৩ দশমিক ০১ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৮১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী, গত বছর এ সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৯৫০ জন।

বিদেশ কেন্দ্রের ফল ॥ বিদেশের আটটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২৯৯ জন ছাত্রছাত্রী। এদের মধ্যে উর্ত্তীণ হয়েছে ২৯২ জন। গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২ জন।

ফল পুনর্নিরীক্ষা ॥ আজ থেকে ৩০ মে পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে শুধু টেলিটক মোবাইল থেকে আবেদন করা যাবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শুধু টেলিটক মোবাইল থেকে আবেদন করা যাবে। ৬ জুন পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবে। পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতিবিষয় এবং প্রতিটি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা ফি কাটা হবে। ফিরতি এসএমএসে আবেদন বাবদ কত টাকা কাটা হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেয়া হবে। এরপর আবেদন করতে ইচ্ছুক হলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

যেসব বিষয়ে দুটি পত্র (যেমন- বাংলা, ইংরেজী) রয়েছে সেসব বিষয়ে একটি বিষয় কোডের বিপরীতে দুটি পত্রের জন্য আবেদন হিসাবে গণ্য হবে এবং ফি হিসাবে ২৫০ টাকা কাটা হবে। একই এসএমএসের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে। সেক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে কমা (,) দিয়ে লিখতে হবে।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৫

৩১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: