মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গ্র্যামিতে মধ্যমণি সুইফট

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

টেইলর সুইফট- ২২ বার মনোনীত হয়ে ৭বার অর্জন করেছেন সঙ্গীতের সবচেয়ে বড় সন্মান ‘গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড’। একজন শিল্পী সঙ্গীতের জন্য ৪৪০ বার মনোনীত হয়ে ২৬৮বার পুরস্কার পেয়েছেন! এর মধ্যে ২১টি অর্জন ছিল বিশেষ এ্যাওয়ার্ড, যেখানে অন্য কোন সঙ্গীত তারকা মনোনীত হওয়ারই সুযোগ পায়নি। সম্প্রতি ৫৭ তম গ্রামি এ্যাওয়ার্ডে তিনি জিতেছেন কয়েকটি পুরস্কার। সুন্দরী ও বিখ্যাত সাড়াজাগানো কান্ট্রি গায়িকা টেইলর সুইফটের সঙ্গীতজীবন ও অর্জন নিয়ে লিখেছেন

পান্থ আফজাল

ক্যালিফোনিয়ার লস এঞ্জেলস এর স্ট্যাপল সেন্টারের সেদিনের সন্ধ্যাটা যেন একটু অন্যরকম ছিল। এমন জমকালো আয়োজন আর সঙ্গীত জগতের তারকামেলা দেখতে উন্মুখ যেন বিশ্বের সকল প্রান্তের ভক্ত ও সঙ্গীত অনুরাগীরা।সমস্ত বিশ্ব সেদিন টিভি সেটের সামনে সঙ্গীতের এই সবচেয়ে বড় আসর দেখতে বুঁদ হয়ে তাকিয়ে ছিল । কি ছিল না এই জমকালো ও বিশ্বমানের আয়োজনে? আর সঙ্গীতের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন মহারথীই বা আসেননি? ৫৭তম বার্ষিক এই গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ডে আসর আলোকিত করেছিলেন স্যাম স্মিথ,বিয়ঞ্চ,ক্রিটিনা আরগুইলা,ম্যাডোনা,কেনি ওয়েস্ট,টেইলর সুইফট,ফ্যারেল উইলিয়ামসসহ নামীদামী সব সঙ্গীত মহাতারকারা। তবে সেদিনের সেই আয়োজনে সবাই ভিন্নভাবে নজর কাড়লেও একজনের কথা না বললেই নয়। যিনি তার সৌন্দযের দ্যুতি আর মোহময় সঙ্গীতের জাদুতে দুনিয়ার অগনিত ভক্তদের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন।সেদিনের সেই রেড কার্পেটে ফিরোজা রঙের বিখ্যাত ‘এলি স্যাব’ এর গাউন আর রক্তবর্নের ‘গিউসেপ্পি জেনত্তি’ স্যান্ডেল পরে যখন আবির্ভূত হলেন এই সঙ্গীত তারকা তখন মনের অজান্তেই মুগ্ধ নয়নে সবাই একযোগে বলে উঠল ‘ওয়াও,দিস ইস টেইলর সুইফট’! ১৯৮৯সালের ১৩ ডিসেম্বর পৃথিবীতে আগমন করা এই বিখ্যাত কান্ট্রি সঙ্গীততারকা ও সৌন্দযের রাজকন্যার নামই টেইলর এ্যালিশন সুইফট, যিনি একাধারে একজন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী,গীতিকার,রেকর্ড প্রযোজক,অপূর্ব গিটার বাদক এবং দুর্দান্ত অভিনেত্রী। পাঠক নিশ্চয় ভাবছেন, একজন মানুষের পক্ষে এত কিছু করা সম্ভব? সম্ভব এবং সেটি করে দেখিয়েছেন টেইলর সুইফট।

২০০৬ সালে টেইলর সুইফট তার প্রথম গান ‘টিম ম্যাকগ্রো’ প্রকাশ করে এবং এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘টেইলর সুইফট’ ,যা রেকর্ডিং ‘ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’ কর্তৃক প্লাটিনাম প্রত্যয়ন পায়। ২০০৮ এর নভেম্বরে টেইলর সুইফট তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ফেয়ারলেস’ প্রকাশ করে। ২০০৮ এর শেষে ‘ফেয়ারলেস’ ও ‘টেইলর সুইফট’ এর বিক্রির পরিমাণ দাঁডায় যথাক্রমে ২.১ এবং ১.৫ মিলিয়ন।আর এই ‘ফেয়ারলেস’ অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১১ সপ্তাহ ধরে শীর্ষস্থান দখল করেছিল, যা কোন এ্যালবাম ২০০০ সালের পর কখনই পারেনি। আমেরিকান ‘ফোবর্স’ ম্যাগাজিনের র‌্যাঙ্কিং এ টেইলর সুইফট এর অবস্থান ছিল ৬৯তম প্রভাবশালী তারকা । যার আয়ের পরিমান ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে বিলবোর্ডে সুইফটকে বর্ষসেরা সঙ্গীত গায়িকার খেতাব দেয়া হয় এবং ২০১০ সালে ‘ফেয়ারলেস’ বর্ষসেরা এ্যালবাম হিসেবে অর্জন করে গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড। আর ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যালবামগুলো সবমিলিয়ে প্রায় ৪০ কপি বিক্রি হয়,যা তাকে ‘নিলসেন সাউনডস্ক্যানের’ জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বিক্রিপ্রাপ্ত মাকিন সংগীতশিল্পীর মর্যাদা দেয়। সঙ্গীত এও মহান তারকার চতুর্থ আলবাম ’রেড’ প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে এবং ২০১৪ সালের ২৭নভেম্বর প্রকাশিত হয় তার পঞ্চম অ্যালবাম’ ১৯৮৯’। কানাডীয় কান্ট্রি সঙ্গীতশিল্পী শানায়া টোয়াইন টেইলর সুইফটকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।এছাড়া সুইফট লিয়নে রাইমস, টিনা টার্নার, ডলি পার্টন-এর গানও সুইফটকে অনুপ্রানিত করে। তাঁর দাদি ছিলেন পেশাদার অপেরা শিল্পী। টেইলরের আগ্রহ ক্রমাগত কান্ট্রি সঙ্গীটের দিকে ঝুকে পড়েন এবং খ্যাতিমান কান্ট্রি সঙ্গীতশিল্পী প্যাটসি ক্লাইনের বিশেষ ভক্ত হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে থাকে।

১১ বছর বয়সে সুইফট তার কারাওকে দিয়ে গাওয়া সঙ্গীত বিতরণের মাধ্যমে কোন রেকর্ড কোম্পানির সাথে চুক্তির আশায় প্রথম নাশভিলে যায়। শহরের প্রায় প্রতিটি কোম্পানিতেই সে তার গাওয়া গান জমা দেয়। কিন্তু সবাই তাকে ফিরিয়ে দেয়।পেনসিলভানিয়াতে ফেরার পর সুইফটকে ইউ.এস. ওপেন টেনিস টূর্নামেন্টে গান গাওয়ার জন্য বলা হয়। এ অনুষ্ঠানে সুইফট জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে যা শ্র্রোতাদের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।এরপর সুইফট নাশভিলের গীতিকারদের সম্মেলন স্থান ,ব্লুু বার্ড ক্যাফেতে গান লেখা আরম্ভ করলো। এখানে সুইফট স্কট বার্কেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। স্কট, সুইফটকে তাঁর সদ্য প্রতিষ্ঠিত রেকর্ড কোম্পানি বিগ মেশিন রেকর্ডের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেন। ১৪ বছর বয়সে টেইলর সুইফটকে সনি মিউজিক পাবলিশিং গ্রুপ ভাড়া করেন। আর শুনলে অবাক হবেন যে, সুইফটই সবচেয়ে কম বয়সী সঙ্গীত শিল্পী , যিনি এই সুযোগ পান।

টেইলর সুইফট তাঁর প্রথম গান ‘টিম ম্যাকগ্রো’ প্রকাশ করেন ২০০৬ সালে, যা বিলবোর্ডের হট কান্ট্রি সং চার্টে ষষ্ঠ স্থান লাভ করে।তাঁর নিজের নামে একক অ্যালবাম টেইলর সুইফট প্রকাশিত হয় ২০০৬ এর ২৪ অক্টোবর।অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১৯ তম স্থান লাভ করে এবং প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই এটি ৩৯০০০ কপি বিক্রি হয়।পরবর্তিতে অ্যালবামটি বিলবোর্ড টপ কান্ট্রি অ্যালবাম চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে এবং বিলবোর্ড ২০০ চার্টে পঞ্চম স্থাান লাভ করে। ২০০৮ সালের নভেম্বর নাগাদ, বিশ্বব্যাপী অ্যালবামটি ৩ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয় এবং অ্যালবামের একক সঙ্গীত ৭.৫ মিলিয়নের অধিকবার ইন্টারনেটে ডাউনলোড করা হয়। ‘আই হ্যাভ সেইড নো’ ছিল টেইলর সুইফটের অপর একটি সফল গান যা ২০০৮ এর ২৩শে আগস্ট বিলবোর্ড তালিকায় প্রথম স্থান লাভ করে। সুইফট ‘শুড আই হ্যাভ সেইড নো গানটি সুইফট ৪৩তম বার্ষিক অ্যাকাডেমি অফ কান্ট্রি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এ পরিবেশন করেন। মজার ব্যাপার হল,পরিবেশনের সময় তাঁর পরনে ছিল শার্ট এবং জিন্সের প্যান্ট কিন্তু অল্প সময় পরেই সে তার জামা খুলে ফেলে এবং দেখা যায় যে তাঁর পরনে কাল পোশাক। পরে শোনা যায়, দশ বছর বয়সে হতে তিনি এ ভাবেই গান পরিবেশন করতে চেয়েছিলেন।

প্রকাশিত : ২১ মে ২০১৫

২১/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: