কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চাঁপাইয়ের চার নদী নাব্য হারিয়ে এখন মরা খাল

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫
  • পদ্মার দু’ধারে জেগে ওঠা বালু চরে আবাদ করা যায় না

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ সীমান্ত ঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত চার নদী তিন দশক ধরে ভরাট হতে হতে একেবারে নাব্য হারিয়েছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীগুলোর মধ্যে পাগলা, পুনর্ভবা ও মহানন্দার প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এখন মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। মহানন্দায় কোন স্রোত নেই। পাগলা ও পুনর্ভবা একেবারে পানি শূন্য হয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এ তিনটি নদীর উজানে পড়শী দেশের বাঁধ। পাগলার উজানে শুধু বাঁধ নয়, গতি পথ ফিরিয়ে দিয়ে চিরস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। মহানন্দার উজানে চারটি বাঁধ। আর পুনর্ভবা একইভাবে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ একেবারে বন্ধ রাখা হয় বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত। আর পদ্মার প্রবাহ বন্ধ না হলেও দু’ধারে বিশাল বিশাল বালুচর ও স্রোতহীন সঙ্কীর্ণ নদীতে পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণ সবার জানা, উজানে বিশাল ফারাক্কা বাঁধ। শুধু বাঁধ নয় নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে মরা ভাগিরথী নদীকে নাব্য করেছে। তারা নদীর দু’পাশে সেচ সুবিধা দিয়ে খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছে। পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঠুটাপাড়া দিয়ে বাংলাদেশে পদ্মা বা গঙ্গা প্রবেশ করেই হোঁচট খেয়েছে। বাংলাদেশে পদ্মার দু’ধারে জেগে উঠেছে বালুচরা এ বালুচরে কোন কিছু আবাদ করাও যায় না। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর তা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিন দশকের অধিককাল সময় ধরে ইচ্ছেমতো পদ্মার পানি গ্রহণ ও হঠাৎ করে ব্যারেজের অধিক গেট খুলে পানি ছাড়াতে বাংলাদেশে হঠাৎ বন্যা বা ব্যাপক ভাঙ্গনের কারণে অনেক স্থানে গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।

একই কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পশ্চিম তীরের ভাঙ্গন ঠেকাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ভাঙ্গনে এ জেলার সীমান্তের লাখো মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে, আম বাগানসহ ফসলের জমি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। নদীর গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তনে পদ্মা তার অবস্থান থেকে প্রায় ১০ মাইল ভিতরে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে রাজশাহীর চারঘাট হয়ে পাবনায় যমুনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার পথে মাইলের পর মাইল বালুচর জেগে উঠেছে। জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী মহানন্দা। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ পড়েছে। হয়েছে বাধাগ্রস্ত তারপরেও প্রবাহ একেবারে থেমে যায়নি। একইভাবে পাগলা ও পুনর্ভবা ছিল খুবই খরস্রোতা। শুস্ক মৌসুমে এসব নদীর পানি কমে গেলেও কোন সময় প্রবাহ বন্ধ হয়নি। দু’দশক আগেও এই প্রবাহ দেখা গেছে।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: