রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এগিয়েছে ক্রিকেট, বেড়েছে প্রত্যাশা...

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫
  • জাহিদুল আলম জয়

বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের নব্য পরাশক্তি! টেস্টের ক্ষেত্রে বলা না গেলেও ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচের প্রেক্ষিতে বিষয়টির সত্যতা মিলেছে। স্বয়ং ক্রিকেট বোদ্ধারা এমন স্বীকৃতি দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। যে কারণে ১৬ কোটি বাঙালীর প্রত্যাশা ও চাহিদার মাত্রাও বেড়েছে।

চলতি বছরটা যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত সাফল্য পাচ্ছে টাইগাররা। বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে সাফল্যের পথে যাত্রা শুরু। যে ধারা অব্যাহত আছে সদ্য শেষ হওয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে। টেস্ট সিরিজে হারলেও ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে ‘বাংলাওয়াশ’ ও একমাত্র টি২০ তেও সহজে জয় পায় লাল-সবুজের এই দেশ। টানা চার ম্যাচে পাকিদের রীতিমতো কাঁদিয়ে ছাড়ে টাইগাররা। খুলনায় প্রথম টেস্টে নজরকাড়া পারফরমেন্স প্রদর্শন করে তামিম, ইমরুল, সাকিবরা ম্যাচ ড্র করেন। মিরপুরে শেষ টেস্টে ব্যাটিংটা ভাল না হওয়ায় হারতে হয়েছে। তবে এতে ম্লান হয়নি টানা সাফল্যের আলো। এই হারের পরও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রধান সমস্যা ছিল ধারাবাহিকতার অভাব। কিন্তু সম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধারা থেকে দারুণভাবে বেরিয়ে এসেছে বাংলার দামাল ছেলেরা। দুর্দান্ত ধারাবাহিক পারফরমেন্স উপহার দিয়ে চলেছেন মুশফিক, তামিম, সাকিব, মাশরাফিরা। চলতি বছরও সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত আছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নজরকাড়া সাফল্যের পর ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ। টাইগারদের এই সাফল্য গোটা ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের বড় শক্তি অর্থাৎ পরাশক্তি।

পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে বলেকয়ে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ওয়ানডে ও একটি টি২০ তে হেসেখেলে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। কোন ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি আজহার আলী ও শহিদ আফ্রিদির দল। টেস্ট সিরিজ হারলেও এখানেও উন্নতির ছাপ দেখা গেছে টাইগারদের পারফরমেন্সে। বাংলাদেশের এই সাফল্যকে এখন আর কেউ চমক হিসেবে দেখছে না। কেননা টাইগাররা গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক পারফরমেন্স প্রদর্শন করে চলেছে। গত মার্চে বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও দুর্দান্ত খেলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ইংল্যান্ডকে টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে লাল-সবুজের এই দেশ। আম্পায়ারদের কারণে ভারতের কাছে হেরে শেষ আট থেকে বিদায় নিতে হলেও টাইগারদের পারফরমেন্স ক্রিকেটবিশ্বে প্রশংসিত হয়।

বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন আরও বেড়েছে। সরকারী চাকরিজীবী টি ইসলাম তারিক বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে তাদেরকে হেলাফেলা করার দিন শেষ। এখন আচমকা কোন একটি ম্যাচ জিতে থেমে যায়না টাইগাররা। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছেন ক্রিকেটররা। যে কোন দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি আমরা। আশা করছি এ ধারা ধরে রেখে দেশের ক্রিকেট আরও এগিয়ে যাবে’।

কপিল দেবের নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে ভারত এবং অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয় ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় ঘটনগুলোর মধ্যে শীর্ষে। এ দু’টি বিশ্বকাপে ক্রিকেট দেখেছিল দু’টি নতুন পরাশক্তির উত্থান। ’৮৩-র বিশ্বকাপ জিতে ভারত ও ’৯৬-র বিশ্বকাপ জিতে শ্রীলঙ্কা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয়। ভারত, শ্রীলঙ্কার পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশও এখন ক্রিকেটে নতুন পরাশক্তি! বিশ্বকাপে মাশরাফির নেতৃত্বে সাকিব, তামিম, নাসিররা বহির্বিশ্বকে দেখিয়েছে বাঘের গর্জন। ভারত, শ্রীলঙ্কার মতো বিশ্বকাপ জয়ে না হোক ২০১২ সালের এশিয়া কাপে রানার্সআপ ও এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে ও ঘরের মাঠে সিরিজে পাকিস্তানকে বলেকয়ে নাস্তানাবুদ করে বাংলাদেশ জানান দিয়েছে, তারাও ক্রিকেটের পরাশক্তি। তিন বছর আগে এশিয়া কাপে বলতে গেলে পাল্টে যাওয়া বাংলাদেশকেই দেখে ক্রিকেট বিশ্ব। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হার দিয়ে মিশন শুরু হলেও ওই ম্যাচেই বাংলাদেশ জানান দেয় শুধু অংশগ্রহণই তাদের লক্ষ্য নয়। পরের দুই ম্যাচে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও রানার্সআপ শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ার সেরার আসরের ফাইনাল মঞ্চে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজের দেশ। ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারলেও বাংলাদেশের পারফরমেন্স সবাইকে বিমোহিত করে।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে ২০১৪ সালে। কিন্তু সাময়িক এই ব্যর্থতা কাটিয়ে আবারও চেনা ছন্দে ফিরেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে পরিবর্তনের এ হাওয়া লেগেছে ২০১১ সালের অক্টোবরে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ থেকে। এরপর ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়ে চলেছে টাইগাররা। এবারের বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা সাফল্য ছিল ২০০৭ বিশ্বকাপ। ক্যারিবীয় দীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হারিয়েছিল দুই পরাশক্তি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে। যোগ্যতা অর্জন করেছিল সুপার এইটে খেলার। ২০১৫ সালে টাইগাররা খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। যে কারণে বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে এখন বড় শক্তি হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট বিশ্ব। শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা, ভারতের শচীন টেন্ডুলকরসহ আরও অনেকেই নিঃশঙ্কোচে এমন বলেছেন। প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতেও বাংলাদেশকে নিয়ে চলছে প্রশংসাবান।

প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৫

২০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: